ঢাকা ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য ‘আশার আলো’ : সাইমন ড্যানজাক শৈলকুপায় বিয়ের দাবিতে যুবকের বাড়িতে গৃহবধূর অনশন শাহরাস্তিতে ধর্ষণের শিকার শিশু ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত আটক সংসদে প্রবেশে মাথা ঝোঁকানোতে আপত্তি জামায়াত এমপির বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান কারাগারে খেলা শেষ হওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ ইরানকে নিখোঁজের চার দিন পর সাগরতীরে মিলল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ ভবানীপুরে শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মমতা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে ইরানে নরক নেমে আসবে: ট্রাম্প বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে চান শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী

ড. কামাল একবারই পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়: হানিফ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। আজ শনিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসে হানিফ এই সমালোচনা করেন।

এর আগে গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে ড. কামাল হোসেন ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। ‘ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা বিনাভোটের সরকারের নেই’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য শৃঙ্খলাবিধির সমালোচনা করেন গণফোরাম সভাপতি।

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, ‘এই সরকারের কোনো রকম ক্ষমতা নেই সংবিধানে হাত দেওয়ার। সরকার চালানোর ব্যাপারেও তাদের সীমাবদ্ধতা যেটা আছে, সেটা স্মরণ রাখতে হবে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করার বিষয়ে তারা নিজেরাই বলেছিল, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমরা এটা করছি। দ্রুত আমরা নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন দেব। এরপর তারা সাড়ে তিন বছর চালিয়েছে, যা সরাসরি অসাংবিধানিক। সুতরাং, তাদের বৈধতার প্রশ্ন প্রথমেই এসে যায়। তাই প্রশ্ন ওঠে, সংবিধানে হাত দেওয়ার তারা কে? জনগণ তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি, তাহলে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে কে?’

আজ কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সামনে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরলে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া যদি লজ্জার হয়, তবে সবার আগে লজ্জা পাওয়া উচিত ড. কামাল হোসেনেরই।

হানিফ বলেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াটা অসাংবিধানিক নয়, এটা আমাদের সংবিধানেই আছে এবং এটা লজ্জারও নয়। লজ্জার যদি হয়ই, আমি অবাক হয়ে যাই, বলতেছেন কে? ড. কামাল হোসেন। আমি ওনাকেই জিজ্ঞেস করি আপনি জীবনে কখনো নির্বাচিত হইছেন জনগণের ভোটে? আপনি একবারই পার্লামেন্ট মেম্বার হিসেবে এসেছিলেন। তাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আপনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে উনি ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ প্রার্থী না হওয়ায় উনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হিসেবে পার্লামেন্টে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। একবারই জীবনে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে। যিনি জীবনে একবারই পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন তাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তিনিই কি না বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পার্লামেন্টে যাওয়া লজ্জাজনক। লজ্জাবোধটা আগে আপনার হওয়া উচিত ড. কামাল হোসেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুলের চেয়ারম্যান এম এইচ রাসেল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহীনুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ।

এ সময় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকসহ সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য ‘আশার আলো’ : সাইমন ড্যানজাক

ড. কামাল একবারই পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়: হানিফ

আপডেট সময় ০৮:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। আজ শনিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসে হানিফ এই সমালোচনা করেন।

এর আগে গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে ড. কামাল হোসেন ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। ‘ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা বিনাভোটের সরকারের নেই’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য শৃঙ্খলাবিধির সমালোচনা করেন গণফোরাম সভাপতি।

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, ‘এই সরকারের কোনো রকম ক্ষমতা নেই সংবিধানে হাত দেওয়ার। সরকার চালানোর ব্যাপারেও তাদের সীমাবদ্ধতা যেটা আছে, সেটা স্মরণ রাখতে হবে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করার বিষয়ে তারা নিজেরাই বলেছিল, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমরা এটা করছি। দ্রুত আমরা নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন দেব। এরপর তারা সাড়ে তিন বছর চালিয়েছে, যা সরাসরি অসাংবিধানিক। সুতরাং, তাদের বৈধতার প্রশ্ন প্রথমেই এসে যায়। তাই প্রশ্ন ওঠে, সংবিধানে হাত দেওয়ার তারা কে? জনগণ তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি, তাহলে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে কে?’

আজ কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সামনে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরলে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া যদি লজ্জার হয়, তবে সবার আগে লজ্জা পাওয়া উচিত ড. কামাল হোসেনেরই।

হানিফ বলেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াটা অসাংবিধানিক নয়, এটা আমাদের সংবিধানেই আছে এবং এটা লজ্জারও নয়। লজ্জার যদি হয়ই, আমি অবাক হয়ে যাই, বলতেছেন কে? ড. কামাল হোসেন। আমি ওনাকেই জিজ্ঞেস করি আপনি জীবনে কখনো নির্বাচিত হইছেন জনগণের ভোটে? আপনি একবারই পার্লামেন্ট মেম্বার হিসেবে এসেছিলেন। তাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আপনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে উনি ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ প্রার্থী না হওয়ায় উনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হিসেবে পার্লামেন্টে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। একবারই জীবনে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে। যিনি জীবনে একবারই পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন তাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তিনিই কি না বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পার্লামেন্টে যাওয়া লজ্জাজনক। লজ্জাবোধটা আগে আপনার হওয়া উচিত ড. কামাল হোসেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুলের চেয়ারম্যান এম এইচ রাসেল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহীনুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ।

এ সময় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকসহ সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।