ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

ড. কামাল একবারই পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়: হানিফ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। আজ শনিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসে হানিফ এই সমালোচনা করেন।

এর আগে গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে ড. কামাল হোসেন ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। ‘ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা বিনাভোটের সরকারের নেই’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য শৃঙ্খলাবিধির সমালোচনা করেন গণফোরাম সভাপতি।

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, ‘এই সরকারের কোনো রকম ক্ষমতা নেই সংবিধানে হাত দেওয়ার। সরকার চালানোর ব্যাপারেও তাদের সীমাবদ্ধতা যেটা আছে, সেটা স্মরণ রাখতে হবে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করার বিষয়ে তারা নিজেরাই বলেছিল, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমরা এটা করছি। দ্রুত আমরা নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন দেব। এরপর তারা সাড়ে তিন বছর চালিয়েছে, যা সরাসরি অসাংবিধানিক। সুতরাং, তাদের বৈধতার প্রশ্ন প্রথমেই এসে যায়। তাই প্রশ্ন ওঠে, সংবিধানে হাত দেওয়ার তারা কে? জনগণ তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি, তাহলে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে কে?’

আজ কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সামনে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরলে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া যদি লজ্জার হয়, তবে সবার আগে লজ্জা পাওয়া উচিত ড. কামাল হোসেনেরই।

হানিফ বলেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াটা অসাংবিধানিক নয়, এটা আমাদের সংবিধানেই আছে এবং এটা লজ্জারও নয়। লজ্জার যদি হয়ই, আমি অবাক হয়ে যাই, বলতেছেন কে? ড. কামাল হোসেন। আমি ওনাকেই জিজ্ঞেস করি আপনি জীবনে কখনো নির্বাচিত হইছেন জনগণের ভোটে? আপনি একবারই পার্লামেন্ট মেম্বার হিসেবে এসেছিলেন। তাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আপনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে উনি ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ প্রার্থী না হওয়ায় উনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হিসেবে পার্লামেন্টে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। একবারই জীবনে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে। যিনি জীবনে একবারই পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন তাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তিনিই কি না বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পার্লামেন্টে যাওয়া লজ্জাজনক। লজ্জাবোধটা আগে আপনার হওয়া উচিত ড. কামাল হোসেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুলের চেয়ারম্যান এম এইচ রাসেল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহীনুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ।

এ সময় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকসহ সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

ড. কামাল একবারই পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়: হানিফ

আপডেট সময় ০৮:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। আজ শনিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসে হানিফ এই সমালোচনা করেন।

এর আগে গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে ড. কামাল হোসেন ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। ‘ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা বিনাভোটের সরকারের নেই’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য শৃঙ্খলাবিধির সমালোচনা করেন গণফোরাম সভাপতি।

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, ‘এই সরকারের কোনো রকম ক্ষমতা নেই সংবিধানে হাত দেওয়ার। সরকার চালানোর ব্যাপারেও তাদের সীমাবদ্ধতা যেটা আছে, সেটা স্মরণ রাখতে হবে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করার বিষয়ে তারা নিজেরাই বলেছিল, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমরা এটা করছি। দ্রুত আমরা নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন দেব। এরপর তারা সাড়ে তিন বছর চালিয়েছে, যা সরাসরি অসাংবিধানিক। সুতরাং, তাদের বৈধতার প্রশ্ন প্রথমেই এসে যায়। তাই প্রশ্ন ওঠে, সংবিধানে হাত দেওয়ার তারা কে? জনগণ তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি, তাহলে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে কে?’

আজ কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সামনে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরলে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া যদি লজ্জার হয়, তবে সবার আগে লজ্জা পাওয়া উচিত ড. কামাল হোসেনেরই।

হানিফ বলেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াটা অসাংবিধানিক নয়, এটা আমাদের সংবিধানেই আছে এবং এটা লজ্জারও নয়। লজ্জার যদি হয়ই, আমি অবাক হয়ে যাই, বলতেছেন কে? ড. কামাল হোসেন। আমি ওনাকেই জিজ্ঞেস করি আপনি জীবনে কখনো নির্বাচিত হইছেন জনগণের ভোটে? আপনি একবারই পার্লামেন্ট মেম্বার হিসেবে এসেছিলেন। তাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আপনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে উনি ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ প্রার্থী না হওয়ায় উনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হিসেবে পার্লামেন্টে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। একবারই জীবনে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে। যিনি জীবনে একবারই পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন তাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তিনিই কি না বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পার্লামেন্টে যাওয়া লজ্জাজনক। লজ্জাবোধটা আগে আপনার হওয়া উচিত ড. কামাল হোসেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুলের চেয়ারম্যান এম এইচ রাসেল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহীনুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ।

এ সময় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকসহ সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।