ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

২০১৮ সালের নির্বাচনে আ.লীগ নয়, বিএনপিই থাকবে: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংগঠনকে শক্তিশালী করে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালকে নিজেদের করে নেয়ার আশায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের প্রত্যয়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতা বলেন, ‘আমরা আছি, লড়াই করেছি, লড়াই করে যাচ্ছি, লড়াই করব।, তবুও ২০১৮ সালে আমরা অবশ্যই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।’

দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হলে তাকে ছাড়া নির্বাচনে না যেতে বিএনপির নেতাদের কেউ কেউ যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তার সঙ্গেও একমত না ফখরুল। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলছেন নির্বাচনে দেশনেত্রী ছাড়া যাব না। আরে নির্বাচনে যাব, দেশনেত্রী যাবে, ওনারা থাকবেন না, কারণ ওনারা নির্বাচন করতে পারবেন না।’

শনিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে কৃষক দলের ৩৭ মত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন ফখরুল। নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে- এমন মন্তব্য করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সেই নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সকল দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। অবস্যই তা সু্ষ্ঠু অবাধ হতে হবে। নির্বাচন হবে এবং ইনশাল্লাহ সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে বেগম জিয়া আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন।’

‘আমাদের লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া’-এমন মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতায় গিয়ে আমাদের কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষদের সমস্যার সমাধান করব, দেশের উন্নয়ন করব। এই জন্য আমরা রাজনীতি করছি। আমরা এখানে শুধু মিটিং করে ডুগডুগি বাজাব এজন্য আসিনি। এই রাজনীতিরও বিজ্ঞান আছে। তা হলো, সংগঠন-আন্দোলন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া।’

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করার বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যেরও জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘বেহায়ার মতো বলছে যে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কোন সংবিধান? যে সংবিধান তোমরা প্রণয়ন করেছ, সংশোধন করেছ, যে পার্লামেন্টে করেছ, সে পার্লামেন্ট জনগণের পার্লামেন্ট নয়। সে পার্লামেন্টে ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী করেছ। সে পার্লামেন্টে তথাকথিত বিরোধী দলকে মন্ত্রী বানিয়েছ। যে স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছ, সে স্বৈরাচারকে পতাকা দিয়ে বিশেষ দূত বানিয়েছ। আবার অন্যদের বিরুদ্ধে বলা হয়!’

সরকারের লজ্জ-শরম কিছু নেই মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার সব দিক থেকে, সব দিক দিয়ে বাংলাদেশকে ফোঁকলা করে ফেলেছে।’ সরকার পরিকল্পিতভাবে পার্লামেন্ট ধ্বংস করেছে, পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণে করে অযোগ্য প্রশাসন তৈরি করেছে। যারা ঘুষ আর দুর্নীতি ছাড়া কিছু বুঝে না।

সরকার দেশে ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করলেও ফখরুল তা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে যা দিয়েছেন তা অন্য কেউ দিতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষকে প্রতারণার মধ্য দিয়ে, ছলনার মধ্য দিয়ে যে অবস্থায় নিয়ে এসেছেন সেটা রক্ষা করবেন কী করে সেটার কথা আগে বলেন।’

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের গন্ধ খুঁজতে ‘ডিএনএ টেস্ট’ করানোর অভিযোগও করেন ফখরুল। বলেন, ‘প্রশাসনের সমস্ত সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারিসহ সবাইকে যে হারে বেতন দেয়া হয় তাতে সরকারি চাকরি লোভনীয় হয়ে ওঠেছে। আমরা এর বিরুদ্ধে নই। কিন্তু আমাদের সাধারণ মানুষ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নূন্যতম মজুরি পাচ্ছে না।’

শিক্ষামন্ত্রী ‍নুরুল ইসলাম নাহিদের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এখ এমন শিক্ষা, যার শিক্ষা মন্ত্রী বলেন দুর্নীতি তো হবেই।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

২০১৮ সালের নির্বাচনে আ.লীগ নয়, বিএনপিই থাকবে: ফখরুল

আপডেট সময় ০৪:১৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংগঠনকে শক্তিশালী করে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালকে নিজেদের করে নেয়ার আশায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের প্রত্যয়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতা বলেন, ‘আমরা আছি, লড়াই করেছি, লড়াই করে যাচ্ছি, লড়াই করব।, তবুও ২০১৮ সালে আমরা অবশ্যই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।’

দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হলে তাকে ছাড়া নির্বাচনে না যেতে বিএনপির নেতাদের কেউ কেউ যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তার সঙ্গেও একমত না ফখরুল। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলছেন নির্বাচনে দেশনেত্রী ছাড়া যাব না। আরে নির্বাচনে যাব, দেশনেত্রী যাবে, ওনারা থাকবেন না, কারণ ওনারা নির্বাচন করতে পারবেন না।’

শনিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে কৃষক দলের ৩৭ মত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন ফখরুল। নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে- এমন মন্তব্য করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সেই নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সকল দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। অবস্যই তা সু্ষ্ঠু অবাধ হতে হবে। নির্বাচন হবে এবং ইনশাল্লাহ সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে বেগম জিয়া আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন।’

‘আমাদের লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া’-এমন মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতায় গিয়ে আমাদের কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষদের সমস্যার সমাধান করব, দেশের উন্নয়ন করব। এই জন্য আমরা রাজনীতি করছি। আমরা এখানে শুধু মিটিং করে ডুগডুগি বাজাব এজন্য আসিনি। এই রাজনীতিরও বিজ্ঞান আছে। তা হলো, সংগঠন-আন্দোলন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া।’

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করার বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যেরও জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘বেহায়ার মতো বলছে যে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কোন সংবিধান? যে সংবিধান তোমরা প্রণয়ন করেছ, সংশোধন করেছ, যে পার্লামেন্টে করেছ, সে পার্লামেন্ট জনগণের পার্লামেন্ট নয়। সে পার্লামেন্টে ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী করেছ। সে পার্লামেন্টে তথাকথিত বিরোধী দলকে মন্ত্রী বানিয়েছ। যে স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছ, সে স্বৈরাচারকে পতাকা দিয়ে বিশেষ দূত বানিয়েছ। আবার অন্যদের বিরুদ্ধে বলা হয়!’

সরকারের লজ্জ-শরম কিছু নেই মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার সব দিক থেকে, সব দিক দিয়ে বাংলাদেশকে ফোঁকলা করে ফেলেছে।’ সরকার পরিকল্পিতভাবে পার্লামেন্ট ধ্বংস করেছে, পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণে করে অযোগ্য প্রশাসন তৈরি করেছে। যারা ঘুষ আর দুর্নীতি ছাড়া কিছু বুঝে না।

সরকার দেশে ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করলেও ফখরুল তা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে যা দিয়েছেন তা অন্য কেউ দিতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষকে প্রতারণার মধ্য দিয়ে, ছলনার মধ্য দিয়ে যে অবস্থায় নিয়ে এসেছেন সেটা রক্ষা করবেন কী করে সেটার কথা আগে বলেন।’

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের গন্ধ খুঁজতে ‘ডিএনএ টেস্ট’ করানোর অভিযোগও করেন ফখরুল। বলেন, ‘প্রশাসনের সমস্ত সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারিসহ সবাইকে যে হারে বেতন দেয়া হয় তাতে সরকারি চাকরি লোভনীয় হয়ে ওঠেছে। আমরা এর বিরুদ্ধে নই। কিন্তু আমাদের সাধারণ মানুষ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নূন্যতম মজুরি পাচ্ছে না।’

শিক্ষামন্ত্রী ‍নুরুল ইসলাম নাহিদের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এখ এমন শিক্ষা, যার শিক্ষা মন্ত্রী বলেন দুর্নীতি তো হবেই।’