ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেরিন ড্রাইভে প্রাইভেটকারে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ইরানযুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প: কমলা হ্যারিস ১০৭ বছরের পুরোনো মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর চাকরি পুনর্বহাল চেয়ে মতিঝিলে ৬ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মীদের অবস্থান ‘যেকোনো মুহূর্তে’ আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে: ইরান বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও তুরস্ক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্য প্রতিমন্ত্রী আগে ‘সমঝোতার রূপরেখা’ চূড়ান্ত, পরে আলোচনা: ইরান হাম ও জ্বালানি নিয়ে লুকোচুরি করছে সরকার: জামায়াত আমির সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের যুবক নিহত

খালাকে কনে সাজাতে গিয়ে ইউপি সদস্য শ্রীঘরে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে বাল্যবিয়ের শিকার এক কিশোরীর খালাকে কনে সাজিয়ে উপস্থাপন করার অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্যকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে ওই আদালত। এছাড়া এ কাজে সহযোগিতা করায় আরও দুইজনকে অর্থদণ্ড করা হয়। রবিবার রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা করিম এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার উত্তর দাড়িয়ারপাড় গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জমশের আলী ওরফে ফালুকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং জমশের আলীর মেয়ে নিপা ও শাহানা বেগমকে ৫শ’ টাকা করে জরিমানা করা হয়। সোমবার দুপুরে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জমশেরকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রবিবার রাতে উপজেলার উত্তর দাড়িয়ারপাড় গ্রামে ২০১৭ সালের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী এক কিশোরীকে (১৩) বাল্যবিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এমন সংবাদে ইউএনও ফারহানা করিম রাত নয়টার দিকে ওই গ্রামের লাল ফকিরের বাড়িতে যান।

এ সময় বাড়ির লোকজন ওই কিশোরীর বাল্যবিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন ও কিশোরীকে লুকিয়ে রেখে সাবেক ইউপি সদস্য জমশের আলীর সহযোগিতায় কিশোরীর খালা নিপাকে কনে হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং নিজেকে (জমশের আলী) কনের বাবা ও শাহানা বেগমকে আদালতের সামনে নানি হিসেবে পরিচয় দেন। ইউএনও ফারহানা করিমের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তার জেরার মুখে অভিযুক্তরা প্রকৃত পরিচয় স্বীকার করে। পরে ইউএনওর নির্দেশে পুলিশ তাদের আটক করে তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

পরে ওই রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও ফারহানা করিম জমশের আলীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নিপা ও শাহানা বেগমকে ৫শ টাকা করে জরিমানা করেন। এ সময় ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে ওই কিশোরীর মা শাহানা বেগমের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে পুলিশ ও ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম আদালতকে সহযোগিতা করেন। অন্যদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ইউএনও ফারহানা করিম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

খালাকে কনে সাজাতে গিয়ে ইউপি সদস্য শ্রীঘরে

আপডেট সময় ০১:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে বাল্যবিয়ের শিকার এক কিশোরীর খালাকে কনে সাজিয়ে উপস্থাপন করার অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্যকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে ওই আদালত। এছাড়া এ কাজে সহযোগিতা করায় আরও দুইজনকে অর্থদণ্ড করা হয়। রবিবার রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা করিম এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার উত্তর দাড়িয়ারপাড় গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জমশের আলী ওরফে ফালুকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং জমশের আলীর মেয়ে নিপা ও শাহানা বেগমকে ৫শ’ টাকা করে জরিমানা করা হয়। সোমবার দুপুরে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জমশেরকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রবিবার রাতে উপজেলার উত্তর দাড়িয়ারপাড় গ্রামে ২০১৭ সালের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী এক কিশোরীকে (১৩) বাল্যবিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এমন সংবাদে ইউএনও ফারহানা করিম রাত নয়টার দিকে ওই গ্রামের লাল ফকিরের বাড়িতে যান।

এ সময় বাড়ির লোকজন ওই কিশোরীর বাল্যবিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন ও কিশোরীকে লুকিয়ে রেখে সাবেক ইউপি সদস্য জমশের আলীর সহযোগিতায় কিশোরীর খালা নিপাকে কনে হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং নিজেকে (জমশের আলী) কনের বাবা ও শাহানা বেগমকে আদালতের সামনে নানি হিসেবে পরিচয় দেন। ইউএনও ফারহানা করিমের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তার জেরার মুখে অভিযুক্তরা প্রকৃত পরিচয় স্বীকার করে। পরে ইউএনওর নির্দেশে পুলিশ তাদের আটক করে তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

পরে ওই রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও ফারহানা করিম জমশের আলীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নিপা ও শাহানা বেগমকে ৫শ টাকা করে জরিমানা করেন। এ সময় ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে ওই কিশোরীর মা শাহানা বেগমের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে পুলিশ ও ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম আদালতকে সহযোগিতা করেন। অন্যদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ইউএনও ফারহানা করিম।