ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

এএসপি মিজানকে শ্বাসরোধ করেই হত্যা করা হয়েছিল: মনিরুল ইসলাম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসিইউ) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিজানুর রহমানকে ছিনতাইকারীরা শ্বাসরোধ করেই হত্যা করেছে। রোববার ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

মনিরুল ইসলাম বলেন,শনিবার রাতে গাজীপুর জেলার টঙ্গি এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগের একটি দল অভিযান চালিয়ে এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদার হত্যায় জড়িত মো. শাহ আলম ওরফে বুড্ডা নামে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি ও তদন্তে প্রাপ্ত আগের তথ্যে হত্যার প্রকৃত ঘটনা মিলে যায়।

গ্রেফতারকৃত শাহ আলমের উদ্ধৃতি দিয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, এএসপি মিজানুর রহমানকে গাড়িতে উঠানোর পরই চালক জাকির খুব জোরে গাড়িতে গান বাজিয়ে, লাইট বন্ধ করে দ্রুত গাড়ী চালিয়ে জসীম উদ্দিন রোড হয়ে প্রথমে হাউজ বিল্ডিং, পরে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের দিকে যায়। তখন গাড়ীর পিছনের সীটে বসা মিন্টু এএসপি মিজানুর রহমানের মাথায় লাঠি দিয়ে জোরে আঘাত করে। পরে তাদের মধ্যে অপর একজন এএসপি মিজানকে প্রাইভেটকারে থাকা জুট কাপড়ের টুকরা দিয়ে গলায় প্যাঁচ দিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা বিরুলিয়া ব্রিজের আগেই রাস্তার পাশে এএসপি মিজানকে মৃত অবস্থায় ফেলে রেখে তারা চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, এরা সাধারণত একজন যাত্রীকে টার্গেট করে গাড়িতে উঠিয়ে তাকে দুই পাশ দিয়ে চেপে ধরে কোন কিছু দিয়ে হত্যা করে। সাধারণত তারা পুলিশ ও সাংবাদিক পেলে তাদের ছেড়ে দিলে বিপদ হতে পারে ভেবে হত্যা করে। এএসপি মিজানকে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এছাড়া শাহআলমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে ওই গাড়িতে ছিনতাইকারী চক্রের চারজন ছিলো। বাকি তিনজনকে গ্রেফতার ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধারে পুলিশের অব্যাহত চেষ্টা রয়েছে।এসময় গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. আব্দুল বাতেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিডিয়া মো: মাসুদুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: ইউসুফ আলী উপস্থিত ছিলেন।

গত ২১ জুন রাজধানীর রূপনগর থানার মিরপুর বেড়িবাঁধের বোটক্লাব এলাকার রাস্তার পাশ থেকে এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদারের (৫০) লাশ উদ্ধার করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা একটি ঝোপে তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ডিএমপির রূপনগর ও সাভার থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। পরে ওইদিন রাতে এএসপি মিজানুর রহমান হত্যার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছোট ভাই মাসুম তালুকদার। রুপনগর থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর-১৯। ঢাকা মহানগর পুলিশের (পশ্চিম) বিভাগ মামলাটি তদন্ত করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এএসপি মিজানকে শ্বাসরোধ করেই হত্যা করা হয়েছিল: মনিরুল ইসলাম

আপডেট সময় ১২:২৫:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসিইউ) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিজানুর রহমানকে ছিনতাইকারীরা শ্বাসরোধ করেই হত্যা করেছে। রোববার ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

মনিরুল ইসলাম বলেন,শনিবার রাতে গাজীপুর জেলার টঙ্গি এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগের একটি দল অভিযান চালিয়ে এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদার হত্যায় জড়িত মো. শাহ আলম ওরফে বুড্ডা নামে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি ও তদন্তে প্রাপ্ত আগের তথ্যে হত্যার প্রকৃত ঘটনা মিলে যায়।

গ্রেফতারকৃত শাহ আলমের উদ্ধৃতি দিয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, এএসপি মিজানুর রহমানকে গাড়িতে উঠানোর পরই চালক জাকির খুব জোরে গাড়িতে গান বাজিয়ে, লাইট বন্ধ করে দ্রুত গাড়ী চালিয়ে জসীম উদ্দিন রোড হয়ে প্রথমে হাউজ বিল্ডিং, পরে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের দিকে যায়। তখন গাড়ীর পিছনের সীটে বসা মিন্টু এএসপি মিজানুর রহমানের মাথায় লাঠি দিয়ে জোরে আঘাত করে। পরে তাদের মধ্যে অপর একজন এএসপি মিজানকে প্রাইভেটকারে থাকা জুট কাপড়ের টুকরা দিয়ে গলায় প্যাঁচ দিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা বিরুলিয়া ব্রিজের আগেই রাস্তার পাশে এএসপি মিজানকে মৃত অবস্থায় ফেলে রেখে তারা চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, এরা সাধারণত একজন যাত্রীকে টার্গেট করে গাড়িতে উঠিয়ে তাকে দুই পাশ দিয়ে চেপে ধরে কোন কিছু দিয়ে হত্যা করে। সাধারণত তারা পুলিশ ও সাংবাদিক পেলে তাদের ছেড়ে দিলে বিপদ হতে পারে ভেবে হত্যা করে। এএসপি মিজানকে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এছাড়া শাহআলমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে ওই গাড়িতে ছিনতাইকারী চক্রের চারজন ছিলো। বাকি তিনজনকে গ্রেফতার ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধারে পুলিশের অব্যাহত চেষ্টা রয়েছে।এসময় গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. আব্দুল বাতেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিডিয়া মো: মাসুদুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: ইউসুফ আলী উপস্থিত ছিলেন।

গত ২১ জুন রাজধানীর রূপনগর থানার মিরপুর বেড়িবাঁধের বোটক্লাব এলাকার রাস্তার পাশ থেকে এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদারের (৫০) লাশ উদ্ধার করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা একটি ঝোপে তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ডিএমপির রূপনগর ও সাভার থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। পরে ওইদিন রাতে এএসপি মিজানুর রহমান হত্যার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছোট ভাই মাসুম তালুকদার। রুপনগর থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর-১৯। ঢাকা মহানগর পুলিশের (পশ্চিম) বিভাগ মামলাটি তদন্ত করছে।