ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

একাত্তরে পাগলের অভিনয় করে বেঁচে গিয়েছিলেন মহিউদ্দিন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একাত্তরে পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন প্রয়াত রাজনীতিবিদ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’তে একথা উল্লেখ করা হয়েছে। বইয়ে আরও উল্লেখ আছে, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে আইএসআইয়ের (পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা) চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমির সদর দফতরের কাছে আটক করা হয় তাকে। এরপর চার মাস তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। পরে ‘পাগলের’ অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পান। ছাড়া পেয়েই পালিয়ে যান ভারতে। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধে অংশ নেন।

ছাত্র অবস্থায় রাজনীতি ও বিপ্লবে জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের এই নেতা। ১৯৬৮ ও ‘৬৯ সালে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মহিউদ্দিন একাত্তরে গঠন করেন ‘জয় বাংলা’ বাহিনী। বঙ্গবন্ধুর ডাকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন বহুবার। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে আইএসআই-এর চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমি সদর দফতরের কাছে আটক হন। এরপর চার মাস নির্যাতনের শিকার হন। পরে পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যান ভারতে। সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ শেষে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন সম্মুখ সমরে। যুদ্ধ করেন ভারত-বাংলা যৌথবাহিনীর মাউন্টেন ডিভিশনের অধীনে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘একাত্তরে পাকিস্তানি সেনারা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ধরে নিয়ে কারাগারে নির্মম নির্যাতন করে। পরে ছাড়া পেয়ে তিনি যখন ভারতে আগরতলায় যান তখন তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। নির্যাতনের কারণে তার শারীরিক-মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। এরপর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল ওভানের নেতৃত্বে মাউন্টেন ডিভিশনের একটি টিমের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। ‘৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ফের পালিয়ে যান ভারতে। ওই সময় সেখানে একটি হোটেলে বাবুর্চির কাজও করেছেন তিনি। দেশ ও দলের জন্য তার আত্মত্যাগ খুব বেশি ছিল। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

একাত্তরে পাগলের অভিনয় করে বেঁচে গিয়েছিলেন মহিউদ্দিন

আপডেট সময় ০৯:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একাত্তরে পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন প্রয়াত রাজনীতিবিদ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’তে একথা উল্লেখ করা হয়েছে। বইয়ে আরও উল্লেখ আছে, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে আইএসআইয়ের (পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা) চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমির সদর দফতরের কাছে আটক করা হয় তাকে। এরপর চার মাস তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। পরে ‘পাগলের’ অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পান। ছাড়া পেয়েই পালিয়ে যান ভারতে। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধে অংশ নেন।

ছাত্র অবস্থায় রাজনীতি ও বিপ্লবে জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের এই নেতা। ১৯৬৮ ও ‘৬৯ সালে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মহিউদ্দিন একাত্তরে গঠন করেন ‘জয় বাংলা’ বাহিনী। বঙ্গবন্ধুর ডাকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন বহুবার। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে আইএসআই-এর চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমি সদর দফতরের কাছে আটক হন। এরপর চার মাস নির্যাতনের শিকার হন। পরে পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যান ভারতে। সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ শেষে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন সম্মুখ সমরে। যুদ্ধ করেন ভারত-বাংলা যৌথবাহিনীর মাউন্টেন ডিভিশনের অধীনে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘একাত্তরে পাকিস্তানি সেনারা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ধরে নিয়ে কারাগারে নির্মম নির্যাতন করে। পরে ছাড়া পেয়ে তিনি যখন ভারতে আগরতলায় যান তখন তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। নির্যাতনের কারণে তার শারীরিক-মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। এরপর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল ওভানের নেতৃত্বে মাউন্টেন ডিভিশনের একটি টিমের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। ‘৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ফের পালিয়ে যান ভারতে। ওই সময় সেখানে একটি হোটেলে বাবুর্চির কাজও করেছেন তিনি। দেশ ও দলের জন্য তার আত্মত্যাগ খুব বেশি ছিল। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।’