ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

জামায়াত নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া চলছে: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তার আশা এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বৃহস্প‌তিবার মিরপু‌রে শহীদ বু‌দ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আওয়ামী লীগের পক্ষ থে‌কে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াতের পরিকল্পনায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল। যারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছে তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালিদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ভুলণ্ঠিত করতে ভারী অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে সহযোগিতা করেছিল জামায়াত। এ দেশের মানুষদের দমনে তারা গড়ে তুলেছিল রাজাকার বাহিনী। সে সময়ের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাঙলি নিধনের নানা পরিকল্পনাও তুলে ধরে দলটি।

কেবল জামায়াত নয়, দলটির সে সময়ের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ সে সময় গড়ে তুলে আলবদর নামে এক খুনি বাহিনী। এই বাহিনীই জড়িত ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যায়। স্বাধীনতার চার বছর পর আলবদর বাহিনীর তিন প্রধান নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এবং মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে বাঙালি নিধনে সহায়তা করায় মুক্তিযুদ্ধের পর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমলে তারা আবার রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পায়। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর আবারও জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি জোরাল হয়েছে।

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। ফলে তারা ভোটে অংশ নেয়ার অধিকার হারিয়েছে। পাশাপাশি জামায়াত নিষিদ্ধে একটি মামলা চলছে উচ্চ আদালতে। গত ৭ ডিসেম্বর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন গণমাধ্যম কর্মীরা। সেদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে।

তবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জামায়াত নিষিদ্ধে সব ধরনের চেষ্টা নিচ্ছি। জামায়াত নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ ‘তবে সবাইকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে। কারণ জামায়াতে ইসলামীদের বিশ্বাস করা যায় না। এদের পূর্বসুরীরাই তো বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

এর আগে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

জামায়াত নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া চলছে: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তার আশা এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বৃহস্প‌তিবার মিরপু‌রে শহীদ বু‌দ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আওয়ামী লীগের পক্ষ থে‌কে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াতের পরিকল্পনায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল। যারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছে তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালিদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ভুলণ্ঠিত করতে ভারী অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে সহযোগিতা করেছিল জামায়াত। এ দেশের মানুষদের দমনে তারা গড়ে তুলেছিল রাজাকার বাহিনী। সে সময়ের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাঙলি নিধনের নানা পরিকল্পনাও তুলে ধরে দলটি।

কেবল জামায়াত নয়, দলটির সে সময়ের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ সে সময় গড়ে তুলে আলবদর নামে এক খুনি বাহিনী। এই বাহিনীই জড়িত ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যায়। স্বাধীনতার চার বছর পর আলবদর বাহিনীর তিন প্রধান নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এবং মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে বাঙালি নিধনে সহায়তা করায় মুক্তিযুদ্ধের পর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমলে তারা আবার রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পায়। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর আবারও জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি জোরাল হয়েছে।

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। ফলে তারা ভোটে অংশ নেয়ার অধিকার হারিয়েছে। পাশাপাশি জামায়াত নিষিদ্ধে একটি মামলা চলছে উচ্চ আদালতে। গত ৭ ডিসেম্বর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন গণমাধ্যম কর্মীরা। সেদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে।

তবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জামায়াত নিষিদ্ধে সব ধরনের চেষ্টা নিচ্ছি। জামায়াত নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ ‘তবে সবাইকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে। কারণ জামায়াতে ইসলামীদের বিশ্বাস করা যায় না। এদের পূর্বসুরীরাই তো বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

এর আগে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।