ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

জামায়াত নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া চলছে: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তার আশা এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বৃহস্প‌তিবার মিরপু‌রে শহীদ বু‌দ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আওয়ামী লীগের পক্ষ থে‌কে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াতের পরিকল্পনায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল। যারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছে তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালিদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ভুলণ্ঠিত করতে ভারী অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে সহযোগিতা করেছিল জামায়াত। এ দেশের মানুষদের দমনে তারা গড়ে তুলেছিল রাজাকার বাহিনী। সে সময়ের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাঙলি নিধনের নানা পরিকল্পনাও তুলে ধরে দলটি।

কেবল জামায়াত নয়, দলটির সে সময়ের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ সে সময় গড়ে তুলে আলবদর নামে এক খুনি বাহিনী। এই বাহিনীই জড়িত ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যায়। স্বাধীনতার চার বছর পর আলবদর বাহিনীর তিন প্রধান নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এবং মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে বাঙালি নিধনে সহায়তা করায় মুক্তিযুদ্ধের পর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমলে তারা আবার রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পায়। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর আবারও জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি জোরাল হয়েছে।

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। ফলে তারা ভোটে অংশ নেয়ার অধিকার হারিয়েছে। পাশাপাশি জামায়াত নিষিদ্ধে একটি মামলা চলছে উচ্চ আদালতে। গত ৭ ডিসেম্বর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন গণমাধ্যম কর্মীরা। সেদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে।

তবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জামায়াত নিষিদ্ধে সব ধরনের চেষ্টা নিচ্ছি। জামায়াত নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ ‘তবে সবাইকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে। কারণ জামায়াতে ইসলামীদের বিশ্বাস করা যায় না। এদের পূর্বসুরীরাই তো বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

এর আগে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জামায়াত নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া চলছে: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তার আশা এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বৃহস্প‌তিবার মিরপু‌রে শহীদ বু‌দ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আওয়ামী লীগের পক্ষ থে‌কে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াতের পরিকল্পনায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল। যারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছে তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালিদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ভুলণ্ঠিত করতে ভারী অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে সহযোগিতা করেছিল জামায়াত। এ দেশের মানুষদের দমনে তারা গড়ে তুলেছিল রাজাকার বাহিনী। সে সময়ের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাঙলি নিধনের নানা পরিকল্পনাও তুলে ধরে দলটি।

কেবল জামায়াত নয়, দলটির সে সময়ের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ সে সময় গড়ে তুলে আলবদর নামে এক খুনি বাহিনী। এই বাহিনীই জড়িত ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যায়। স্বাধীনতার চার বছর পর আলবদর বাহিনীর তিন প্রধান নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এবং মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে বাঙালি নিধনে সহায়তা করায় মুক্তিযুদ্ধের পর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমলে তারা আবার রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পায়। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর আবারও জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি জোরাল হয়েছে।

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। ফলে তারা ভোটে অংশ নেয়ার অধিকার হারিয়েছে। পাশাপাশি জামায়াত নিষিদ্ধে একটি মামলা চলছে উচ্চ আদালতে। গত ৭ ডিসেম্বর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন গণমাধ্যম কর্মীরা। সেদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে।

তবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জামায়াত নিষিদ্ধে সব ধরনের চেষ্টা নিচ্ছি। জামায়াত নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ ‘তবে সবাইকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে। কারণ জামায়াতে ইসলামীদের বিশ্বাস করা যায় না। এদের পূর্বসুরীরাই তো বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

এর আগে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।