ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যে সরকারই আসুক, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার এই নির্বাচন দিকনির্দেশনা দেবে আগামীতে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে: তারেক রহমান রাজধানীর উত্তরায় পার্কিং করা বাসে আগুন জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহ-সভাপতি বাংলাদেশ গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ বাড়ছে, এমন দাবি ভিত্তিহীন: প্রেস উইং মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসী আটক ইসলামের নামে তারা মিথ্যাচার করছেন: চরমোনাই পীর নির্বাচনের পরিবেশ বিগত সরকারের আমলের চেয়ে ভালো: শফিকুল আলম সহিংসতার রাজনীতি বন্ধে তারেক রহমানকে দায়িত্ব নিতে হবে: আখতার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সারাদেশে একটি দল জনগণকে প্রতারণা করছে: নাহিদ ইসলাম

সৌদিতে খালেদার সম্পদ নিয়ে তথ্যপ্রমাণ আছে: কাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে খালেদা জিয়া ও তার পরিবার ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে-এই অভিযোগে অটল আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলেছেন। আর এ বিষয়ে তার কাছেও তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।

সৌদি আরবে খালেদা পরিবারের সম্পদের বিষয়ে অভিযোগ তোলায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিএনপির আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারির মধ্যেই এই কথা বললেন ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। এ সময় তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে খালেদা জিয়ার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

গত কয়েক দিন ধরেই দু্নীতির অভিযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছেন। গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে খালেদ জিয়ার বিরুদ্ধে সৌদি আরবে অর্থপাচারের অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো এক ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে ১২ দেশে খালেদার পরিবার ১২ বিলিয়ন ডলারের মালিক। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না হওয়ায় গণমাধ্যমকে একহাত নিয়েছেনও প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্যকে ডাকা মিথ্যা আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার না হলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে তার দল। পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কানাডিয়ান টেলিভিশনের খবরের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অকপটে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।’

সরকারের কাছে সব অভিযোগের তথ্য প্রমাণ রয়েছে-এমন দাবিও করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘শেখ হাসিনা যা বলেছেন জেনেশুনে বলেছেন। তথ্য প্রমাণ আছে বলেই বলেছেন।’

মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে যে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেছেন সেটাই বিএনপির চরিত্রের আসল বহিঃপ্রকাশ। মির্জা ফখরুলের ওই বক্তব্য কখনও কখনও মনে হয় শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা, কখনও মনে হয় সত্যকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, কখনও মনে হয় অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার চেষ্টা।’

কাদের বলেন, ‘সৌদি আরবের বর্তমান প্রিন্স দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেছেন। সেখানে ১১ জন প্রিন্স অভিযুক্ত ও কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, শামীম ইস্কান্দার ব্যবসায়িক কাজে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। সৌদি আরব, কাতারসহ ১২টি দেশে তারা বিনিয়োগ করেছেন। এই খবরে বিএনপির কেন গাত্রদাহ?’।

দুদকে গিয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতেও বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘দুর্নীতি করলে আদালতে আসতে হবে, বিচারের আওতায় আসতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সৌদি আরবে শপিং মল ও কাতারে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকো ও খালেদার ভাই শামীম ইস্কান্দার ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন। এই খবর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এসেছে। বাংলাদেশি পত্রপত্রিকাও এই খবর প্রচার করেছে।’

বিএনপির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার হুঁশিয়ারি

মির্জা ফখরুলের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধেও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। এ ক্ষেত্রে তিনি পদ্মাসেতু প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পদ্মাসেতুকে দুর্নীত চেষ্টার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়েছে। এক পর্যায়ে দাতা সংস্থাটি এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায় আর সরকারকে এ জন্য দেশ-বিদেশে বেশ বেকায়দায় পড়তে হয়।

তবে সরকার শুরু থেকেই এই প্রকল্পে দুর্নীতি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজ অর্থে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। আর কানাডা আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলার রায় এসেছে যাতে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগকে ‘গালগপ্প’ বলা হয়েছে। আর মেট্রোরেল প্রকল্প নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো রকম অভিযোগ উঠেনি।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতু ও মেট্রো রেল প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ মির্জা ফখরুল করেছেন তার প্রমাণ দিতে হবে। আর প্রমাণ দিতে না পারলে বিএনপির বিরুদ্ধেই মামলা করা হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যে সরকারই আসুক, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

সৌদিতে খালেদার সম্পদ নিয়ে তথ্যপ্রমাণ আছে: কাদের

আপডেট সময় ১২:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে খালেদা জিয়া ও তার পরিবার ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে-এই অভিযোগে অটল আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলেছেন। আর এ বিষয়ে তার কাছেও তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।

সৌদি আরবে খালেদা পরিবারের সম্পদের বিষয়ে অভিযোগ তোলায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিএনপির আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারির মধ্যেই এই কথা বললেন ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। এ সময় তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে খালেদা জিয়ার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

গত কয়েক দিন ধরেই দু্নীতির অভিযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছেন। গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে খালেদ জিয়ার বিরুদ্ধে সৌদি আরবে অর্থপাচারের অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো এক ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে ১২ দেশে খালেদার পরিবার ১২ বিলিয়ন ডলারের মালিক। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না হওয়ায় গণমাধ্যমকে একহাত নিয়েছেনও প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্যকে ডাকা মিথ্যা আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার না হলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে তার দল। পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কানাডিয়ান টেলিভিশনের খবরের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অকপটে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।’

সরকারের কাছে সব অভিযোগের তথ্য প্রমাণ রয়েছে-এমন দাবিও করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘শেখ হাসিনা যা বলেছেন জেনেশুনে বলেছেন। তথ্য প্রমাণ আছে বলেই বলেছেন।’

মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে যে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেছেন সেটাই বিএনপির চরিত্রের আসল বহিঃপ্রকাশ। মির্জা ফখরুলের ওই বক্তব্য কখনও কখনও মনে হয় শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা, কখনও মনে হয় সত্যকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, কখনও মনে হয় অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার চেষ্টা।’

কাদের বলেন, ‘সৌদি আরবের বর্তমান প্রিন্স দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেছেন। সেখানে ১১ জন প্রিন্স অভিযুক্ত ও কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, শামীম ইস্কান্দার ব্যবসায়িক কাজে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। সৌদি আরব, কাতারসহ ১২টি দেশে তারা বিনিয়োগ করেছেন। এই খবরে বিএনপির কেন গাত্রদাহ?’।

দুদকে গিয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতেও বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘দুর্নীতি করলে আদালতে আসতে হবে, বিচারের আওতায় আসতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সৌদি আরবে শপিং মল ও কাতারে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকো ও খালেদার ভাই শামীম ইস্কান্দার ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন। এই খবর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এসেছে। বাংলাদেশি পত্রপত্রিকাও এই খবর প্রচার করেছে।’

বিএনপির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার হুঁশিয়ারি

মির্জা ফখরুলের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধেও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। এ ক্ষেত্রে তিনি পদ্মাসেতু প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পদ্মাসেতুকে দুর্নীত চেষ্টার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়েছে। এক পর্যায়ে দাতা সংস্থাটি এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায় আর সরকারকে এ জন্য দেশ-বিদেশে বেশ বেকায়দায় পড়তে হয়।

তবে সরকার শুরু থেকেই এই প্রকল্পে দুর্নীতি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজ অর্থে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। আর কানাডা আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলার রায় এসেছে যাতে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগকে ‘গালগপ্প’ বলা হয়েছে। আর মেট্রোরেল প্রকল্প নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো রকম অভিযোগ উঠেনি।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতু ও মেট্রো রেল প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ মির্জা ফখরুল করেছেন তার প্রমাণ দিতে হবে। আর প্রমাণ দিতে না পারলে বিএনপির বিরুদ্ধেই মামলা করা হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।