ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

রোহিঙ্গা ফেরতের চুক্তি একটি স্টান্টবাজি: এইচআরডব্লিউ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে সেটাকে ‘স্টান্ট’ বলে অভিহিত করেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শীর্ষ এক কর্মকর্তা।

নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটির শরণার্থী অধিকার বিষয়ক পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভস্ম হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোতে বার্মা এখন তাদের উন্মুক্ত বাহুডোরে ফেরত নেবে এমন ধারণা হাস্যকর।’

তিনি আরো বলেন, ‘পাবলিক রিলেশনের একটি স্টান্টবাজিতে সমর্থন না দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এটা স্পষ্ট করা উচিত যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষন ছাড়া কোন প্রত্যাবাসন হবে না। ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের ক্যাম্পে রাখার ধারণার ইতি টানতে হবে। এছাড়া, জমিজমা ফেরত দেয়া এবং ধংস করা বাড়িঘর, গ্রাম পূনর্গঠনসহ আরো অনেক শর্ত দিতে হবে।’

বিল ফ্রেলিক বলেন, ‘এগুলো করা হলেও, বার্মিজ আর্মি যদি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কয়েক দশকের নির্যাতন ও বৈষম্যের চর্চাকে পাল্টানোর বিরাট কাজটা শুরু না করে, তাহলে স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে বহু রোহিঙ্গার মধ্যে পর্যাপ্ত আস্থা তৈরি করা কঠিন হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম ব্রিসবেন টাইমস ও সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বিল ফ্রেলিকের এ মন্তব্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দু’মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানো শুরু করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ন্যাপিড’তে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার টার্নবুল সরকার প্রথববারের মতো রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হওয়া নৃশংসতাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনকে জাতিগত নিধনের সমতুল্য বিভৎস অপরাধ আখ্যা দেয়ার একদিন পর অস্ট্রেলিয়ার

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ফেয়ারফ্যাক্স মিডিয়াকে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বার বার বলে আসছে, গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে দোষীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আর আমরা জাতিগত নিধনযজ্ঞের খবর নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

রিপোর্টে আরো বলা হয়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনীল সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বা সরকারের নিন্দা জানানো এড়িয়ে গেছেন।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সাম্প্রতিক চুক্তিটি হয়েছে ৯০ এর দশকে দু’দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির ভিত্তিতে যেখানে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রমাণে সক্ষম ব্যক্তিদের ফেরত নেয়ার কথা বলা আছে। কিন্তু রাখাইনের ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা দেশটিতে নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যাত। বছরের পর বছর ধরে তারা অন্যান্য মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। যারা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন তাদের অনেকেরই কোন পরিচয়পত্রই নেই।

সহায়তা ও ত্রাণ সংস্থাগুলো আহ্বান জানিয়ে এসেছে যে কোন ধরণের প্রত্যাবাস চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভূক্ত থাকুক। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় মিয়ানমার বলেছে, তারা এমনটা চায় না।

রিপোর্টের শেষে বল হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি প্রত্যাবাসন চুক্তির জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছেন। ঢাকায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিয়ানমারকে অবশ্যই শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমিতে তাদের ফেরত নিতে হবে।’

আর মিয়ানমারের দাবি রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনুপ্রবেশকারী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

রোহিঙ্গা ফেরতের চুক্তি একটি স্টান্টবাজি: এইচআরডব্লিউ

আপডেট সময় ০৯:৪৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে সেটাকে ‘স্টান্ট’ বলে অভিহিত করেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শীর্ষ এক কর্মকর্তা।

নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটির শরণার্থী অধিকার বিষয়ক পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভস্ম হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোতে বার্মা এখন তাদের উন্মুক্ত বাহুডোরে ফেরত নেবে এমন ধারণা হাস্যকর।’

তিনি আরো বলেন, ‘পাবলিক রিলেশনের একটি স্টান্টবাজিতে সমর্থন না দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এটা স্পষ্ট করা উচিত যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষন ছাড়া কোন প্রত্যাবাসন হবে না। ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের ক্যাম্পে রাখার ধারণার ইতি টানতে হবে। এছাড়া, জমিজমা ফেরত দেয়া এবং ধংস করা বাড়িঘর, গ্রাম পূনর্গঠনসহ আরো অনেক শর্ত দিতে হবে।’

বিল ফ্রেলিক বলেন, ‘এগুলো করা হলেও, বার্মিজ আর্মি যদি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কয়েক দশকের নির্যাতন ও বৈষম্যের চর্চাকে পাল্টানোর বিরাট কাজটা শুরু না করে, তাহলে স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে বহু রোহিঙ্গার মধ্যে পর্যাপ্ত আস্থা তৈরি করা কঠিন হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম ব্রিসবেন টাইমস ও সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বিল ফ্রেলিকের এ মন্তব্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দু’মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানো শুরু করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ন্যাপিড’তে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার টার্নবুল সরকার প্রথববারের মতো রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হওয়া নৃশংসতাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনকে জাতিগত নিধনের সমতুল্য বিভৎস অপরাধ আখ্যা দেয়ার একদিন পর অস্ট্রেলিয়ার

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ফেয়ারফ্যাক্স মিডিয়াকে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বার বার বলে আসছে, গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে দোষীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আর আমরা জাতিগত নিধনযজ্ঞের খবর নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

রিপোর্টে আরো বলা হয়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনীল সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বা সরকারের নিন্দা জানানো এড়িয়ে গেছেন।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সাম্প্রতিক চুক্তিটি হয়েছে ৯০ এর দশকে দু’দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির ভিত্তিতে যেখানে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রমাণে সক্ষম ব্যক্তিদের ফেরত নেয়ার কথা বলা আছে। কিন্তু রাখাইনের ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা দেশটিতে নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যাত। বছরের পর বছর ধরে তারা অন্যান্য মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। যারা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন তাদের অনেকেরই কোন পরিচয়পত্রই নেই।

সহায়তা ও ত্রাণ সংস্থাগুলো আহ্বান জানিয়ে এসেছে যে কোন ধরণের প্রত্যাবাস চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভূক্ত থাকুক। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় মিয়ানমার বলেছে, তারা এমনটা চায় না।

রিপোর্টের শেষে বল হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি প্রত্যাবাসন চুক্তির জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছেন। ঢাকায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিয়ানমারকে অবশ্যই শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমিতে তাদের ফেরত নিতে হবে।’

আর মিয়ানমারের দাবি রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনুপ্রবেশকারী।