ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

আমরা কাশ্মিরের স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত: হাফিজ সাঈদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘গৃহবন্দিত্ব’ থেকে মুক্তি পেয়েছেন পাকিস্তানভিত্তিক উগ্রবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদ। মুক্তির পরই হাফিজ সাঈদ বলেছেন, কাশ্মিরিদের আজাদির জন্য পাকিস্তানের সমস্ত মানুষকে একত্রিত করবেন। কাশ্মির নিয়ে যে তাকে কোনওভাবেই দমানো যাবে না, সে কথাও জানিয়েছেন হাফিজ।

প্রায় ১০ মাস গৃহবন্দি থাকার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাহোরের বাসভবন থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পরই কেক কেটে দিনটি উদযাপন করেন সাঈদ। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু পাকিস্তান বরাবরই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিল। অবশেষে চাপের মুখে পড়ে হাফিজকে গৃহবন্দি করে পাকিস্তান।

তিনি বলেন, ‘কাশ্মিরিদের হয়ে বলার জন্য আমার কণ্ঠরোধ করতেই ১০ মাস গৃহবন্দি করে রাখা হয়।’ কিন্তু তিনি যে কাশ্মিরের স্বাধীনতার জন্য সব রকমভাবে প্রস্তুত সেই হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি। ভারত বারবারই আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এসেছে। কিন্তু লাহোর হাইকোর্টের রিভিউ বোর্ডের সিদ্ধান্ত ফের প্রমাণ করে দিল যে আমি নির্দোষ।’

২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এই সাঈদই ছিল বলে দাবি ভারত সরকারের। ওই হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছিল। সাঈদ অবশ্য শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। হাফিজ বলেন, ‘ভারতের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র চাপ সৃষ্টি করেছে পাকিস্তানের ওপর। আরে সে কারণেই পাকিস্তান সরকার আমাকে গৃহবন্দি করেছে।’

গত ৩১ জানুয়ারি হাফিজ সাঈদ এবং তার চার সঙ্গী— আবদুল্লা উবেইদ, মালিক জাফর ইকবাল, আব্দুল রহমান আবিদ এবং কাজী কাশিফ হুসেইনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করে পাঞ্জাব সরকার। পরে জননিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করে দু’দফায় সাঈদের গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। তাই পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সরকার লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত বিচারবিভাগীয় বোর্ডের দ্বারস্থ হয়। আরও তিন মাসের জন্য হাফিজ সাঈদের বন্দিত্বের মেয়াদ বাড়ানোর আর্জি জানানো হয় সেখানে। কিন্তু বিচারপতিরা প্রাদেশিক সরকারের আর্জি খারিজ করে দেন। যেসব অভিযোগে হাফিজ সাঈদকে বন্দি করা হয়েছে, তার স্বপক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ নেই বলে বিচারবিভাগীয় বোর্ড জানায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আমরা কাশ্মিরের স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত: হাফিজ সাঈদ

আপডেট সময় ০২:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘গৃহবন্দিত্ব’ থেকে মুক্তি পেয়েছেন পাকিস্তানভিত্তিক উগ্রবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদ। মুক্তির পরই হাফিজ সাঈদ বলেছেন, কাশ্মিরিদের আজাদির জন্য পাকিস্তানের সমস্ত মানুষকে একত্রিত করবেন। কাশ্মির নিয়ে যে তাকে কোনওভাবেই দমানো যাবে না, সে কথাও জানিয়েছেন হাফিজ।

প্রায় ১০ মাস গৃহবন্দি থাকার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাহোরের বাসভবন থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পরই কেক কেটে দিনটি উদযাপন করেন সাঈদ। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু পাকিস্তান বরাবরই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিল। অবশেষে চাপের মুখে পড়ে হাফিজকে গৃহবন্দি করে পাকিস্তান।

তিনি বলেন, ‘কাশ্মিরিদের হয়ে বলার জন্য আমার কণ্ঠরোধ করতেই ১০ মাস গৃহবন্দি করে রাখা হয়।’ কিন্তু তিনি যে কাশ্মিরের স্বাধীনতার জন্য সব রকমভাবে প্রস্তুত সেই হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি। ভারত বারবারই আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এসেছে। কিন্তু লাহোর হাইকোর্টের রিভিউ বোর্ডের সিদ্ধান্ত ফের প্রমাণ করে দিল যে আমি নির্দোষ।’

২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এই সাঈদই ছিল বলে দাবি ভারত সরকারের। ওই হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছিল। সাঈদ অবশ্য শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। হাফিজ বলেন, ‘ভারতের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র চাপ সৃষ্টি করেছে পাকিস্তানের ওপর। আরে সে কারণেই পাকিস্তান সরকার আমাকে গৃহবন্দি করেছে।’

গত ৩১ জানুয়ারি হাফিজ সাঈদ এবং তার চার সঙ্গী— আবদুল্লা উবেইদ, মালিক জাফর ইকবাল, আব্দুল রহমান আবিদ এবং কাজী কাশিফ হুসেইনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করে পাঞ্জাব সরকার। পরে জননিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করে দু’দফায় সাঈদের গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। তাই পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সরকার লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত বিচারবিভাগীয় বোর্ডের দ্বারস্থ হয়। আরও তিন মাসের জন্য হাফিজ সাঈদের বন্দিত্বের মেয়াদ বাড়ানোর আর্জি জানানো হয় সেখানে। কিন্তু বিচারপতিরা প্রাদেশিক সরকারের আর্জি খারিজ করে দেন। যেসব অভিযোগে হাফিজ সাঈদকে বন্দি করা হয়েছে, তার স্বপক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ নেই বলে বিচারবিভাগীয় বোর্ড জানায়।