ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

পুলিশের কাছে লাঞ্চিত হয়ে স্কুলছাত্রীর বিষপান

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৩) গত সোমবার বিকেলে পুলিশের অপমান সইতে না পেরে বিষপান করেছে। তাকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির বাবা কাঠমিস্ত্রি। তার সঙ্গে প্রতিবেশী মানিক মৃধার জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ মানিক ও তার দলবল মালেকের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। গত রোববার কাঠমিস্ত্রি তার প্রতিপক্ষ মানিক মৃধা, মনির মৃধা, নাজমা আক্তার ও তাসলিমা বেগমের নামে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এতে হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করা হয়।

সোমবার বিকেলে তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যান ভাণ্ডারিয়া থানার এএসআই মো. আবুল বাশার। তিনি অভিযোগকারীর আবেদন আমলে না নিয়ে উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ নেন। জনসমক্ষে কাঠমিস্ত্রির দুই মেয়েকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন। এ অপমান সইতে না পেরে এক বোন ঘরে ফিরে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরে পরিবারের লোকজন গুরুতর অবস্থায় তাকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুল ইসলাম উজ্জল হাসপাতালে মেয়েটিকে দেখতে যান।

এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফকরুল ইসলাম মৃধা বলেন, মেয়েটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার অবস্থা সংকটজনক। মেয়েটির বাবা বলেন, পুলিশের কাছে বিচার চেয়ে উল্টো আমার লেখাপড়া করা দুই মেয়ে অকথ্য গালাগাল ও অপবাদের শিকার হয়েছে। ওদের খারাপ মেয়েমানুষ বলা হয়েছে। এক মেয়ে এ দুর্ব্যবহার সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। আমি ওই পুলিশের উপযুক্ত শাস্তি চাই।

পিরোজপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজি শাহনেওয়াজ সোমবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গতকাল তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ভাণ্ডারিয়া থানার এএসআই আবুল বাশারকে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ছাত্রীর বিষপানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত এএসআই আবুল বাশার বলেন, আমি কোনো গালাগাল করিনি। বিবদমান দুই পক্ষের ঝগড়ঝাটি থামানোর চেষ্টা করেছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

পুলিশের কাছে লাঞ্চিত হয়ে স্কুলছাত্রীর বিষপান

আপডেট সময় ০৩:৫৮:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৩) গত সোমবার বিকেলে পুলিশের অপমান সইতে না পেরে বিষপান করেছে। তাকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির বাবা কাঠমিস্ত্রি। তার সঙ্গে প্রতিবেশী মানিক মৃধার জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ মানিক ও তার দলবল মালেকের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। গত রোববার কাঠমিস্ত্রি তার প্রতিপক্ষ মানিক মৃধা, মনির মৃধা, নাজমা আক্তার ও তাসলিমা বেগমের নামে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এতে হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করা হয়।

সোমবার বিকেলে তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যান ভাণ্ডারিয়া থানার এএসআই মো. আবুল বাশার। তিনি অভিযোগকারীর আবেদন আমলে না নিয়ে উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ নেন। জনসমক্ষে কাঠমিস্ত্রির দুই মেয়েকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন। এ অপমান সইতে না পেরে এক বোন ঘরে ফিরে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরে পরিবারের লোকজন গুরুতর অবস্থায় তাকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুল ইসলাম উজ্জল হাসপাতালে মেয়েটিকে দেখতে যান।

এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফকরুল ইসলাম মৃধা বলেন, মেয়েটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার অবস্থা সংকটজনক। মেয়েটির বাবা বলেন, পুলিশের কাছে বিচার চেয়ে উল্টো আমার লেখাপড়া করা দুই মেয়ে অকথ্য গালাগাল ও অপবাদের শিকার হয়েছে। ওদের খারাপ মেয়েমানুষ বলা হয়েছে। এক মেয়ে এ দুর্ব্যবহার সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। আমি ওই পুলিশের উপযুক্ত শাস্তি চাই।

পিরোজপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজি শাহনেওয়াজ সোমবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গতকাল তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ভাণ্ডারিয়া থানার এএসআই আবুল বাশারকে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ছাত্রীর বিষপানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত এএসআই আবুল বাশার বলেন, আমি কোনো গালাগাল করিনি। বিবদমান দুই পক্ষের ঝগড়ঝাটি থামানোর চেষ্টা করেছি।