ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমা ধাঁচের নগরী গড়ছেন সৌদি যুবরাজ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রক্ষণশীলতা ঝেড়ে ফেলে নতুন ভাবধারার এক সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে এর একটা রূপরেখাও তুলে ধরেছেন তিনি। ইউটিউবে প্রকাশ করা প্রমোশনাল ভিডিওতে একটা অবিশ্বাস্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এই স্বপ্নের নাম ‘নিওম’। ২৫ হাজার বর্গ কিলোমিটারের একটা শহর। গোটা বিশ্বের প্রযুক্তি গবেষণার রাজধানী, সামাজিক বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত, ট্র্যাফিক মুক্ত, পুরোপুরি অপ্রচলিত শক্তিচালিত। সালমানের ভাষায়, নিওম হবে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’দের শহর।

কেমন হবে নিওম? ঠিক কিভাবে এই শহর গড়ে তুলতে চাইছে সৌদি আরব? গোটা বিশ্বকে সে সম্পর্কে একটা ধারণা দিতে কিছু প্রমোশনাল ভিডিও প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। ইউটিউবে ঝড় তুলেছে নিওম-এর সেসব ভিডিও। সৌদি আরবের মতো রক্ষণশীল দেশেও এই রকম ভাবনা সম্ভব! ভিডিও দেখে এভাবেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে।

আধুনিক জীবন বা আধুনিক পৃথিবী নয়, নিওম শহরে উত্তর-আধুনিক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রমোশনাল ভিডিওতে তার প্রতিশ্রুতি, ‘নো রেস্ট্রিকশন, নো ডিভিশন, নো এক্সকিউজেস, অ্যান্ডলেস পোটেনশিয়ালস।’ অর্থাৎ, কোনও বিধিনিষেধ নয়, কোনও বিভাজন নয়, কোনও অজুহাতও নয়। শুধু সীমাহীন সম্ভাবনার শহর হতে চলেছে নিওম। ভিডিওতে হিজাবহীন নারীদের স্পোর্টস ব্রা পরে শরীরচর্চা করতে দেখা যাচ্ছে। পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব রকমের কাজে অংশগ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে নারীদের।

রক্ষণশীলতা ঝেড়ে ফেলে উদার ইসলামের দিকে যাত্রা করতে চায় সৌদি আরব। যুবরাজ সালমানের ভাষায়, ‘অতীতে আমরা এই রকম রক্ষণশীল ছিলাম না। আমরা যেখানে ছিলাম ফের সেখানেই ফিরতে চাই— উদার ইসলামে ফিরতে চাই।’

আজকের দুনিয়া সৌদি আরবকে চূড়ান্ত রক্ষণশীল দেশ হিসেবেই চেনে। পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা সেখানে এতই শক্তিশালী যে মাসখানেক আগে পর্যন্তও দেশটিতে গাড়ি চালানোর অধিকার ছিল না মেয়েদের। আজও সে দেশে উদয়াস্ত হিজাবে ঢাকা থাকেন মেয়েরা। বিয়ে করতে হয় শুধু পুরুষ অভিভাবকের নির্বাচিত পাত্রকেই। কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনের দেশটিতে পুরুষদেরও অনেক বিধিনিষেধের মধ্যে থাকতে হয়। বিদেশ থেকে যেসব পর্যটক যান, অবশ্য পালনীয় নির্দেশিকা রয়েছে তাদের জন্যও। তেমন এক দেশে নিওম-এর মতো উত্তর-আধুনিক শহর গড়তে চান যুবরাজ সালমান। যেখানে কোনও বিধিনিষেধ বা বিভাজন থাকবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শিল্পপতিদের এক সমাবেশে যুবরাজ সালমান জানিয়েছেন, তেল নির্ভরতা থেকে ক্রমশ অপ্রচলিত শক্তির দিকে সরতে চাইছে সৌদি আরব। দেশটির অর্থনীতির পেট্রোলিয়াম নির্ভরশীলতাও কিছুটা কমাতে চান দিনি। সব মিলিয়ে নিওম সুপারসিটির ভাবনা। গোটা দুনিয়ার প্রযুক্তি গবেষণার রাজধানী হিসেবে নিওমকে গড়ে তুলতে চান তিনি। এজন্য ৫০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ ধরা হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ থাকবে। বেসরকারি তথা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগও আহ্বান করা হয়েছে। সে কারণেই বিধিনিষেধমুক্ত উত্তর আধুনিক এক সমাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

সালমানের ভাষায়, এই শহরটা প্রথাগত মানুষ বা প্রথাগত সংস্থাগুলোর জন্য নয়। মানব সভ্যতাকে পরবর্তী ধাপে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন যারা, তাদের জন্যই নিওম-কে গড়ে তোলা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমা ধাঁচের নগরী গড়ছেন সৌদি যুবরাজ

আপডেট সময় ০৯:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রক্ষণশীলতা ঝেড়ে ফেলে নতুন ভাবধারার এক সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে এর একটা রূপরেখাও তুলে ধরেছেন তিনি। ইউটিউবে প্রকাশ করা প্রমোশনাল ভিডিওতে একটা অবিশ্বাস্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এই স্বপ্নের নাম ‘নিওম’। ২৫ হাজার বর্গ কিলোমিটারের একটা শহর। গোটা বিশ্বের প্রযুক্তি গবেষণার রাজধানী, সামাজিক বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত, ট্র্যাফিক মুক্ত, পুরোপুরি অপ্রচলিত শক্তিচালিত। সালমানের ভাষায়, নিওম হবে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’দের শহর।

কেমন হবে নিওম? ঠিক কিভাবে এই শহর গড়ে তুলতে চাইছে সৌদি আরব? গোটা বিশ্বকে সে সম্পর্কে একটা ধারণা দিতে কিছু প্রমোশনাল ভিডিও প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। ইউটিউবে ঝড় তুলেছে নিওম-এর সেসব ভিডিও। সৌদি আরবের মতো রক্ষণশীল দেশেও এই রকম ভাবনা সম্ভব! ভিডিও দেখে এভাবেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে।

আধুনিক জীবন বা আধুনিক পৃথিবী নয়, নিওম শহরে উত্তর-আধুনিক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রমোশনাল ভিডিওতে তার প্রতিশ্রুতি, ‘নো রেস্ট্রিকশন, নো ডিভিশন, নো এক্সকিউজেস, অ্যান্ডলেস পোটেনশিয়ালস।’ অর্থাৎ, কোনও বিধিনিষেধ নয়, কোনও বিভাজন নয়, কোনও অজুহাতও নয়। শুধু সীমাহীন সম্ভাবনার শহর হতে চলেছে নিওম। ভিডিওতে হিজাবহীন নারীদের স্পোর্টস ব্রা পরে শরীরচর্চা করতে দেখা যাচ্ছে। পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব রকমের কাজে অংশগ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে নারীদের।

রক্ষণশীলতা ঝেড়ে ফেলে উদার ইসলামের দিকে যাত্রা করতে চায় সৌদি আরব। যুবরাজ সালমানের ভাষায়, ‘অতীতে আমরা এই রকম রক্ষণশীল ছিলাম না। আমরা যেখানে ছিলাম ফের সেখানেই ফিরতে চাই— উদার ইসলামে ফিরতে চাই।’

আজকের দুনিয়া সৌদি আরবকে চূড়ান্ত রক্ষণশীল দেশ হিসেবেই চেনে। পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা সেখানে এতই শক্তিশালী যে মাসখানেক আগে পর্যন্তও দেশটিতে গাড়ি চালানোর অধিকার ছিল না মেয়েদের। আজও সে দেশে উদয়াস্ত হিজাবে ঢাকা থাকেন মেয়েরা। বিয়ে করতে হয় শুধু পুরুষ অভিভাবকের নির্বাচিত পাত্রকেই। কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনের দেশটিতে পুরুষদেরও অনেক বিধিনিষেধের মধ্যে থাকতে হয়। বিদেশ থেকে যেসব পর্যটক যান, অবশ্য পালনীয় নির্দেশিকা রয়েছে তাদের জন্যও। তেমন এক দেশে নিওম-এর মতো উত্তর-আধুনিক শহর গড়তে চান যুবরাজ সালমান। যেখানে কোনও বিধিনিষেধ বা বিভাজন থাকবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শিল্পপতিদের এক সমাবেশে যুবরাজ সালমান জানিয়েছেন, তেল নির্ভরতা থেকে ক্রমশ অপ্রচলিত শক্তির দিকে সরতে চাইছে সৌদি আরব। দেশটির অর্থনীতির পেট্রোলিয়াম নির্ভরশীলতাও কিছুটা কমাতে চান দিনি। সব মিলিয়ে নিওম সুপারসিটির ভাবনা। গোটা দুনিয়ার প্রযুক্তি গবেষণার রাজধানী হিসেবে নিওমকে গড়ে তুলতে চান তিনি। এজন্য ৫০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ ধরা হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ থাকবে। বেসরকারি তথা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগও আহ্বান করা হয়েছে। সে কারণেই বিধিনিষেধমুক্ত উত্তর আধুনিক এক সমাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

সালমানের ভাষায়, এই শহরটা প্রথাগত মানুষ বা প্রথাগত সংস্থাগুলোর জন্য নয়। মানব সভ্যতাকে পরবর্তী ধাপে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন যারা, তাদের জন্যই নিওম-কে গড়ে তোলা হচ্ছে।