অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মিয়ানমার সফরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার দাবি জানিয়ে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, এখন তাদের ‘সদিচ্ছার’ অপেক্ষায় আছেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় মিয়ানমার থেকে ফিরে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।
রোহিঙ্গার সঙ্কটের মধ্যে সোমবার মিয়ানমার সফরে যান আসাদুজ্জামান কামাল। নে পি দোতে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে গত দুই মাসে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার মধ্যে তার এই সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছিল।
দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপেক্ষমান সাংবাদিকদের বলেন, “সফরে আমরা আমাদের দাবি উপস্থাপন করেছি। আশা করছি, সব কিছু হবে। “দেখা যাক, আমরা অপেক্ষা করছি তাদের (মিয়ানমার সরকার) সদিচ্ছার উপর।”
সু চি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফিরিয়ে নিতে তার সরকার কাজ শুরু করেছে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নেও তার সরকার কাজ করছে। নতুন আসা ৬ লাখের পাশাপাশি আগে আসা ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনে দুই দেশের মধ্যে মতৈক্য হয়েছে।
৩০ নভেম্বরের মধ্যে ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন হবে বলে আশাবাদী আসাদুজ্জামান কামাল। তিনি একই সঙ্গে বলেন, “তারাই (মিয়ানমার সরকার) নির্ধারণ করবে কীভাবে কী হবে?” দুই মাস আগে রাখাইনের ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে সমন্বিত হামলার পর ২৫ অগাস্ট থেকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ওই অঞ্চলে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়; সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে শুরু হয় রোহিঙ্গাদের ঢল।
আট সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রোহিঙ্গাদের আসা এখনও বন্ধ হয়নি। ইতোমধ্যে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা আরও চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে গত কয়েক দশক ধরে। এসব শরণার্থী ফেরত নিতে বাংলাদেশের আহ্বান উপেক্ষা করে আসছিল মিয়ানমার। উল্টো রোহিঙ্গাদের বাঙালি হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের নানা উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগও আসে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে।
এবার শরণার্থীর ঢলে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মধ্যে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে সু চি বলেন, ১৯৯২ সালে করা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় ‘যাচাইয়ের মাধ্যমে’ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রাখাইনের মুসলমানদের ফিরিয়ে নিতে তার দেশ প্রস্তুত রয়েছে।
এরপর সু চির দপ্তরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে অক্টোবরের শুরুতে ঢাকায় এলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দুই দেশ একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রস্তাব করে তার খসড়াও হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে সে বিষয়ে মিয়ানমারের জবাব এখনও জানা যায়নি। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজটি জাতিসংঘের মাধ্যমে করার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















