ঢাকা ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

চলন্ত ট্রেনের মধ্যে মুসলিম পরিবারকে মারধর

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের উত্তরপ্রদেশে জুনেইদ খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সেখানে ট্রেনের ভিতর বেধড়ক মারধরের শিকার হলো এক মুসলিম পরিবার। তাঁদের বাড়ি ফারুকাবাদ জেলায়। ফারুকাবাদ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত বুধবার আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শিকোহাবাদ-কাসগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ট্রেনে ফিরছিল ওই মুসলিম পরিবারটি। সব মিলিয়ে ১০ জন হবে। বিয়ে বাড়ি থেকে সেখানেই ফিরছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, ট্রেনের ভিতরেই তাঁদের উপর চড়াও হয় ৩০-৩৫ জনের একটি দল। লোহার রড, লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়। বেধড়ক মারধর করা হয় সকলকে। ছিনিয়ে নেওয়া হয় গয়না, মোবাইলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। এমনকি মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের সকলকে ফারুকাবাদের রামমোহন লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সকলের মাথায় এবং পেটে গুরুতর আঘাত লেগেছে। হামলাকারীদের হাত থেকে পরিবারটিকে বাঁচাতে আহত হয়েছেন ট্রেনের বেশ কয়েক জন সহযাত্রীও। ওই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে থাকা শারীরিক ও মানসিক ভাবে ভারসাম্যহানী ১৭ বছরের তরুণকেও ছাড় দেওয়া হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইল কেড়ে নেওয়া থেকেই ওই গণ্ডগোলের সূত্রপাত। এর পরেই দুষ্কৃতিরা পাশের কামরা থেকে সঙ্গীদের ডেকে আনে। তার পর, চেন টেনে নিবকারোরি স্টেশনের কাছে ট্রেন থামায়। সেই সময় ভয় পেয়ে যাত্রীরা কামরার সব দরজা-জানলা বন্ধ করে দেন। তখনই কামরার বাইরে থেকে শুরু হয় পাথর বৃষ্টি। তবে অন্য একটি সূত্রের মতে, এক মহিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। এ ঘটনায় হাত ভেঙেছে ওই পরিবারের প্রধান বছর পঞ্চাশের ‌মহম্মদ শাকিরের। তার মাথাতেও জোর চোট লেগেছে।

এ বিষয়ে পরিবারটির প্রধান শাকির বলেন, ‘‘ওরা আমাদের উপরে রড নিয়ে চড়াও হয়, মহিলাদের শ্লীলতাহানি করে। ছাড় দেয়নি আমাদের প্রতিবন্ধী ছেলেকেও। হামলার সময়ে ওরা বলছিল, এরা মুসলিম। এদের মার। ’’

শাকিরের ছেলে আরসান বলেন, ‘‘ওরা আমার মা ও বোনের জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়েছিল। সোনার গয়না ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এর পরেই ওরা পালিয়ে ‌যায়। ’’ কামরার অন্য যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ১০০ নম্বরে ডায়াল করেও কোনও লাভ হয়নি। প্রতি বারই ফোন কেটে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ যাত্রীদের।

এর আগেও গত ২২ জুন ট্রেনের ভিতরই দুষ্কৃতিকারীদের হামলার শিকার হয়েছিল ১৭ বছরের জুনেইদ ও তার পরিবারের চার সদস্য। জুনেইদকে ছুরি মেরে খুন করে দুষ্কৃতীরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

চলন্ত ট্রেনের মধ্যে মুসলিম পরিবারকে মারধর

আপডেট সময় ০৪:৪৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের উত্তরপ্রদেশে জুনেইদ খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সেখানে ট্রেনের ভিতর বেধড়ক মারধরের শিকার হলো এক মুসলিম পরিবার। তাঁদের বাড়ি ফারুকাবাদ জেলায়। ফারুকাবাদ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত বুধবার আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শিকোহাবাদ-কাসগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ট্রেনে ফিরছিল ওই মুসলিম পরিবারটি। সব মিলিয়ে ১০ জন হবে। বিয়ে বাড়ি থেকে সেখানেই ফিরছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, ট্রেনের ভিতরেই তাঁদের উপর চড়াও হয় ৩০-৩৫ জনের একটি দল। লোহার রড, লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়। বেধড়ক মারধর করা হয় সকলকে। ছিনিয়ে নেওয়া হয় গয়না, মোবাইলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। এমনকি মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের সকলকে ফারুকাবাদের রামমোহন লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সকলের মাথায় এবং পেটে গুরুতর আঘাত লেগেছে। হামলাকারীদের হাত থেকে পরিবারটিকে বাঁচাতে আহত হয়েছেন ট্রেনের বেশ কয়েক জন সহযাত্রীও। ওই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে থাকা শারীরিক ও মানসিক ভাবে ভারসাম্যহানী ১৭ বছরের তরুণকেও ছাড় দেওয়া হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইল কেড়ে নেওয়া থেকেই ওই গণ্ডগোলের সূত্রপাত। এর পরেই দুষ্কৃতিরা পাশের কামরা থেকে সঙ্গীদের ডেকে আনে। তার পর, চেন টেনে নিবকারোরি স্টেশনের কাছে ট্রেন থামায়। সেই সময় ভয় পেয়ে যাত্রীরা কামরার সব দরজা-জানলা বন্ধ করে দেন। তখনই কামরার বাইরে থেকে শুরু হয় পাথর বৃষ্টি। তবে অন্য একটি সূত্রের মতে, এক মহিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। এ ঘটনায় হাত ভেঙেছে ওই পরিবারের প্রধান বছর পঞ্চাশের ‌মহম্মদ শাকিরের। তার মাথাতেও জোর চোট লেগেছে।

এ বিষয়ে পরিবারটির প্রধান শাকির বলেন, ‘‘ওরা আমাদের উপরে রড নিয়ে চড়াও হয়, মহিলাদের শ্লীলতাহানি করে। ছাড় দেয়নি আমাদের প্রতিবন্ধী ছেলেকেও। হামলার সময়ে ওরা বলছিল, এরা মুসলিম। এদের মার। ’’

শাকিরের ছেলে আরসান বলেন, ‘‘ওরা আমার মা ও বোনের জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়েছিল। সোনার গয়না ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এর পরেই ওরা পালিয়ে ‌যায়। ’’ কামরার অন্য যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ১০০ নম্বরে ডায়াল করেও কোনও লাভ হয়নি। প্রতি বারই ফোন কেটে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ যাত্রীদের।

এর আগেও গত ২২ জুন ট্রেনের ভিতরই দুষ্কৃতিকারীদের হামলার শিকার হয়েছিল ১৭ বছরের জুনেইদ ও তার পরিবারের চার সদস্য। জুনেইদকে ছুরি মেরে খুন করে দুষ্কৃতীরা।