ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ের মুখে নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়মের ছড়াছড়ি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিগত তিন বছরে পরপর কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরও বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারগুলোতে কোনো রকমের তল্লাশি ছাড়াই মানুষ ও যানবাহন ঢুকে পড়ছে। একই সঙ্গে রানওয়ে ও টার্মিনাল সংলগ্ন সড়কে অবৈধ পার্কিং, অননুমোদিত ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট এবং অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি টার্মিনাল-২ এর আগমনী এলাকায় সরজমিনে দেখা গেছে, দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সংবলিত নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই অবাধে নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন। অথচ তাদের জন্য তৈরি করা সুনির্দিষ্ট এলাকাটি ফাঁকা পড়ে আছে। অন্যদিকে বহির্গমন সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে যাত্রী তোলার কাজে ব্যাস্ত রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। ঘটনাস্থলে আনসার সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেও এসব বিশৃঙ্খলা বন্ধে তারা ভূমিকা রাখছেন না।

পার্কিং সুবিধা নিয়ে চালকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র মতামত। অটোরিকশা চালকদের একাংশের দাবি, নির্দিষ্ট স্থানে সিএনজি রাখার জায়গা না পাওয়ার কারণেই তারা প্রধান সড়কে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। তবে অন্য এক চালক ভিন্ন তথ্য দিয়ে জানান, ৫০ টাকা ফি পরিশোধ করে তিন ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত পার্কিং ব্যবহার করা যায়। কিছু চালক ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রধান রাস্তায় জটলা পাকিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা তৈরি করছেন বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কয়েকজন চালকের দাবি, নির্ধারিত পার্কিংয়ে সিএনজি রাখার সুযোগ না থাকায় তাঁরা সড়কে গাড়ি দাঁড় করান।

শুধু যানজট নয়, নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ ছ ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য খাতেও। পার্কিং সীমানার কাছেই বসানো হয়েছে ফুলের দোকান, বিচরণ করছেন ভিক্ষুকরা। এমনকি কুরিয়ার সার্ভিসের বস্তাভর্তি মালামাল ও খাবারের পার্সেল কোনো ধরনের চেকিং ছাড়াই ভেতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঢাকা কাস্টম হাউসের অভ্যন্তরে টিনশেড হোটেল থেকে শুরু করে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানে প্রকাশ্যে ঝুলছে ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার, যা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা ছাড়াই ভেতরে যাতায়াত করছে।

এ ধরনের অনিয়ম প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তৌহিদুল হক সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো উচ্চ সুরক্ষার স্থানে সর্বসাধারণের অবাধ যাতায়াত মারাত্মক নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করে। এটি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের সুনামও ক্ষুণ্ন করে। পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হওয়ার আগেই কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষকে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান দাবি করেন, তল্লাশি ছাড়া মালামাল ভেতরে ঢোকার তথ্যটি তাঁর জানা নেই এবং বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব এপিবিএনের। অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা সদস্য এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল জানান, সংবেদনশীল এয়ারসাইড বা নিয়ন্ত্রিত এলাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। ল্যান্ডসাইডের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে এপিবিএন। এ বিষয়ে এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি নুরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে এবং সব অনিয়মের বিষয় তদন্তের পাশাপাশি অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই: প্রাথমিক ভালো, মাধ্যমিকে ধীরগতি

ের মুখে নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়মের ছড়াছড়ি

আপডেট সময় ০৮:২০:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিগত তিন বছরে পরপর কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরও বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারগুলোতে কোনো রকমের তল্লাশি ছাড়াই মানুষ ও যানবাহন ঢুকে পড়ছে। একই সঙ্গে রানওয়ে ও টার্মিনাল সংলগ্ন সড়কে অবৈধ পার্কিং, অননুমোদিত ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট এবং অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি টার্মিনাল-২ এর আগমনী এলাকায় সরজমিনে দেখা গেছে, দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সংবলিত নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই অবাধে নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন। অথচ তাদের জন্য তৈরি করা সুনির্দিষ্ট এলাকাটি ফাঁকা পড়ে আছে। অন্যদিকে বহির্গমন সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে যাত্রী তোলার কাজে ব্যাস্ত রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। ঘটনাস্থলে আনসার সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেও এসব বিশৃঙ্খলা বন্ধে তারা ভূমিকা রাখছেন না।

পার্কিং সুবিধা নিয়ে চালকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র মতামত। অটোরিকশা চালকদের একাংশের দাবি, নির্দিষ্ট স্থানে সিএনজি রাখার জায়গা না পাওয়ার কারণেই তারা প্রধান সড়কে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। তবে অন্য এক চালক ভিন্ন তথ্য দিয়ে জানান, ৫০ টাকা ফি পরিশোধ করে তিন ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত পার্কিং ব্যবহার করা যায়। কিছু চালক ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রধান রাস্তায় জটলা পাকিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা তৈরি করছেন বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কয়েকজন চালকের দাবি, নির্ধারিত পার্কিংয়ে সিএনজি রাখার সুযোগ না থাকায় তাঁরা সড়কে গাড়ি দাঁড় করান।

শুধু যানজট নয়, নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ ছ ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য খাতেও। পার্কিং সীমানার কাছেই বসানো হয়েছে ফুলের দোকান, বিচরণ করছেন ভিক্ষুকরা। এমনকি কুরিয়ার সার্ভিসের বস্তাভর্তি মালামাল ও খাবারের পার্সেল কোনো ধরনের চেকিং ছাড়াই ভেতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঢাকা কাস্টম হাউসের অভ্যন্তরে টিনশেড হোটেল থেকে শুরু করে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানে প্রকাশ্যে ঝুলছে ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার, যা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা ছাড়াই ভেতরে যাতায়াত করছে।

এ ধরনের অনিয়ম প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তৌহিদুল হক সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো উচ্চ সুরক্ষার স্থানে সর্বসাধারণের অবাধ যাতায়াত মারাত্মক নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করে। এটি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের সুনামও ক্ষুণ্ন করে। পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হওয়ার আগেই কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষকে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান দাবি করেন, তল্লাশি ছাড়া মালামাল ভেতরে ঢোকার তথ্যটি তাঁর জানা নেই এবং বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব এপিবিএনের। অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা সদস্য এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল জানান, সংবেদনশীল এয়ারসাইড বা নিয়ন্ত্রিত এলাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। ল্যান্ডসাইডের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে এপিবিএন। এ বিষয়ে এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি নুরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে এবং সব অনিয়মের বিষয় তদন্তের পাশাপাশি অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।