ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে এখন গভীর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ১৪ই অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য প্রকাশ করে। দণ্ডিত দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির এবং সুইটি (সিঁথি) আক্তার। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া চলা সত্ত্বেও ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন বিষয়টি নিয়ে আগে থেকে কোনো আগাম তথ্য পায়নি বা সুরক্ষার জন্য সক্রিয় হয়নি, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। অথচ দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যমতে, সৌদি কর্তৃপক্ষ গত ৩০শে সেপ্টেম্বর জেদ্দায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে বন্দিদের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তালিকার তথ্যানুযায়ী, নজরুলের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ এবং সুইটির বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ ছিল। তবে ওই তালিকায় তাদের কী সাজা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে যে, তালিকার মাধ্যমে নাম ও অভিযোগের বিষয়টি জানার পরও সংশ্লিষ্ট মিশন কেন আইনি লড়াইয়ে নামেনি বা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৫ই অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কন্স্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে কূটনৈতিক পত্র পাঠায়। পরবর্তীতে ১৮ই অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। গত সোমবার জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের কূটনীতিকরা জানতে চেয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে মিশনকে কেন জানানো হলো না। তবে সৌদি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির স্বীকার করেছেন যে, তথ্য আদান-প্রদান ও কূটনৈতিক যোগাযোগে ঘাটতি ছিল। তিনি এই ঘটনাকে হতাশাজনক হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন। জেদ্দায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের ১৮ই অক্টোবরের এক গোপন স্মারকলিপি অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকেও আইনি সহায়তার জন্য কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আদালতে দোভাষীর ব্যবস্থা থাকলেও আসামিরা নিজ পছন্দের দোভাষী বেছে নিতে পারেন না এবং দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে ঠিক কোন অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা মিশন পায়নি। এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। অভিযোগের ধরন বিবেচনায় নিয়ে মিশন উদ্যোগী হলে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি আগে জানা সম্ভব হতো কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। ফলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের আগে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের দূতাবাস কিংবা কন্স্যুলেটকে কিছু জানায়নি।

নজরুল ইসলাম ২০২৩ সালের ১লা আগস্ট এবং সুইটি আক্তার পরের দিন আটক হয়েছিলেন। নজরুল ইসলামের পরিবার জানিয়েছে, আটকের বিষয়টি তারা জানত এবং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কথা হতো, কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের খবর তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমেই পেয়েছেন। সৌদি বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞাত একটি সূত্রের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের মিশনকে লিখিতভাবে জানানোর নিয়ম থাকলেও এখানে তা করা হয়নি বা মিশনও কোনো তথ্য পায়নি। এমনকি বিচার চলাকালে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দোভাষী হিসেবে নিয়োজিত ছিল কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সৌদি পক্ষ থেকে কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে, নিম্ন আদালতের রায়ের পর আপিল আদালতের ১৩ বিচারকের প্যানেল এই দণ্ড বহাল রাখে। তবে প্রশ্ন উঠছে, বিচারপ্রক্রিয়া যদি সম্পন্ন হয়েই থাকে, তবে বন্দিদের তালিকায় নাম থাকার পরও কেন মিশনের কাছে দণ্ডের তথ্য গোপন করা হলো? ঢাকা এখন নতুন করে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে মামলার নথিপত্র, বিচারপদ্ধতি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে চেয়েছে। মামলার অবস্থা, আদালতের কার্যক্রম, দণ্ডের ধরন এবং আপিলের সুযোগ সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখাও কন্স্যুলার দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের বন্দি হস্তান্তর চুক্তির দাবি থাকলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে এমন চুক্তি থাকলেও সৌদির সাথে তা প্রক্রিয়াধীন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল-দুহাইলানের সাথে বৈঠকের পর বিচারিক সহযোগিতা চুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, যার নথিপত্র সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে বলেও শোনা গিয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগের বর্তমান অবস্থান অস্পষ্ট। এই মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাটি এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্দি বিনিময় ও আইনি সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বন্দি হস্তান্তর চুক্তি নেই বাংলাদেশের: স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সৌদি আরবের সঙ্গে বন্দি হস্তান্তর চুক্তি করেনি বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে ২০১০ সালে এবং আমিরাতের সঙ্গে ২০১৪ সালে এ চুক্তি হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ১২:১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে এখন গভীর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ১৪ই অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য প্রকাশ করে। দণ্ডিত দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির এবং সুইটি (সিঁথি) আক্তার। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া চলা সত্ত্বেও ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন বিষয়টি নিয়ে আগে থেকে কোনো আগাম তথ্য পায়নি বা সুরক্ষার জন্য সক্রিয় হয়নি, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। অথচ দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যমতে, সৌদি কর্তৃপক্ষ গত ৩০শে সেপ্টেম্বর জেদ্দায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে বন্দিদের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তালিকার তথ্যানুযায়ী, নজরুলের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ এবং সুইটির বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ ছিল। তবে ওই তালিকায় তাদের কী সাজা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে যে, তালিকার মাধ্যমে নাম ও অভিযোগের বিষয়টি জানার পরও সংশ্লিষ্ট মিশন কেন আইনি লড়াইয়ে নামেনি বা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৫ই অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কন্স্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে কূটনৈতিক পত্র পাঠায়। পরবর্তীতে ১৮ই অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। গত সোমবার জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের কূটনীতিকরা জানতে চেয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে মিশনকে কেন জানানো হলো না। তবে সৌদি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির স্বীকার করেছেন যে, তথ্য আদান-প্রদান ও কূটনৈতিক যোগাযোগে ঘাটতি ছিল। তিনি এই ঘটনাকে হতাশাজনক হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন। জেদ্দায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের ১৮ই অক্টোবরের এক গোপন স্মারকলিপি অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকেও আইনি সহায়তার জন্য কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আদালতে দোভাষীর ব্যবস্থা থাকলেও আসামিরা নিজ পছন্দের দোভাষী বেছে নিতে পারেন না এবং দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে ঠিক কোন অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা মিশন পায়নি। এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। অভিযোগের ধরন বিবেচনায় নিয়ে মিশন উদ্যোগী হলে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি আগে জানা সম্ভব হতো কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। ফলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের আগে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের দূতাবাস কিংবা কন্স্যুলেটকে কিছু জানায়নি।

নজরুল ইসলাম ২০২৩ সালের ১লা আগস্ট এবং সুইটি আক্তার পরের দিন আটক হয়েছিলেন। নজরুল ইসলামের পরিবার জানিয়েছে, আটকের বিষয়টি তারা জানত এবং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কথা হতো, কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের খবর তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমেই পেয়েছেন। সৌদি বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞাত একটি সূত্রের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের মিশনকে লিখিতভাবে জানানোর নিয়ম থাকলেও এখানে তা করা হয়নি বা মিশনও কোনো তথ্য পায়নি। এমনকি বিচার চলাকালে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দোভাষী হিসেবে নিয়োজিত ছিল কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সৌদি পক্ষ থেকে কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে, নিম্ন আদালতের রায়ের পর আপিল আদালতের ১৩ বিচারকের প্যানেল এই দণ্ড বহাল রাখে। তবে প্রশ্ন উঠছে, বিচারপ্রক্রিয়া যদি সম্পন্ন হয়েই থাকে, তবে বন্দিদের তালিকায় নাম থাকার পরও কেন মিশনের কাছে দণ্ডের তথ্য গোপন করা হলো? ঢাকা এখন নতুন করে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে মামলার নথিপত্র, বিচারপদ্ধতি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে চেয়েছে। মামলার অবস্থা, আদালতের কার্যক্রম, দণ্ডের ধরন এবং আপিলের সুযোগ সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখাও কন্স্যুলার দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের বন্দি হস্তান্তর চুক্তির দাবি থাকলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে এমন চুক্তি থাকলেও সৌদির সাথে তা প্রক্রিয়াধীন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল-দুহাইলানের সাথে বৈঠকের পর বিচারিক সহযোগিতা চুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, যার নথিপত্র সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে বলেও শোনা গিয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগের বর্তমান অবস্থান অস্পষ্ট। এই মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাটি এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্দি বিনিময় ও আইনি সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বন্দি হস্তান্তর চুক্তি নেই বাংলাদেশের: স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সৌদি আরবের সঙ্গে বন্দি হস্তান্তর চুক্তি করেনি বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে ২০১০ সালে এবং আমিরাতের সঙ্গে ২০১৪ সালে এ চুক্তি হয়।