ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সীমান্ত ও দেশের ভেতর থেকে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বিভিন্ন কল-কারখানায় পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী শক্তির পলায়নপর অংশ বর্তমানে এসব অস্থিরতায় অর্থায়ন করছে। সীমান্তের ওপার থেকে একটি পক্ষ এবং দেশের ভেতর থেকে আরেকটি পক্ষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি সাধারণ জনগণকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি দল বলে।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আখচাষিদের জন্য একটি বড় সুখবর দেন। তিনি ল্যাপটপের মাধ্যমে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মাঝে ১২ কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা সরাসরি বিতরণ করেন। কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা মোবাইল ফোনে এসএমএস বার্তার মাধ্যমে তা জানতে পারেন। যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের চেতনাকে ধারণ করে রাজনীতি করে। তারই ধারাবাহিকতায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে দল। শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল মুখে স্থিতিশীলতার কথা বললেও তাদের কাজে জনগণের প্রত্যাশার কোনো প্রতিফলন নেই।

রাজশাহীর দীর্ঘদিনের পানির সংকট সমাধানে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের ১৪টি জেলার মানুষ সুফল পাবে। তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়তে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অধিকার, কর্মসংস্থান ও শান্তিতে থাকতে চায়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, বিএনপি ৭১-কে ধারণ করে, বিএনপি ২৪-কে ধারণ করে। জনগণ চায় কর্মসংস্থান ও শান্তিপূর্ণভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে।

জনসভায় উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন এবং হাসপাতাল উন্নয়নের মতো সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন অপরিহার্য। তিনি বলেন, আপনাদের সমর্থনই বিএনপি সরকারের আসল শক্তি। এ সময় জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং সঞ্চালনা করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর (অব.) শরীর উদ্দিন, সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, আবু সাঈদ চাঁদ, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, আমিনুল ইসলাম আলিম এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদ প্রমুখ। শরীর উদ্দিন, সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের সাংসদ আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্প।

আপলোডকারীর তথ্য

সবাই মিলেমিশে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

সীমান্ত ও দেশের ভেতর থেকে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র

আপডেট সময় ১০:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বিভিন্ন কল-কারখানায় পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী শক্তির পলায়নপর অংশ বর্তমানে এসব অস্থিরতায় অর্থায়ন করছে। সীমান্তের ওপার থেকে একটি পক্ষ এবং দেশের ভেতর থেকে আরেকটি পক্ষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি সাধারণ জনগণকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি দল বলে।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আখচাষিদের জন্য একটি বড় সুখবর দেন। তিনি ল্যাপটপের মাধ্যমে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মাঝে ১২ কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা সরাসরি বিতরণ করেন। কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা মোবাইল ফোনে এসএমএস বার্তার মাধ্যমে তা জানতে পারেন। যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের চেতনাকে ধারণ করে রাজনীতি করে। তারই ধারাবাহিকতায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে দল। শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল মুখে স্থিতিশীলতার কথা বললেও তাদের কাজে জনগণের প্রত্যাশার কোনো প্রতিফলন নেই।

রাজশাহীর দীর্ঘদিনের পানির সংকট সমাধানে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের ১৪টি জেলার মানুষ সুফল পাবে। তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়তে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অধিকার, কর্মসংস্থান ও শান্তিতে থাকতে চায়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, বিএনপি ৭১-কে ধারণ করে, বিএনপি ২৪-কে ধারণ করে। জনগণ চায় কর্মসংস্থান ও শান্তিপূর্ণভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে।

জনসভায় উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন এবং হাসপাতাল উন্নয়নের মতো সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন অপরিহার্য। তিনি বলেন, আপনাদের সমর্থনই বিএনপি সরকারের আসল শক্তি। এ সময় জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং সঞ্চালনা করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর (অব.) শরীর উদ্দিন, সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, আবু সাঈদ চাঁদ, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, আমিনুল ইসলাম আলিম এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদ প্রমুখ। শরীর উদ্দিন, সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের সাংসদ আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্প।