ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নাটোর সড়ক দুর্ঘটনা: স্বজন হারানো রুবিনা এখনো অজানা শোকে

মঙ্গলবার ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তথ্যগত ভুলের কারণে নিহতের সংখ্যা ১৪ বলা হলেও, পরে যাচাই-বাছাই শেষে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম ১২ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ চলাকালীন মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও বর্তমানে তা স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। একই ঘটনায় তার প্রিয় দুইজন ব্যক্তি ছাড়া আরও ১০ জন নিহত হয়েছেন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সবকিছু এলোমেলো করে দিল।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শহিদুল ইসলাম (৪০) ও তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে তাছফিয়া খাতুন। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের বাসিন্দা রুবিনা আক্তার (৩৬) তাঁর স্বামী শহিদুল ও দুই সন্তানকে নিয়ে পূজার ছুটিতে বড় বোনের বাসায় রাজশাহীতে যাচ্ছিলেন। রুবিনা নিজে পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং তাঁর স্বামী শহিদুল ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার ক্রেডিট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিছুদিন আগেই এই দম্পতি ওমরাহ পালন করে ফিরেছিলেন। পথেই বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল স্বামী শহিদুল ইসলাম (৪০) ও মেয়ে তাছফিয়া খাতুনের (৮)। শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও বারবার জানতে চাইছেন, তাঁর স্বামী ও সন্তানেরা কোথায়।

দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় রুবিনা ও তাঁর ছেলে লাবিব হোসেনকে (১০) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে রুবিনা তাঁর স্বামী ও সন্তানদের খোঁজ করছেন, কিন্তু স্বজনেরা এখনো তাঁকে স্বামী ও মেয়ের মৃত্যুর দুঃসংবাদটি জানাননি। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রা মুহূর্তে পরিণত হলো বিষাদে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই থেমে যায় তাঁদের যাত্রা। স্বামী ও মেয়েকে হারিয়ে রুবিনার জীবনে নেমে আসে এক অপূরণীয় শূন্যতা—যে শূন্যতার কথা তিনি এখনো জানেন না। তিনি জানেন না, তাঁর জীবনের সবচেয়ে আপন দুজন আর বেঁচে নেই। যে পূজার ছুটিতে পরিবারের সবাই মিলে আনন্দে কাটানোর কথা ছিল কয়েকটি দিন, সেই ছুটিই রুবিনার পরিবারের জন্য হয়ে উঠল চিরবেদনার স্মৃতি। অথচ সেই অপেক্ষার শেষ কোথায়, তা জানেন তাঁর চারপাশের মানুষ—শুধু জানেন না রুবিনা নিজেই।

রুবিনার ভগ্নিপতি ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা শহিদুর রহমান জানান, রাজশাহীর বাসায় তাদের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের সব আনন্দ নিমেষেই বিষাদে রূপ নিয়েছে। তিনি বর্তমানে নাটোর সদর হাসপাতালে লাবিবের পাশে আছেন, অন্যদিকে বনপাড়া পাটোয়ারী ক্লিনিকে রুবিনার চিকিৎসায় তাঁর স্ত্রী নিয়োজিত রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা একদিকে আহত মা-ছেলের চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন, অন্যদিকে তাঁদের সামলাতে হচ্ছে প্রিয়জন হারানোর অসহনীয় শোক। তবে অন্যদের মতো শুধু নিজের আঘাতের যন্ত্রণাই নয়, তাঁর অজান্তে ঘটে গেছে এমন এক বিপর্যয়, যা কেড়ে নিয়েছে তাঁর সাজানো সংসারের দুই প্রিয় মুখ। নির্ধারিত সময়ে তাঁরা না পৌঁছানোয় খোঁজখবর শুরু করেন শহিদুর। যে স্বজনদের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের মধ্যেই দুজন আর ফিরবেন না—এ খবর মেনে নেয়া তাঁর জন্যও কঠিন।

  1. রাজশাহীতে পৌঁছে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দের সময় কাটানোর পরিকল্পনা মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়; পথেই বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ হারান শহিদুল ইসলাম।
  2. এই দুর্ঘটনায় আট বছর বয়সী মেয়ে তাছফিয়া খাতুনও ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে।
  3. গুরুতর আহত রুবিনা আক্তার ও তাঁর ছেলে লাবিব হোসেন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
  4. হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রুবিনা বারবার তাঁর স্বামী ও সন্তানদের খোঁজ করছেন, কিন্তু তিনি এখনো তাঁর আপনজন হারানোর ভয়াবহ খবরটি জানেন না।
আপলোডকারীর তথ্য

শাহজালাল বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত ১২ উড়োজাহাজ নিয়ে বিপাকে বেবিচক

নাটোর সড়ক দুর্ঘটনা: স্বজন হারানো রুবিনা এখনো অজানা শোকে

আপডেট সময় ০৬:৩৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তথ্যগত ভুলের কারণে নিহতের সংখ্যা ১৪ বলা হলেও, পরে যাচাই-বাছাই শেষে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম ১২ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ চলাকালীন মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও বর্তমানে তা স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। একই ঘটনায় তার প্রিয় দুইজন ব্যক্তি ছাড়া আরও ১০ জন নিহত হয়েছেন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সবকিছু এলোমেলো করে দিল।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শহিদুল ইসলাম (৪০) ও তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে তাছফিয়া খাতুন। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের বাসিন্দা রুবিনা আক্তার (৩৬) তাঁর স্বামী শহিদুল ও দুই সন্তানকে নিয়ে পূজার ছুটিতে বড় বোনের বাসায় রাজশাহীতে যাচ্ছিলেন। রুবিনা নিজে পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং তাঁর স্বামী শহিদুল ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার ক্রেডিট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিছুদিন আগেই এই দম্পতি ওমরাহ পালন করে ফিরেছিলেন। পথেই বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল স্বামী শহিদুল ইসলাম (৪০) ও মেয়ে তাছফিয়া খাতুনের (৮)। শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও বারবার জানতে চাইছেন, তাঁর স্বামী ও সন্তানেরা কোথায়।

দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় রুবিনা ও তাঁর ছেলে লাবিব হোসেনকে (১০) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে রুবিনা তাঁর স্বামী ও সন্তানদের খোঁজ করছেন, কিন্তু স্বজনেরা এখনো তাঁকে স্বামী ও মেয়ের মৃত্যুর দুঃসংবাদটি জানাননি। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রা মুহূর্তে পরিণত হলো বিষাদে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই থেমে যায় তাঁদের যাত্রা। স্বামী ও মেয়েকে হারিয়ে রুবিনার জীবনে নেমে আসে এক অপূরণীয় শূন্যতা—যে শূন্যতার কথা তিনি এখনো জানেন না। তিনি জানেন না, তাঁর জীবনের সবচেয়ে আপন দুজন আর বেঁচে নেই। যে পূজার ছুটিতে পরিবারের সবাই মিলে আনন্দে কাটানোর কথা ছিল কয়েকটি দিন, সেই ছুটিই রুবিনার পরিবারের জন্য হয়ে উঠল চিরবেদনার স্মৃতি। অথচ সেই অপেক্ষার শেষ কোথায়, তা জানেন তাঁর চারপাশের মানুষ—শুধু জানেন না রুবিনা নিজেই।

রুবিনার ভগ্নিপতি ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা শহিদুর রহমান জানান, রাজশাহীর বাসায় তাদের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের সব আনন্দ নিমেষেই বিষাদে রূপ নিয়েছে। তিনি বর্তমানে নাটোর সদর হাসপাতালে লাবিবের পাশে আছেন, অন্যদিকে বনপাড়া পাটোয়ারী ক্লিনিকে রুবিনার চিকিৎসায় তাঁর স্ত্রী নিয়োজিত রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা একদিকে আহত মা-ছেলের চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন, অন্যদিকে তাঁদের সামলাতে হচ্ছে প্রিয়জন হারানোর অসহনীয় শোক। তবে অন্যদের মতো শুধু নিজের আঘাতের যন্ত্রণাই নয়, তাঁর অজান্তে ঘটে গেছে এমন এক বিপর্যয়, যা কেড়ে নিয়েছে তাঁর সাজানো সংসারের দুই প্রিয় মুখ। নির্ধারিত সময়ে তাঁরা না পৌঁছানোয় খোঁজখবর শুরু করেন শহিদুর। যে স্বজনদের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের মধ্যেই দুজন আর ফিরবেন না—এ খবর মেনে নেয়া তাঁর জন্যও কঠিন।

  1. রাজশাহীতে পৌঁছে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দের সময় কাটানোর পরিকল্পনা মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়; পথেই বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ হারান শহিদুল ইসলাম।
  2. এই দুর্ঘটনায় আট বছর বয়সী মেয়ে তাছফিয়া খাতুনও ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে।
  3. গুরুতর আহত রুবিনা আক্তার ও তাঁর ছেলে লাবিব হোসেন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
  4. হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রুবিনা বারবার তাঁর স্বামী ও সন্তানদের খোঁজ করছেন, কিন্তু তিনি এখনো তাঁর আপনজন হারানোর ভয়াবহ খবরটি জানেন না।