ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী: স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দিলে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে যদি স্বৈরাচারকে পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তা হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ গঠনমূলক সমালোচনা করবে এটাই স্বাভাবিক, তবে পুরনো ‘বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা’ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। এর আগে আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জনগণের রায় নিয়ে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এবং অন্য দলগুলো বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। গণতন্ত্রের চর্চায় মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু দেশের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো মৌলিক জাতীয় বিষয়ে সবাইকে একমত হতে হবে। সরকারি দল হোক কিংবা বিরোধী দল—উভয়ই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, এই বোধ থেকেই রাজনীতির মূল লক্ষ্য নির্ধারণ হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার চেষ্টা করছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে। জনগণের ভোট নিয়ে আপনারা যেমন বিরোধী দলের আসনে বসেছেন, আমরাও জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। পরিবেশ দূষণ ও অপরিচ্ছন্নতা মানুষের রোগব্যাধি বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলেও তা যথাযথভাবে পালনে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানাতে সরকার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দূরত্ব থাকলেও এই শহীদ পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল তাদের। জুলাইয়ের আত্মত্যাগী যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অর্থই হলো তাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সংবিধান সংস্কার বা অন্য কোনো জাতীয় বিষয়ে সংসদে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই হবে প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন, সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব অবস্থান ও বক্তব্য থাকতে পারে। এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যই জনগণ তাঁদের সংসদে পাঠিয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নকাজের পাশাপাশি বিদ্যমান গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে স্থাপত্য ও অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে।

২৩ একর আয়তনের এই ঐতিহাসিক উদ্যানটির উন্নয়নে প্রকৃতির ক্ষতি যেন ন্যূনতম হয়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রকৃতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকতে হবে।

আধুনিক এই উদ্যানে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণ-শৌচাগার, পার্কিং সুবিধা এবং জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য এখানে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে।

পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আবাসস্থল পরিদর্শনের সময় তিনি অনেক ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার অভাব দেখেছেন। তিনি সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যসেবায় সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা যুক্ত, তাদের নিজেদের আচরণেই পরিচ্ছন্নতার দৃষ্টান্ত থাকা উচিত। এ সময় তিনি উদ্যানসংলগ্ন গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন।

শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, এর সামনে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক স্থাপন করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভটির বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে। এসব ভাস্কর্যে ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। এসব ভাস্কর্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাইয়ের আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারগুলোর কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনে সরকার ধাপে ধাপে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করবে, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারবে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা এ সময় অংশ নেন।

আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রী: স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দিলে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের

আপডেট সময় ০৪:২৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে যদি স্বৈরাচারকে পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তা হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ গঠনমূলক সমালোচনা করবে এটাই স্বাভাবিক, তবে পুরনো ‘বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা’ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। এর আগে আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জনগণের রায় নিয়ে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এবং অন্য দলগুলো বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। গণতন্ত্রের চর্চায় মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু দেশের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো মৌলিক জাতীয় বিষয়ে সবাইকে একমত হতে হবে। সরকারি দল হোক কিংবা বিরোধী দল—উভয়ই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, এই বোধ থেকেই রাজনীতির মূল লক্ষ্য নির্ধারণ হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার চেষ্টা করছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে। জনগণের ভোট নিয়ে আপনারা যেমন বিরোধী দলের আসনে বসেছেন, আমরাও জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। পরিবেশ দূষণ ও অপরিচ্ছন্নতা মানুষের রোগব্যাধি বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলেও তা যথাযথভাবে পালনে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানাতে সরকার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দূরত্ব থাকলেও এই শহীদ পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল তাদের। জুলাইয়ের আত্মত্যাগী যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অর্থই হলো তাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সংবিধান সংস্কার বা অন্য কোনো জাতীয় বিষয়ে সংসদে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই হবে প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন, সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব অবস্থান ও বক্তব্য থাকতে পারে। এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যই জনগণ তাঁদের সংসদে পাঠিয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নকাজের পাশাপাশি বিদ্যমান গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে স্থাপত্য ও অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে।

২৩ একর আয়তনের এই ঐতিহাসিক উদ্যানটির উন্নয়নে প্রকৃতির ক্ষতি যেন ন্যূনতম হয়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রকৃতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকতে হবে।

আধুনিক এই উদ্যানে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণ-শৌচাগার, পার্কিং সুবিধা এবং জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য এখানে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে।

পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আবাসস্থল পরিদর্শনের সময় তিনি অনেক ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার অভাব দেখেছেন। তিনি সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যসেবায় সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা যুক্ত, তাদের নিজেদের আচরণেই পরিচ্ছন্নতার দৃষ্টান্ত থাকা উচিত। এ সময় তিনি উদ্যানসংলগ্ন গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন।

শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, এর সামনে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক স্থাপন করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভটির বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে। এসব ভাস্কর্যে ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। এসব ভাস্কর্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাইয়ের আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারগুলোর কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনে সরকার ধাপে ধাপে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করবে, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারবে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা এ সময় অংশ নেন।