শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল-নূর মোহাম্মদ আয়াস ও তার এক সহযোগীর জামিন শুনানি চলাকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জানান, রিমান্ড শেষে আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল। এ সময় তাদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
শুনানিকালে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, পলাতক আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলায় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন দাবি করেন, মামলাটি অসত্য এবং আসামিদের মূল বক্তব্য ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। অসুস্থ আয়াস ও এক সন্তানের জননী রিমির জামিন প্রার্থনা করেন তিনি। আসামি আয়াস অসুস্থ এবং মারজিয়ার একটি বাচ্চা আছে। দেয়ালে ভারতীয় শিল্পীদের ছবি থাকায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আজ সাত মাস তারা সরকারের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে যথেষ্ট গালাগালি দিয়েছে। তারা এই জেনারেশনকে (প্রজন্মকে) খারাপ করছে। তারা মনে করে, গালাগালি করলেই ভাইরাল হওয়া যাবে। তারা ভালোভাবে কথা বলুক, বক্তৃতা দিক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এই জামিনের বিরোধিতা করে অভিযোগ করেন, আসামিরা অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে উসকানি দিতেই রবীন্দ্রনাথের মুখে কালি দেওয়া হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার হন আল মহসিন তৌহিদ নামের এক আইনজীবী এবং তার শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে বিচারক মো. রিয়াদ হাসান এজলাস ছেড়ে নিজের খাসকামরায় চলে যান। পরে দুই পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে পাঁচ মিনিট পর বিচারক এজলাসে ফিরে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জামিন শুনানিকালে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে বিকাল ৪টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান এজলাস ছেড়ে নিজের খাসকামরায় চলে যান। এখানে হঠাৎ করে কেন পাকিস্তান, জিন্নাহ—এসব বিষয় আসবে।
গত ১০ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার সময় আয়াসসহ চারজনকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ বাদী হয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করে এবং পরদিন আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















