ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিমসটেকভুক্ত সাত দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বৈঠকে সশরীরে যোগ দিচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবে। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিমসটেক সচিবালয়ে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নাম জানানো হয়, যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম রাখা হয়নি। আগামী ১২ ও ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিমসটেকের অপর ছয়টি সদস্য দেশ ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রীরা এই আয়োজনে অংশ নেবেন বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। দিল্লির একাধিক সূত্র এমনই আভাস দিয়েছে।
সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও মানব পাচার রোধ, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনার এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্ব পাবে। ২০১৮ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত জোটের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দীর্ঘ আট বছর পর এটি প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা বিমসটেকের সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জোটটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বিমসটেকের সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

















