ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন সংস্কার সম্পন্ন, প্রয়োজন সরঞ্জাম

মিরপুর-১ এ অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ভবনটি নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। হামলা ও ভাঙচুরের ক্ষত কাটিয়ে ভবনটির দরজা-জানালা পরিবর্তন, দেয়াল মেরামত এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আকাশি নীল ও সাদা রঙে নতুনভাবে রাঙানো এই ভবনে এখন বৈদ্যুতিক পাখা ও স্বচ্ছ কাচের জানালা লাগানো হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকের ভেতরে টিনের ছাউনি তৈরি করা হয়েছে এবং কর্মীদের খাবারের ঘর সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া পানির নতুন সংযোগ স্থাপন এবং কক্ষগুলোতে নতুন পর্দা ঝোলানো হয়েছে। ভবনের সামনের ও পেছনের ভাঙা দেয়াল নতুনভাবে ইটের গাঁথুনি দিয়ে নির্মাণ করে প্লাস্টার করা হয়েছে। কক্ষগুলোর দরজা–জানালায় ঝুলছে নতুন পর্দা।

ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী হলেও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালুর পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আসবাব ও সরঞ্জামের অভাব। চিকিৎসকদের কক্ষ, রোগ নির্ণয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাব এখনো সংগ্রহ করতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে রাড্ডার মিরপুর-১০ কেন্দ্র থেকে কিছু পুরোনো আসবাব এনে আপাতত কাজ চালিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানিয়েছেন, সংস্কারকাজ শেষ হওয়া ইতিবাচক হলেও সেবা কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করতে আরও সরঞ্জাম প্রয়োজন। লুট হওয়া মালামালগুলোর মধ্যে যা উদ্ধার হয়েছে, সেগুলোর উপযোগিতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। পর্যায়ক্রমে মায়েদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়ার কাজও শুরু হয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশি অস্ত্রসহ প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে রাখে। এরপর ওষুধ, টিকা ও মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করা হয় এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কেন্দ্রটির স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানারে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টাঙিয়ে ইপিআই টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়, যা পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে কক্ষ পরিষ্কার করে পুনরায় চালু করা হয়।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সংস্কারকাজ তত্ত্বাবধান করেছেন। তিনি জানান, দেশের বাইরে অবস্থানকালেই ঘটনার খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেশে ফিরে তিনি দ্রুততার সাথে দেয়াল, বিদ্যুৎ, পানি ও দরজা-জানালার সংস্কার নিশ্চিত করেন। শনিবার বিকেলে কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাড্ডা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। আমিনুল হক বলেন, এটি মা ও শিশুর সেবা নিশ্চিত করার একটি প্রতিষ্ঠান। শৈশবে মায়ের সঙ্গে নিজের এখানে টিকা নেওয়ার স্মৃতি থেকে তিনি এটিকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। সেই সঙ্গে তিনি এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

দীর্ঘদিন ধরে এখানে কর্মরতদের জন্য এই সংস্কার এক বিশেষ স্বস্তি বয়ে এনেছে। ১৯৮৯ সাল থেকে টানা ৩৭ বছর এই কেন্দ্রে কাজ করা নিরাপত্তা প্রহরী হাবিব হাওলাদার বলেন, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। বরিশাল থেকে এসে এই কেন্দ্রে কাজ শুরু করেছিলেন এবং এখানকার আয়েই তার সন্তানদের বড় করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই কেন্দ্রই আমার পরিবারের সব। ভাঙচুরের পর এখন আবার সেবা কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি ভেবে ভালো লাগছে।’ হাবিব বলেন, ‘যখন এই কেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছিল, তখন খুব খারাপ লেগেছিল। আবার ভাঙচুরের কারণে সেবা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে কারও কারও মধ্যে সংশয়ও রয়েছে। বরিশাল থেকে এসে এখানেই প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম।

১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কেন্দ্রটি গত পাঁচ দশক ধরে মিরপুরের নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। এখন ভবন সংস্কারের পর প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করতে পারলেই এখানে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের

মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন সংস্কার সম্পন্ন, প্রয়োজন সরঞ্জাম

আপডেট সময় ০৪:২০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

মিরপুর-১ এ অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ভবনটি নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। হামলা ও ভাঙচুরের ক্ষত কাটিয়ে ভবনটির দরজা-জানালা পরিবর্তন, দেয়াল মেরামত এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আকাশি নীল ও সাদা রঙে নতুনভাবে রাঙানো এই ভবনে এখন বৈদ্যুতিক পাখা ও স্বচ্ছ কাচের জানালা লাগানো হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকের ভেতরে টিনের ছাউনি তৈরি করা হয়েছে এবং কর্মীদের খাবারের ঘর সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া পানির নতুন সংযোগ স্থাপন এবং কক্ষগুলোতে নতুন পর্দা ঝোলানো হয়েছে। ভবনের সামনের ও পেছনের ভাঙা দেয়াল নতুনভাবে ইটের গাঁথুনি দিয়ে নির্মাণ করে প্লাস্টার করা হয়েছে। কক্ষগুলোর দরজা–জানালায় ঝুলছে নতুন পর্দা।

ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী হলেও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালুর পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আসবাব ও সরঞ্জামের অভাব। চিকিৎসকদের কক্ষ, রোগ নির্ণয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাব এখনো সংগ্রহ করতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে রাড্ডার মিরপুর-১০ কেন্দ্র থেকে কিছু পুরোনো আসবাব এনে আপাতত কাজ চালিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানিয়েছেন, সংস্কারকাজ শেষ হওয়া ইতিবাচক হলেও সেবা কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করতে আরও সরঞ্জাম প্রয়োজন। লুট হওয়া মালামালগুলোর মধ্যে যা উদ্ধার হয়েছে, সেগুলোর উপযোগিতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। পর্যায়ক্রমে মায়েদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়ার কাজও শুরু হয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশি অস্ত্রসহ প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে রাখে। এরপর ওষুধ, টিকা ও মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করা হয় এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কেন্দ্রটির স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানারে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টাঙিয়ে ইপিআই টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়, যা পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে কক্ষ পরিষ্কার করে পুনরায় চালু করা হয়।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সংস্কারকাজ তত্ত্বাবধান করেছেন। তিনি জানান, দেশের বাইরে অবস্থানকালেই ঘটনার খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেশে ফিরে তিনি দ্রুততার সাথে দেয়াল, বিদ্যুৎ, পানি ও দরজা-জানালার সংস্কার নিশ্চিত করেন। শনিবার বিকেলে কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাড্ডা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। আমিনুল হক বলেন, এটি মা ও শিশুর সেবা নিশ্চিত করার একটি প্রতিষ্ঠান। শৈশবে মায়ের সঙ্গে নিজের এখানে টিকা নেওয়ার স্মৃতি থেকে তিনি এটিকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। সেই সঙ্গে তিনি এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

দীর্ঘদিন ধরে এখানে কর্মরতদের জন্য এই সংস্কার এক বিশেষ স্বস্তি বয়ে এনেছে। ১৯৮৯ সাল থেকে টানা ৩৭ বছর এই কেন্দ্রে কাজ করা নিরাপত্তা প্রহরী হাবিব হাওলাদার বলেন, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। বরিশাল থেকে এসে এই কেন্দ্রে কাজ শুরু করেছিলেন এবং এখানকার আয়েই তার সন্তানদের বড় করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই কেন্দ্রই আমার পরিবারের সব। ভাঙচুরের পর এখন আবার সেবা কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি ভেবে ভালো লাগছে।’ হাবিব বলেন, ‘যখন এই কেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছিল, তখন খুব খারাপ লেগেছিল। আবার ভাঙচুরের কারণে সেবা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে কারও কারও মধ্যে সংশয়ও রয়েছে। বরিশাল থেকে এসে এখানেই প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম।

১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কেন্দ্রটি গত পাঁচ দশক ধরে মিরপুরের নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। এখন ভবন সংস্কারের পর প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করতে পারলেই এখানে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।