ঢাকা ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর পাবনা জেলার ১৮৯ তম ‘জন্মদিন’ আজ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১৬ অক্টোবর দেশের অন্যতম প্রাচীনতম জেলা ইতিহাস আর ঐতিহ্যে ভরপুর পাবনা’র ‘জন্মদিন’। এর মাধ্যমে পাবনা জেলার বয়স বেড়ে দাঁড়ালো ১৮৯ বছর-এ। ১৮২৮ সালের ১৬ অক্টোবর পাবনাকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৯০ সালে বর্তমান পাবনা জেলার বেশীরভাগ অংশ রাজশাহী জেলার একটি থানা হিসাবে ছিলো। ওই সময় জেলার আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য ১৮২৮ সালে পাবনায় তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ম্যাজিষ্ট্রেট মি. এ ডাব্লিউ মিল্সকে জয়েন্ট ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ করা হয়।

১৮২৮ সালের ১৬ অক্টোবর পাবনাকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর চারবছর পর ১৮৩২ সালে জয়েন্ট ম্যাজিষ্ট্রেটের পরিবর্তে ডেপুটি কালেক্টর নিয়োগের মাধ্যমে পাবনা পায় পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা। কোম্পানী শাষনের অবসানের পর ১৮৫৮ সালে বৃটিশ সম্রাজ্ঞী রাণী ভিক্টোরিয়ার শাষনাধীনে চলে যায় পাবনা জেলা। এর আগে ১৮৫৫ সালে ময়মনসিংহ জেলা থেকে সিরাজগঞ্জ থানাকে পৃথক করে পাবনা জেলার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

১৮৭৮ সালের ১৯ জানুয়ারী জেলায় প্রথম রেলপথ স্থাপিত হয়। প্রথম মোটর সার্ভিসের প্রবর্তন করা হয় ১৯২৬ সালে। ১৯৪০ সালের পর পাবনা শহরে রিকশার প্রচলন ঘটে। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন সহ সবক‘টি আন্দোলন সংগ্রামে পাবনা জেলার রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। হোসিয়ারী শিল্প, তাঁত শিল্প, কাঁচি শিল্প, বেনারসি-কাতান সহ অন্যান্য শিল্প সমৃদ্ধ এই জেলা একসময়ে ছিল দেশের অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র।

৩৫১ দশমিক ৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট পাবনা জেলা বর্তমানে ৯টি উপজেলা, দু’টি থানা ও ৭২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ২০১১ সালের আদম শুমারীর চুড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পাবনা জেলার বর্তমান মোট জনসংখ্যা ২৫ লাখ ২৩ হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৬২ হাজার ৯৩৪ জন এবং মহিলা ১২ লাখ ৬০ হাজার ২৪৫।

জেলা গঠনের ১৮০ বছর পর ২০০৮ সালে ‘আজকের প্রজন্ম ফোরাম’ নামের কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথম পাবনা জেলার জন্মদিন পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে কখনো কোনো সংগঠন’র পক্ষ থেকে এ ধরণের আয়োজন’র কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, ১৮৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী পাবনা এখন শিক্ষা নগরী শিল্প নগরী হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। এম মনসুর আলী, আমজাদ হোসেন, আব্দুর রব বগা মিয়া, আলহাজ আবু তালেব খন্দকার সহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক পাবনার মাটিতে যারা শুয়ে আছেন, যাদের মৃত্যু হয়েছে আমি তাদেরকে আজকের এইদিনে স্মরণ করছি। আমরা পাবনাকে ভালোবাসি। পাবনার মানুষ নিরাপদ ও শান্তিতে বসবাস করুক আজকের দিনে এটাই প্রত্যাশা করছি।

পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, পাবনাবাসীর জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীন আমাদের এই জেলার জন্ম হয়েছিলো আজ থেকে ১৮৯ বছর আগে। সেদিক থেকে পাবনা ঐতিহ্যবাহী এই জেলায় অনেক কবি বন্দে আলী মিয়া, কবি ওমর আলী বারীণ মজুমদার সহ সাহিত্য সংস্কৃতিতে অনেক কালজয়ী ব্যক্তির জন্ম হয়েছে এই জেলায়।

জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, পাবনা একটি অতি পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহি জেলা। ১৮২৮ সালে জন্ম নেয়া এই জেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল, বিশিষ্ট শিল্পদ্যোক্তা প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরী সহ বহু গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে। আমি এ জেলায় জন্মগ্রহন করে নিজেকে গর্ব বোধ করি। এই জেলার মানুষ আগামীতে সুখে থাকুক এবং জেলার আরো উন্নয়ন ঘটুক আজকের দিনে এটাই প্রতাশা করছি।

বিশিষ্ট গবেষক ড. এম আব্দুল আলীম বলেন, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পাবনা জেলা ইতিমধ্যে দেশে এবং বিদেশে শিক্ষানগরী হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমার বিশ্বাস এই জেলা শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আরো সমৃদ্ধি লাভ করবে এবং সারা দুনিয়ায় শিক্ষা নগরী হিসাবে পাবনা জেলায় পরিচিতি লাভ করবে।

‘পাবনা’ নামকরণ যেভাবে : রাধারমন সাহা তার ‘পাবনা জেলার ইতিহাস’ গ্রন্থে পদ্মার অববাহিকা ‘পাবনী’ হতে পাবনা’র নামকরণ হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ফরাসি শব্দ ‘পানবহ’ এর অভিধানিক অর্থ তুলা বা তুলাজাত দ্রব্য। তন্তবায়ী বা তাঁতীর সংখ্যাধিক্য ছিল এই জেলায় প্রাচীনকাল থেকেই। এই সব তন্তবায়ীরা তুলা বা তুলাজাত দ্রব্য থেকেই কাগজ তৈরী করত। এই জাতিবাচক শব্দ ‘পানবহ’ থেকে পাবনা শব্দের উৎপত্তি ঘটেছে বলে অনেকে মনে করেন।

ইতিহাস সুত্রে আলোচনা করলে পাওয়া যায়, প্রাচীন জনপদ পুন্ড্রবর্ধনের নামকরণ হয়েছিল ভূতপূর্ব বাঙ্গালা রাজ্যের সামন্ত রাজা পুন্ড্রবর্ধনের নামানুসারে। এর উপরাজ্যে এলাকা পান্ডবভুমি হিসেবে খ্যাত। তার কেন্দ্রস্থল ছিল পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগর। অনেকে মনে করেন, প্রাচীন জনপদ পুন্ড্রবর্ধন বা পুন্ড্রনগর থেকে পাবনা নামের উৎপত্তি ঘটেছে।

আবার কেউ কেউ বলেন, পুন্ড্রবর্ধনের বংশধর রাজা জয়বর্ধনের আমলে পাবনা শহরের পাঁচ মাথা দূর্গামন্দির (বর্তমানে সোনাপট্রি) স্থানে পান্ডবভুমির একটি সাব-কাচারী বাড়ি প্রতিষ্ঠা পায়। পান্ডব প্রশাসনের বৈঠকখানা কেন্দ্রিক একটি জনপদ গড়ে উঠলে স্থানটির নামকরণ হয় পান্ডবখানা। উচ্চারনের সুবিধার্থে কালক্রমে `পান্ডবখানা` শব্দদ্বয় থেকে ‘ন্ড’ এবং ‘খা’ বর্ণগুলো লোপ পেয়ে কালের বিবর্তনে ‘পাবনা’ এ রূপান্তর হয়।

সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত ‘রামচিত্র’ গ্রন্থে ‘পদুবম্বা’ নামে একটি সামন্তরাজ্যের উল্লেখ দেখা যায়। রাজ্যটির রাজা সোম সম্ভবত পাল রাজাদের সামন্তরাজা ছিলেন। ‘পদুবম্বা’ নামে প্রাচীন রাজ্যটির প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে ভিন্নমত থাকলেও হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বর্তমান পাবনার এই জনপদটিকেই প্রাচীন ‘পদুবম্বা’ রাজ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং সামন্তরাজ্য ‘পদুবম্বা’ থেকে পাবনা নামের উৎপত্তি ঘটেছে এ মতও অনেকে পোষণ করে থাকেন। কারো মতে, কিংবদন্তী তুল্য দুর্ধর্ষ ডাকাত ‘পবন’ এর নামানুসারে ‘পাবনা’ এর নামকরণ হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর পাবনা জেলার ১৮৯ তম ‘জন্মদিন’ আজ

আপডেট সময় ১২:৪৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১৬ অক্টোবর দেশের অন্যতম প্রাচীনতম জেলা ইতিহাস আর ঐতিহ্যে ভরপুর পাবনা’র ‘জন্মদিন’। এর মাধ্যমে পাবনা জেলার বয়স বেড়ে দাঁড়ালো ১৮৯ বছর-এ। ১৮২৮ সালের ১৬ অক্টোবর পাবনাকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৯০ সালে বর্তমান পাবনা জেলার বেশীরভাগ অংশ রাজশাহী জেলার একটি থানা হিসাবে ছিলো। ওই সময় জেলার আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য ১৮২৮ সালে পাবনায় তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ম্যাজিষ্ট্রেট মি. এ ডাব্লিউ মিল্সকে জয়েন্ট ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ করা হয়।

১৮২৮ সালের ১৬ অক্টোবর পাবনাকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর চারবছর পর ১৮৩২ সালে জয়েন্ট ম্যাজিষ্ট্রেটের পরিবর্তে ডেপুটি কালেক্টর নিয়োগের মাধ্যমে পাবনা পায় পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা। কোম্পানী শাষনের অবসানের পর ১৮৫৮ সালে বৃটিশ সম্রাজ্ঞী রাণী ভিক্টোরিয়ার শাষনাধীনে চলে যায় পাবনা জেলা। এর আগে ১৮৫৫ সালে ময়মনসিংহ জেলা থেকে সিরাজগঞ্জ থানাকে পৃথক করে পাবনা জেলার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

১৮৭৮ সালের ১৯ জানুয়ারী জেলায় প্রথম রেলপথ স্থাপিত হয়। প্রথম মোটর সার্ভিসের প্রবর্তন করা হয় ১৯২৬ সালে। ১৯৪০ সালের পর পাবনা শহরে রিকশার প্রচলন ঘটে। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন সহ সবক‘টি আন্দোলন সংগ্রামে পাবনা জেলার রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। হোসিয়ারী শিল্প, তাঁত শিল্প, কাঁচি শিল্প, বেনারসি-কাতান সহ অন্যান্য শিল্প সমৃদ্ধ এই জেলা একসময়ে ছিল দেশের অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র।

৩৫১ দশমিক ৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট পাবনা জেলা বর্তমানে ৯টি উপজেলা, দু’টি থানা ও ৭২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ২০১১ সালের আদম শুমারীর চুড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পাবনা জেলার বর্তমান মোট জনসংখ্যা ২৫ লাখ ২৩ হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৬২ হাজার ৯৩৪ জন এবং মহিলা ১২ লাখ ৬০ হাজার ২৪৫।

জেলা গঠনের ১৮০ বছর পর ২০০৮ সালে ‘আজকের প্রজন্ম ফোরাম’ নামের কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথম পাবনা জেলার জন্মদিন পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে কখনো কোনো সংগঠন’র পক্ষ থেকে এ ধরণের আয়োজন’র কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, ১৮৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী পাবনা এখন শিক্ষা নগরী শিল্প নগরী হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। এম মনসুর আলী, আমজাদ হোসেন, আব্দুর রব বগা মিয়া, আলহাজ আবু তালেব খন্দকার সহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক পাবনার মাটিতে যারা শুয়ে আছেন, যাদের মৃত্যু হয়েছে আমি তাদেরকে আজকের এইদিনে স্মরণ করছি। আমরা পাবনাকে ভালোবাসি। পাবনার মানুষ নিরাপদ ও শান্তিতে বসবাস করুক আজকের দিনে এটাই প্রত্যাশা করছি।

পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, পাবনাবাসীর জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীন আমাদের এই জেলার জন্ম হয়েছিলো আজ থেকে ১৮৯ বছর আগে। সেদিক থেকে পাবনা ঐতিহ্যবাহী এই জেলায় অনেক কবি বন্দে আলী মিয়া, কবি ওমর আলী বারীণ মজুমদার সহ সাহিত্য সংস্কৃতিতে অনেক কালজয়ী ব্যক্তির জন্ম হয়েছে এই জেলায়।

জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, পাবনা একটি অতি পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহি জেলা। ১৮২৮ সালে জন্ম নেয়া এই জেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল, বিশিষ্ট শিল্পদ্যোক্তা প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরী সহ বহু গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে। আমি এ জেলায় জন্মগ্রহন করে নিজেকে গর্ব বোধ করি। এই জেলার মানুষ আগামীতে সুখে থাকুক এবং জেলার আরো উন্নয়ন ঘটুক আজকের দিনে এটাই প্রতাশা করছি।

বিশিষ্ট গবেষক ড. এম আব্দুল আলীম বলেন, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পাবনা জেলা ইতিমধ্যে দেশে এবং বিদেশে শিক্ষানগরী হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমার বিশ্বাস এই জেলা শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আরো সমৃদ্ধি লাভ করবে এবং সারা দুনিয়ায় শিক্ষা নগরী হিসাবে পাবনা জেলায় পরিচিতি লাভ করবে।

‘পাবনা’ নামকরণ যেভাবে : রাধারমন সাহা তার ‘পাবনা জেলার ইতিহাস’ গ্রন্থে পদ্মার অববাহিকা ‘পাবনী’ হতে পাবনা’র নামকরণ হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ফরাসি শব্দ ‘পানবহ’ এর অভিধানিক অর্থ তুলা বা তুলাজাত দ্রব্য। তন্তবায়ী বা তাঁতীর সংখ্যাধিক্য ছিল এই জেলায় প্রাচীনকাল থেকেই। এই সব তন্তবায়ীরা তুলা বা তুলাজাত দ্রব্য থেকেই কাগজ তৈরী করত। এই জাতিবাচক শব্দ ‘পানবহ’ থেকে পাবনা শব্দের উৎপত্তি ঘটেছে বলে অনেকে মনে করেন।

ইতিহাস সুত্রে আলোচনা করলে পাওয়া যায়, প্রাচীন জনপদ পুন্ড্রবর্ধনের নামকরণ হয়েছিল ভূতপূর্ব বাঙ্গালা রাজ্যের সামন্ত রাজা পুন্ড্রবর্ধনের নামানুসারে। এর উপরাজ্যে এলাকা পান্ডবভুমি হিসেবে খ্যাত। তার কেন্দ্রস্থল ছিল পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগর। অনেকে মনে করেন, প্রাচীন জনপদ পুন্ড্রবর্ধন বা পুন্ড্রনগর থেকে পাবনা নামের উৎপত্তি ঘটেছে।

আবার কেউ কেউ বলেন, পুন্ড্রবর্ধনের বংশধর রাজা জয়বর্ধনের আমলে পাবনা শহরের পাঁচ মাথা দূর্গামন্দির (বর্তমানে সোনাপট্রি) স্থানে পান্ডবভুমির একটি সাব-কাচারী বাড়ি প্রতিষ্ঠা পায়। পান্ডব প্রশাসনের বৈঠকখানা কেন্দ্রিক একটি জনপদ গড়ে উঠলে স্থানটির নামকরণ হয় পান্ডবখানা। উচ্চারনের সুবিধার্থে কালক্রমে `পান্ডবখানা` শব্দদ্বয় থেকে ‘ন্ড’ এবং ‘খা’ বর্ণগুলো লোপ পেয়ে কালের বিবর্তনে ‘পাবনা’ এ রূপান্তর হয়।

সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত ‘রামচিত্র’ গ্রন্থে ‘পদুবম্বা’ নামে একটি সামন্তরাজ্যের উল্লেখ দেখা যায়। রাজ্যটির রাজা সোম সম্ভবত পাল রাজাদের সামন্তরাজা ছিলেন। ‘পদুবম্বা’ নামে প্রাচীন রাজ্যটির প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে ভিন্নমত থাকলেও হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বর্তমান পাবনার এই জনপদটিকেই প্রাচীন ‘পদুবম্বা’ রাজ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং সামন্তরাজ্য ‘পদুবম্বা’ থেকে পাবনা নামের উৎপত্তি ঘটেছে এ মতও অনেকে পোষণ করে থাকেন। কারো মতে, কিংবদন্তী তুল্য দুর্ধর্ষ ডাকাত ‘পবন’ এর নামানুসারে ‘পাবনা’ এর নামকরণ হয়েছে।