আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
শনিবার দিবাগত গভীর রাত থেকে একটানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি ও পুঞ্চ জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। স্থানীয় নদ-নদীর পানি উপচে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় কয়েক শতাধিক বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, মুষলধারে বৃষ্টির কারণে পুঞ্চ জেলায় বাড়ি ধসে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও ভারী বর্ষণের জেরে রাজৌরি জেলায় ১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
নিখোঁজ মানুষদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পুঞ্চের হাভেলি এলাকায় সাতটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বন্যার সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে রাজৌরি শহরে। নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে তা শহরে ভিতর প্রবেশ করায় একদিকে যেমন সাধারণ জনজীবন ব্যাহত হয়েছে, তেমনি বহু গাড়ি খেলনার মত ভেসে গেছে বা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধার ও ত্রাণ দলগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে এবং একই সঙ্গে কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করছেন।
আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়ার সেই সতর্কবার্তার মধ্যেই এই বন্যা দেখা দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই রাজৌরি জেলায় অবিরাম বৃষ্টিপাত হচ্ছিল এবং এরপর রাতের বেলা প্রবল বর্ষণের ফলে নদী ও নালাগুলোর পানি উপচে পড়ে।
সরকারি বৃষ্টিপাতের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রিয়াসিতে সর্বোচ্চ ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে; এরপর রয়েছে রাজৌরি (১০৩ মিমি), উধমপুর (১০১.৬ মিমি), কাটরা (৮৫ মিমি), পুঞ্চ (৭৭ মিমি) ও বাতোট (৫৭.৫ মিমি)।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে রাজৌরির দারহালি, খান্ডলি, সুকতোহ ও জামোলাসহ প্রধান সব নদীই উত্তাল হয়ে উঠেছে। এগুলোর বেশিরভাগই বিপদসীমার কাছাকাছি বা তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে নিচু এলাকার বেশ কয়েকটি জনপদ প্লাবিত হয়েছে।
বেলা কলোনির কাছে দারহালি নদীর বন্যা-সুরক্ষা দেয়াল ভেঙে যাওয়ায় নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ে; এতে সেখানে থাকা বহু গাড়ি ভেসে যায় অথবা পানির নিচে তলিয়ে যায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল আবদুল্লাহ ব্রিজের কাছের বস্তি এলাকা; সেখানে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় ৫০টিরও বেশি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।
তারিক ব্রিজের নিকটবর্তী এলাকাটিও প্লাবিত হওয়ায় পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা সাহায্যের জন্য আসা একাধিক আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন এবং নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সহায়তা করেছেন।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন কল আসছে, প্রতিটিতে আমাদের টিম সহায়তা করছে। এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো প্রাণহানি রোধ করা। যদিও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরই ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে।’
বন্যার ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় পুলিশ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহলদারি চালাচ্ছে ও মাইকিং চালিয়ে যাচ্ছে; পাশাপাশি নদীর তীর ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনও জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয় ও ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তার জন্য পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে।
শনিবার রাত থেকেই জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ের উপর পর্যবেক্ষণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















