ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ধানাই-পানাই মানব না’:শফিকুর রহমান

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গণভোটের রায় ব্যর্থ হলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে এবং জনগণ সরকারকে ধিক্কার দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, জনগণের ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এ দায়িত্ব আমরা (বিরোধীদল) নেব না। এজন্যই আমাদের লড়াই, আমাদের সংগ্রাম।

রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন চায় না, নির্বাচন কমিশন চায় না। আগের ফ্যাসিবাদী আলোকে সবকিছু রাখতে চায়। এজন্য তারা গণভোটের গণরায় মানতে চায় না। আমরা পরিস্কার বলে দিচ্ছি- এ রায় বাংলার জমিনে বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। ৭০ ভাগ মানুষ যে রায় দিয়েছে, আল্লাহর মেহেরবানীতে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। আমরা সংসদে ও রাজপথে লড়াই করব। দাবি সংসদে আদায় হলে আলহামদুলিল্লাহ, না হলে রাজপথে আন্দোলন করে দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে।

আমিরে জামায়াত বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নাই। কোনো ধানাই পানাই মানবো না। আমাদের অনেক লোভ দেখানো হয়েছে-সব ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি। জনগণের সাথে আমরা বেইমানি করব না। জনগণের রায়কে অপমান করব না। আর যদি গণভোটের রায় ব্যর্থ হয়-জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে। জনগণ ধিক্কার দেবে, সেই ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এ দায়িত্ব আমরা নেব না। এজন্যই আমাদের লড়াই, আমাদের সংগ্রাম।

তিনি বলেন, সরকার এখন স্বৈরশাসকের ভাষায় বিভিন্ন কথা বলছে। তাদের চেলাচামুন্ডারা ও বটবাহিনী মানুষের ইজ্জত নিয়ে খেলে। আবার সেই ফ্যাসিবাদ!

আমীরে জামায়াত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর গণরুম হতে দেওয়া হবে না। গণরুম, গেষ্টরুমের কবর হয়ে গেছে চব্বিশে-সেটা আর ফিরে আসবে না। এখন কেউ ফিরিয়ে আনতে চাইলে তাদেরই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আর এটা হবে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এখনো রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক জায়গায় অনেক কিছু করা হচ্ছে। আমরা চুপচাপ আছি বলে মনে করবেন না ঘুমিয়ে গেছি, সতর্ক করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের স্বার্থের সাথে কোনো আপস হবে না। কোনো অপশক্তির কাছে মাথাও নত করা হবে না। দেশীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক-এটা যাই হোক। যুবকদের প্রত্যাশার, আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার জন্য বাকী জীবনকে আমরা উজার করে দেব। যুবকদের সাথে লড়াই করব। যুবকদের সাথে ও সম্মুখভাগে থেকে মুক্তির আন্দোলন চলবে। এ আন্দোলন কেউ বন্ধ করতে পারবে না- প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ওয়াদা করে গেলাম, বলেন তিনি।

এসময় আমিরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ ডাকসু নেতৃবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্র ও মহানগরীর বিপুল সংখ্যাক নেতা-কর্মী।

পরে আমিরে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে ডাকসু নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ধানাই-পানাই মানব না’:শফিকুর রহমান

আপডেট সময় ১১:২০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গণভোটের রায় ব্যর্থ হলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে এবং জনগণ সরকারকে ধিক্কার দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, জনগণের ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এ দায়িত্ব আমরা (বিরোধীদল) নেব না। এজন্যই আমাদের লড়াই, আমাদের সংগ্রাম।

রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন চায় না, নির্বাচন কমিশন চায় না। আগের ফ্যাসিবাদী আলোকে সবকিছু রাখতে চায়। এজন্য তারা গণভোটের গণরায় মানতে চায় না। আমরা পরিস্কার বলে দিচ্ছি- এ রায় বাংলার জমিনে বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। ৭০ ভাগ মানুষ যে রায় দিয়েছে, আল্লাহর মেহেরবানীতে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। আমরা সংসদে ও রাজপথে লড়াই করব। দাবি সংসদে আদায় হলে আলহামদুলিল্লাহ, না হলে রাজপথে আন্দোলন করে দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে।

আমিরে জামায়াত বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নাই। কোনো ধানাই পানাই মানবো না। আমাদের অনেক লোভ দেখানো হয়েছে-সব ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি। জনগণের সাথে আমরা বেইমানি করব না। জনগণের রায়কে অপমান করব না। আর যদি গণভোটের রায় ব্যর্থ হয়-জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে। জনগণ ধিক্কার দেবে, সেই ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এ দায়িত্ব আমরা নেব না। এজন্যই আমাদের লড়াই, আমাদের সংগ্রাম।

তিনি বলেন, সরকার এখন স্বৈরশাসকের ভাষায় বিভিন্ন কথা বলছে। তাদের চেলাচামুন্ডারা ও বটবাহিনী মানুষের ইজ্জত নিয়ে খেলে। আবার সেই ফ্যাসিবাদ!

আমীরে জামায়াত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর গণরুম হতে দেওয়া হবে না। গণরুম, গেষ্টরুমের কবর হয়ে গেছে চব্বিশে-সেটা আর ফিরে আসবে না। এখন কেউ ফিরিয়ে আনতে চাইলে তাদেরই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আর এটা হবে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এখনো রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক জায়গায় অনেক কিছু করা হচ্ছে। আমরা চুপচাপ আছি বলে মনে করবেন না ঘুমিয়ে গেছি, সতর্ক করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের স্বার্থের সাথে কোনো আপস হবে না। কোনো অপশক্তির কাছে মাথাও নত করা হবে না। দেশীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক-এটা যাই হোক। যুবকদের প্রত্যাশার, আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার জন্য বাকী জীবনকে আমরা উজার করে দেব। যুবকদের সাথে লড়াই করব। যুবকদের সাথে ও সম্মুখভাগে থেকে মুক্তির আন্দোলন চলবে। এ আন্দোলন কেউ বন্ধ করতে পারবে না- প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ওয়াদা করে গেলাম, বলেন তিনি।

এসময় আমিরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ ডাকসু নেতৃবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্র ও মহানগরীর বিপুল সংখ্যাক নেতা-কর্মী।

পরে আমিরে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে ডাকসু নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন।