ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছার অঙ্গীকার’ ইলিশ রপ্তানির সক্ষমতা বাড়াতে হবে: কৃষিমন্ত্রী ‘২০২৮ সালের মধ্যে সব প্রাথমিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা হবে’ জিয়াউলের মামলায় আমরা বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছি: চিফ প্রসিকিউটর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, সরকার সব সময় তৎপর থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভ্যতা ও নদী রক্ষায় পরিবেশ সুরক্ষার বিকল্প নেই: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী নাশকতার আশঙ্কা: ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু

খাল রক্ষা না করলে বসবাসের অযোগ্য হবে ঢাকা: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, নগরবাসীর স্বার্থেই রাজধানীর খালগুলোকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। খাল রক্ষা না করলে বসবাসের অযোগ্য হবে ঢাকা। খাল দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর মুসলিম বাজার খাল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, খাল ও জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা একটি চলমান প্রক্রিয়া। দীর্ঘ ১৯ বছর আন্তরিকতার সঙ্গে এ কাজ না হওয়ায় অনেক খাল ও জলাশয় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিদর্শনের আগে তিনি হাতিরঝিল এলাকায় চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন।

তিনি বলেন, হাতিরঝিল নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এর অবস্থা এমন হয়েছে যে, মানুষের বিনোদনের জন্য সেখানে যাওয়ার পরিবেশ নেই। আমরা অচিরেই হাতিরঝিলকে একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তর করব। সেখানে লাইটিং, বসার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৫৬টি খাল রয়েছে। বর্ষা মৌসুম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বিবেচনায় নিয়ে ছোট-বড় সব খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে খালের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং খালের সীমানা নির্ধারণ (ডিমার্কেশন) করা হবে।

তিনি বলেন, খালগুলোকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। ২৭ ও ২৯টি খাল উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রয়েছে। এগুলো সংরক্ষণ ও সচল রাখা না গেলে ভবিষ্যতে এই নগরী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা খাল পরিষ্কার করছি, কিন্তু অনেকেই আবার খালে ময়লা ফেলছেন। বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত স্থান রয়েছে। সেখানে বর্জ্য ফেললে সিটি করপোরেশন তা সংগ্রহ করবে। এরপরও কেউ খাল বা খালের পাশে ময়লা ফেললে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হবে।

তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জরিমানার মুখোমুখি না হয়ে সবাই যেন প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

মীর শাহে আলম জানান, রাজধানীর কালশী সাংবাদিক আবাসিক এলাকার ৮০ ফুট খাল থেকে ইতোমধ্যে ৫৬ ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির সময় এসব ময়লা-আবর্জনার কারণেই খালগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, খাল ও জলাশয় পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শুধু পরিষ্কার করলেই হবে না, এই পরিচ্ছন্নতা যেন টেকসই হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খালগুলোতে যাতে নতুন করে বর্জ্য না জমে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তবে নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এ উদ্যোগ সফল হবে না। তাই সবাইকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছার অঙ্গীকার’

খাল রক্ষা না করলে বসবাসের অযোগ্য হবে ঢাকা: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

আপডেট সময় ০৮:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, নগরবাসীর স্বার্থেই রাজধানীর খালগুলোকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। খাল রক্ষা না করলে বসবাসের অযোগ্য হবে ঢাকা। খাল দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর মুসলিম বাজার খাল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, খাল ও জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা একটি চলমান প্রক্রিয়া। দীর্ঘ ১৯ বছর আন্তরিকতার সঙ্গে এ কাজ না হওয়ায় অনেক খাল ও জলাশয় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিদর্শনের আগে তিনি হাতিরঝিল এলাকায় চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন।

তিনি বলেন, হাতিরঝিল নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এর অবস্থা এমন হয়েছে যে, মানুষের বিনোদনের জন্য সেখানে যাওয়ার পরিবেশ নেই। আমরা অচিরেই হাতিরঝিলকে একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তর করব। সেখানে লাইটিং, বসার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৫৬টি খাল রয়েছে। বর্ষা মৌসুম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বিবেচনায় নিয়ে ছোট-বড় সব খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে খালের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং খালের সীমানা নির্ধারণ (ডিমার্কেশন) করা হবে।

তিনি বলেন, খালগুলোকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। ২৭ ও ২৯টি খাল উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রয়েছে। এগুলো সংরক্ষণ ও সচল রাখা না গেলে ভবিষ্যতে এই নগরী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা খাল পরিষ্কার করছি, কিন্তু অনেকেই আবার খালে ময়লা ফেলছেন। বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত স্থান রয়েছে। সেখানে বর্জ্য ফেললে সিটি করপোরেশন তা সংগ্রহ করবে। এরপরও কেউ খাল বা খালের পাশে ময়লা ফেললে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হবে।

তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জরিমানার মুখোমুখি না হয়ে সবাই যেন প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

মীর শাহে আলম জানান, রাজধানীর কালশী সাংবাদিক আবাসিক এলাকার ৮০ ফুট খাল থেকে ইতোমধ্যে ৫৬ ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির সময় এসব ময়লা-আবর্জনার কারণেই খালগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, খাল ও জলাশয় পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শুধু পরিষ্কার করলেই হবে না, এই পরিচ্ছন্নতা যেন টেকসই হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খালগুলোতে যাতে নতুন করে বর্জ্য না জমে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তবে নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এ উদ্যোগ সফল হবে না। তাই সবাইকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান তিনি।