অাকাশ জাতীয় ডেস্ক :
তিতাসে ঘুষ লেনদেন হয় কেজিতে। ঘুষ না দিলে গ্যাস মিলেনা। ঘুষের এই টাকা ভাগাভাগির একক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কেজি। টাকা ভাগা-ভাগির ভাগ পান প্রতিষ্ঠানটির এমডি থেকে শুরু করে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরাও।
শিল্প কারখানায় গ্যাসের নতুন সংযোগ দেওয়া কিংবা পুরনো সংযোগের চাপ বাড়ানোর নামে তিতাস গ্যাসের একটি চক্রই হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আর ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন খোদ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
গ্যাসের চাপ থাকার কথা প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ১৫ পাউন্ড বা ১৫ পিএসআই। কিন্তু নেই তার ধারে কাছেও। গাজিপুর-সাভারসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলগুলোতে এমন ভোগান্তিতে রয়েছে কয়েক’শ শিল্প-কারখানা। জেনারেটরে ১৫ পিএসআই থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ কারখানাগুলো গ্যাস পায় মাত্র দুই থেকে আড়াই পিএসআই।
অথচ একই কোম্পানির গ্যাস ব্যবহার করছে গাজীপুরের ফার সিরামিক। প্রতি মাসে দুইলাখ ঘনমিটারের কম বরাদ্দের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি গ্যাস পেয়েছে চার গুনেরও বেশি। সেই হিসেবে তারা এক বছরে বেশি ব্যবহার করেছে ৬৮ লাখ ৫৫ হাজার ঘন মিটার। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। তিতাসের নথি বলছে, নিয়ম কানুন না মেনে এমন সুযোগ নিয়েছে এ জেলার অন্তত ১৫০টির ও বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, এখানে প্রকৃতপক্ষে গ্যাস কারচুপি হচ্ছে এবং এই কারচুপি তখনই হয় যখন দুই পক্ষই লাভবান থাকে। দায়িত্বে যারা আছে তারাই ওই চুরির সাথে জড়িত।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই অনিয়ম হয়েছে অবৈধ মোটা অংকের বিনিময়ে। চক্রের হোতাদের মোবাইল ফোনে বিনিময় হওয়া এসএমএস অনুযায়ী, সিআরসি গ্রুপের প্রদীপ রায় তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাকে লিখেছেন, ‘টাকাটা গাজীপুর থেকে তুলে দিব। চেষ্টা করবো এক হাজার টাকার নোটের ব্যবস্থা করতে। তাতে যে কয় কেজি হয়।’ পরের এসএমএসে এ ওই কর্মকর্তা তার স্ত্রীকে লিখেন, ‘প্রদীপ সিআরসি আসবেন।’ প্রদীপ লিখেন, কেজি মিনস এ্যমাউন্ট। কত কেজি। ভাবিকে ৫০ বুঝিয়ে দিলাম। প্লিজ কনফার্ম। মিটার কানেকশন কবে হবে।’
যে মোবাইলে এসএমএসটি আসে সেই মোবাইল তিতাস গ্যাসের গাজীপুরের ম্যানেজার সাব্বের আহম্মেদ চৌধুরীর ভাই সাজ্জাদ আহম্মেদ চৌধুরীর নামে। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সিমটি সাব্বের আহম্মেদ নিজেই ব্যবহার করেন।
সাব্বের আহম্মেদের আরও কয়েকটি এসএমএস এ দেখা যায় পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান ভিয়েলা টেক্সট স্পিনিং লিমিটেডে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। ভিয়েলা কর্মকর্তা তইমুরের সাথে করা এসএমএস চালাচালি বলছে, তিনি সাব্বের আহম্মেদকে অনুরোধ করেছেন, কাজটি ৪৫ লাখ টাকায় করে দিতে।
অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ফাইল অনুমোদনের বিপরীতে সাব্বের ঠিকাদারের মাধ্যমে ১ কোটি টাকা পাঠাতে বলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিককে। এমন আরও অনেক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। উঠে আসে আরও কয়টি প্রতিষ্ঠানের সাথে অনৈতিক লেনদেনের বিষয়টিও। যা মিটমাট হয় কেজিতে মানে, লেনদেন হয়েছে টাকার বান্ডিলের ওজন দরে। এমনকি মাঠ পর্যায়ে তিতাসের কোন দল অনুসন্ধানে গেলে আগে থেকেই সতর্ক করে দেন এই কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে তিতাসের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামও। ভারপ্রাপ্ত এমডি মীর মসিউর রহমান ও সাব্বের আহম্মেদের মধ্যে আদান প্রদান হওয়া এসএমএস বলছে সে সব টাকার একটা অংশ নিয়েছেন তিনি। কোন একটি কাজ পাওয়াতে ১৪০ কেজি অর্থাৎ মোটা অংকের টাকা দেওয়া হয়েছে তাকে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠানো এসএমএসএ ভিলা গ্র ুপ এবং এসকিউ হিউজ গ্র ুপ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাতে নিষেধ করেণ সাব্বের। প্রতিষ্ঠানটির সাথে তাদের সমঝোতা চলছে বলেও জানানো হয়। এ বিষয়ে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গাজীপুরের ম্যনেজারের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























