ঢাকা ১২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ, দুই দিন পর মরদেহ মিলল পাটখেতে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ২, আহত ১২ শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কুষ্টিয়ায় আধিপত্য নিয়ে দুজনকে কু‌পিয়ে হত্যা জুলাই শহীদদের স্মরণে এবি পার্টির প্রতীকী কফিন মিছিল দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ ‘বর্তমান সংসদে গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে’:ডেপুটি স্পিকার কক্সবাজার সৈকতে হঠাৎ টর্নেডো, আতঙ্কিত পর্যটকরা মাদকের চাহিদা ও যোগান উভয়ই নির্মূল করতে হবে: চরমোনাই পীর তিন বছরে সব কৃষক পাবেন কার্ড, এক বছরের মধ্যে ৪৩ লাখ: কৃষিমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংকের ‘অস্থিরতা’ ব্যাংক খাতে প্রভাব ফেলছে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ইসলামী ব্যাংকে চলমান অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। পাশাপাশি বিষয়টির দ্রুত সমাধান হলে ব্যাংক খাতের জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন তারা।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ উদ্বেগের কথা জানান এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন। নিয়মিত ব্যাংকার্স সভায় আলোচ্যসূচির বাইরে এ আলোচনা হয়।

মাসরুর আরেফিন বলেন, দেশের বৃহত্তম ব্যাংকটির সংকট দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন এবং এ জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা জরুরি। ইসলামী ব্যাংকে যা চলছে, এটা পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে বড় রকম নেতিবাচক প্রভাব ফেলা শুরু করেছে। আমরা চাই যে দ্রুত দুই পক্ষ মিলে এটা সমঝোতা করা হোক। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকাররা উদ্বিগ্ন। গভর্নরও এই পরিস্থিতিকে কেবল ব্যাংকিং খাতের সমস্যা হিসেবে নয়, রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেও দেখছেন।

এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে গভর্নর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) সঠিক তথ্য দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন।

সভায় গুরুত্ব পায় ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে প্রস্তাবিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচি। মাসরুর আরেফিন বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি। ক্রেডিট গ্রোথ এখন আমাদের অন্যতম প্রধান ইস্যু। গভর্নরও চান ক্রেডিট গ্রোথ বাড়ুক। সে কারণেই এ প্যাকেজটি আসছে।

তার ভাষ্য, ঋণ কর্মসূচির আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তহবিলের একটি অংশ দেবে এবং বাকি অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হবে। তবে ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থের বড় অংশ বর্তমানে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা থাকায় অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা গভর্নরকে জানিয়েছি, কী পদ্ধতিতে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া যেতে পারে। কারণ আমাদের অর্থের বড় অংশ ইতোমধ্যে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা আছে।

ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগামী ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কথা ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।

দেশের সব ব্যাংক সম্মিলিতভাবে বাংলা কিউআর কোডের প্রচার শুরু করবে তুলে ধরে মাসরুর আরেফিন বলেন, এবিবি এবং সদস্য ব্যাংকগুলো একযোগে বিলবোর্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অন্যান্য প্রচারমাধ্যমে বাংলা কিউআরের প্রচার চালাবে। একই সঙ্গে সারা দেশে হাজার হাজার কিউআর কোড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যাংকার্স সভা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ভবনের নিচে বাংলা কিউআর কোডের প্লাকার্ড হাতে দাঁড়ান গভর্নর ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ, দুই দিন পর মরদেহ মিলল পাটখেতে

ইসলামী ব্যাংকের ‘অস্থিরতা’ ব্যাংক খাতে প্রভাব ফেলছে

আপডেট সময় ০৬:৫০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ইসলামী ব্যাংকে চলমান অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। পাশাপাশি বিষয়টির দ্রুত সমাধান হলে ব্যাংক খাতের জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন তারা।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ উদ্বেগের কথা জানান এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন। নিয়মিত ব্যাংকার্স সভায় আলোচ্যসূচির বাইরে এ আলোচনা হয়।

মাসরুর আরেফিন বলেন, দেশের বৃহত্তম ব্যাংকটির সংকট দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন এবং এ জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা জরুরি। ইসলামী ব্যাংকে যা চলছে, এটা পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে বড় রকম নেতিবাচক প্রভাব ফেলা শুরু করেছে। আমরা চাই যে দ্রুত দুই পক্ষ মিলে এটা সমঝোতা করা হোক। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকাররা উদ্বিগ্ন। গভর্নরও এই পরিস্থিতিকে কেবল ব্যাংকিং খাতের সমস্যা হিসেবে নয়, রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেও দেখছেন।

এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে গভর্নর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) সঠিক তথ্য দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন।

সভায় গুরুত্ব পায় ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে প্রস্তাবিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচি। মাসরুর আরেফিন বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি। ক্রেডিট গ্রোথ এখন আমাদের অন্যতম প্রধান ইস্যু। গভর্নরও চান ক্রেডিট গ্রোথ বাড়ুক। সে কারণেই এ প্যাকেজটি আসছে।

তার ভাষ্য, ঋণ কর্মসূচির আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তহবিলের একটি অংশ দেবে এবং বাকি অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হবে। তবে ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থের বড় অংশ বর্তমানে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা থাকায় অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা গভর্নরকে জানিয়েছি, কী পদ্ধতিতে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া যেতে পারে। কারণ আমাদের অর্থের বড় অংশ ইতোমধ্যে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা আছে।

ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগামী ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কথা ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।

দেশের সব ব্যাংক সম্মিলিতভাবে বাংলা কিউআর কোডের প্রচার শুরু করবে তুলে ধরে মাসরুর আরেফিন বলেন, এবিবি এবং সদস্য ব্যাংকগুলো একযোগে বিলবোর্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অন্যান্য প্রচারমাধ্যমে বাংলা কিউআরের প্রচার চালাবে। একই সঙ্গে সারা দেশে হাজার হাজার কিউআর কোড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যাংকার্স সভা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ভবনের নিচে বাংলা কিউআর কোডের প্লাকার্ড হাতে দাঁড়ান গভর্নর ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা।