ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ, দুই দিন পর মরদেহ মিলল পাটখেতে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ২, আহত ১২ শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কুষ্টিয়ায় আধিপত্য নিয়ে দুজনকে কু‌পিয়ে হত্যা জুলাই শহীদদের স্মরণে এবি পার্টির প্রতীকী কফিন মিছিল দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ ‘বর্তমান সংসদে গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে’:ডেপুটি স্পিকার কক্সবাজার সৈকতে হঠাৎ টর্নেডো, আতঙ্কিত পর্যটকরা মাদকের চাহিদা ও যোগান উভয়ই নির্মূল করতে হবে: চরমোনাই পীর তিন বছরে সব কৃষক পাবেন কার্ড, এক বছরের মধ্যে ৪৩ লাখ: কৃষিমন্ত্রী

বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ, দুই দিন পর মরদেহ মিলল পাটখেতে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুর সদরে বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর এক ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, তাকে অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার সকাল সাতটার দিকে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের রোকমান খার ডাঙ্গী গ্রামের একটি পাটখেত থেকে ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকিরের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইউসুফ ফকির ওই গ্রামের সেকেন ফকিরের ছেলে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। পেশায় তিনি পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউসুফ ফকিরের শরীর কিছুটা খারাপ লাগছিল। তিনি স্ত্রীকে জানান, মমিনখার হাট বাজারে গিয়ে একটি ডিসপেনসারিতে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাবেন কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। বাজারের কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে একটি ইজিবাইকে করে বাড়ির সামনে নামেন। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ইউসুফের শ্বশুর আজিজ খান বলেন, যে ইজিবাইকে করে তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন, সেই চালক জানিয়েছেন, বাড়ির সামনেই তাকে নামিয়ে দেন। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকবার ইউসুফের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। রাত নয়টার পর থেকে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইউসুফের ভাতিজা সাইফুল ফকির ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আজিজ খান আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে প্রথমে ইউসুফের মুঠোফোন থেকেই তার মেয়ের নম্বরে কল আসে। ফোনে অপহরণকারীরা ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা দিলে ইউসুফকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে।

চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলী মদ্দীন ফকির বলেন, আজ ভোর ছয়টার দিকে কয়েকজন কৃষক পাট কাটতে গিয়ে ইউসুফের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরের একটি পাটখেতে তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ দেখতে পান। তার মুখ দিয়ে কীটনাশকের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া বের হচ্ছিল। মরদেহের পাশে একটি কীটনাশকের বোতলও পড়ে ছিল।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে খুব শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ, দুই দিন পর মরদেহ মিলল পাটখেতে

বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ, দুই দিন পর মরদেহ মিলল পাটখেতে

আপডেট সময় ১১:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুর সদরে বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর এক ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, তাকে অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার সকাল সাতটার দিকে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের রোকমান খার ডাঙ্গী গ্রামের একটি পাটখেত থেকে ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকিরের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইউসুফ ফকির ওই গ্রামের সেকেন ফকিরের ছেলে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। পেশায় তিনি পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউসুফ ফকিরের শরীর কিছুটা খারাপ লাগছিল। তিনি স্ত্রীকে জানান, মমিনখার হাট বাজারে গিয়ে একটি ডিসপেনসারিতে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাবেন কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। বাজারের কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে একটি ইজিবাইকে করে বাড়ির সামনে নামেন। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ইউসুফের শ্বশুর আজিজ খান বলেন, যে ইজিবাইকে করে তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন, সেই চালক জানিয়েছেন, বাড়ির সামনেই তাকে নামিয়ে দেন। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকবার ইউসুফের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। রাত নয়টার পর থেকে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইউসুফের ভাতিজা সাইফুল ফকির ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আজিজ খান আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে প্রথমে ইউসুফের মুঠোফোন থেকেই তার মেয়ের নম্বরে কল আসে। ফোনে অপহরণকারীরা ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা দিলে ইউসুফকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে।

চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলী মদ্দীন ফকির বলেন, আজ ভোর ছয়টার দিকে কয়েকজন কৃষক পাট কাটতে গিয়ে ইউসুফের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরের একটি পাটখেতে তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ দেখতে পান। তার মুখ দিয়ে কীটনাশকের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া বের হচ্ছিল। মরদেহের পাশে একটি কীটনাশকের বোতলও পড়ে ছিল।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে খুব শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।