ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

টাকার লোভে ডুবিয়ে দেওয়া হয় নৌকা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জীবন বাঁচাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পথেই অনেক রোহিঙ্গা মারা পড়ছেন। প্রায়ই ঘটছে নৌকাডুবির ঘটনা। এসব ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন ছাড়াও অর্থের লোভে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এক শ্রেণির দালাল চক্র নাফ নদী পারাপারের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালংকারসহ প্রয়োজনীয় মূল্যবান আসবাবপত্র। আর যেসব রোহিঙ্গা সময় মতো টাকা দিতে না পারে, মূলত তাদের নৌকাগুলো ইচ্ছে করেই ডুবিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তারা বলছেন, ওপারের সীমান্তে যখন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি, নারী-শিশুদের আর্তনাদ, হাজারও মানুষের এপারে আসার আকুতি, ঠিক তখনি এক শ্রেণির দালাল চক্র তাদের টাকার বিনিময়ে নাফ নদীর পারাপারের নামে বাণিজ্যে মেতে উঠেছে।

২০১৭ সালের ২৪ আগস্টের পর থেকে নাফ নদী পার হতে গিয়ে ২৮টি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৮৪ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরপরও থেমে নেই নাফ নদীতে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবির ঘটনা। সর্বশেষ ১০ অক্টোবর মঙ্গলবার ভোরে শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীর মোহনায় ১২ জন রোহিঙ্গা নারী ও শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২১ জনকে। নিখোঁজ রয়েছে ১৫ থেকে ২০ জন রোহিঙ্গা।

টেকনাফ কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. জাফর ইমাম সজিব বলেন, ‘অতিরিক্ত টাকার লোভে অদক্ষ মাঝিদের দিয়ে নৌকা পারাপার করা হয়। আরেকটি কারণ হচ্ছে যতবেশি লোকজন উঠাবে ততবেশি টাকা। প্রত্যেকটি নৌকায় দেখা যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাগুলো হচ্ছে মাছ ধরার নৌকা, মানুষ পারাপারের জন্য নয়। এ কারণে বার বার নৌকাডুবির ঘটনা ঘটছে।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল বাংলা বলেন, ‘আসলে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবির পর এপার থেকে যাতে কোনও নৌকা ওপারে পারাপার করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। এই পর্যন্ত ৪০০ দালাল ও নৌকার মাঝিকে গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। এরপরও রোহিঙ্গা পারাপারকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন দালাল ও নৌকার মাঝি গজাচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘এক শ্রেণির দালাল টাকার লোভে মিয়ানমার থেকে অতিরিক্ত রোহিঙ্গা নিয়ে নাফ নদী পার হচ্ছে। এতে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটছে। টেকনাফ ২ নম্বর বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নাফ নদীতে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবির তিনটি কারণ। এগুলো হলো: অতিরিক্ত যাত্রী বহন, পুরনো নৌকা ও নৌপথে নৌকা চালানো।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

টাকার লোভে ডুবিয়ে দেওয়া হয় নৌকা

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জীবন বাঁচাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পথেই অনেক রোহিঙ্গা মারা পড়ছেন। প্রায়ই ঘটছে নৌকাডুবির ঘটনা। এসব ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন ছাড়াও অর্থের লোভে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এক শ্রেণির দালাল চক্র নাফ নদী পারাপারের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালংকারসহ প্রয়োজনীয় মূল্যবান আসবাবপত্র। আর যেসব রোহিঙ্গা সময় মতো টাকা দিতে না পারে, মূলত তাদের নৌকাগুলো ইচ্ছে করেই ডুবিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তারা বলছেন, ওপারের সীমান্তে যখন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি, নারী-শিশুদের আর্তনাদ, হাজারও মানুষের এপারে আসার আকুতি, ঠিক তখনি এক শ্রেণির দালাল চক্র তাদের টাকার বিনিময়ে নাফ নদীর পারাপারের নামে বাণিজ্যে মেতে উঠেছে।

২০১৭ সালের ২৪ আগস্টের পর থেকে নাফ নদী পার হতে গিয়ে ২৮টি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৮৪ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরপরও থেমে নেই নাফ নদীতে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবির ঘটনা। সর্বশেষ ১০ অক্টোবর মঙ্গলবার ভোরে শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীর মোহনায় ১২ জন রোহিঙ্গা নারী ও শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২১ জনকে। নিখোঁজ রয়েছে ১৫ থেকে ২০ জন রোহিঙ্গা।

টেকনাফ কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. জাফর ইমাম সজিব বলেন, ‘অতিরিক্ত টাকার লোভে অদক্ষ মাঝিদের দিয়ে নৌকা পারাপার করা হয়। আরেকটি কারণ হচ্ছে যতবেশি লোকজন উঠাবে ততবেশি টাকা। প্রত্যেকটি নৌকায় দেখা যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাগুলো হচ্ছে মাছ ধরার নৌকা, মানুষ পারাপারের জন্য নয়। এ কারণে বার বার নৌকাডুবির ঘটনা ঘটছে।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল বাংলা বলেন, ‘আসলে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবির পর এপার থেকে যাতে কোনও নৌকা ওপারে পারাপার করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। এই পর্যন্ত ৪০০ দালাল ও নৌকার মাঝিকে গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। এরপরও রোহিঙ্গা পারাপারকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন দালাল ও নৌকার মাঝি গজাচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘এক শ্রেণির দালাল টাকার লোভে মিয়ানমার থেকে অতিরিক্ত রোহিঙ্গা নিয়ে নাফ নদী পার হচ্ছে। এতে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটছে। টেকনাফ ২ নম্বর বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নাফ নদীতে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবির তিনটি কারণ। এগুলো হলো: অতিরিক্ত যাত্রী বহন, পুরনো নৌকা ও নৌপথে নৌকা চালানো।’