ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বস্ত্র খাতের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের এমপির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মোংলায় মানববন্ধন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন শিক্ষা ও কারিগরি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী সিঙ্গাপুর ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও করিডোর নিয়ে চীন-বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা মোদির ক্ষমা প্রার্থনা ও অমিত শাহের পদত্যাগসহ ৫ দাবি রাহুল গান্ধীর বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় বাড়াতে সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় প্রস্তুত, তবে ইরান আন্তরিক নয়: রুবিও জামায়াত এমপির ঘটনার তদন্ত চান তাসনিম জারা

‘হজে ঝগড়া-বিবাদ নয়, ইবাদতেই মন দিন’— মসজিদে নববীর ইমামের হৃদয়ছোঁয়া আহ্বান

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

হজ শুধু একটি সফর নয়, এটি একজন মুমিনের আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের অনন্য ইবাদত। এই মহান ইবাদতকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে লাখো মুসলিমের হৃদয়ে তৈরি হয় গভীর আবেগ ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি। এমন পবিত্র সময়ে পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদ, অনর্থক বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আবদুল্লাহ আল-বুয়াইজান।

শুক্রবার (২২ মে) জুমার খুতবায় তিনি হজযাত্রীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি নবী করিম (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে একনিষ্ঠভাবে ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেন।

হজে বিতর্ক ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান:

খুতবায় শায়খ আল-বুয়াইজান হজের আবশ্যকীয় বিষয় (আরকান ও আহকাম) এবং নিষিদ্ধ কাজগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হজের এই পবিত্র সফরে একজন মুসলমানকে নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, দুনিয়াবি বিতর্ক, ঝগড়া কিংবা অনর্থক আলাপচারিতা যেন এই মহান ইবাদতের একাগ্রতা ও পবিত্রতা নষ্ট না করে।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ ۚ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ

‘হজের নির্ধারিত কয়েকটি মাস রয়েছে। যে ব্যক্তি এ মাসগুলোতে হজ পালন করার সংকল্প করবে, সে হজের মধ্যে অশ্লীলতা, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হবে না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৯৭)

সরকারি নির্দেশনা মানার ওপর গুরুত্বারোপ:

সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে মসজিদে নববীর ইমাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া হজের নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলা মেনে চলা প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষায়, এটি শুধু প্রশাসনিক বা আইনি বাধ্যবাধকতা নয়; বরং মানুষের জানমাল রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের স্বার্থে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অংশ।

তিনি হজযাত্রীদের ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহমর্মিতা বজায় রাখারও আহ্বান জানান।

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত:

খুতবার শেষাংশে শায়খ আল-বুয়াইজান জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত তুলে ধরেন। তিনি এসব দিনকে অত্যন্ত বরকতময় উল্লেখ করে বেশি বেশি নামাজ, রোজা, দান-সদকা ও জিকির করার আহ্বান জানান।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ

‘এমন কোনো দিন নেই, যাতে নেক আমল আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।’ (বুখারি ৯৬৯)

তিনি মুসলিম উম্মাহকে এই সময়গুলোকে আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

হজ মানুষের জীবনে এক মহিমান্বিত পরিবর্তনের নাম। এখানে অহংকার, বিতর্ক ও দুনিয়াবি দ্বন্দ্বের কোনো স্থান নেই। বরং ধৈর্য, আত্মসংযম, ভ্রাতৃত্ববোধ ও আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণই হজের প্রকৃত সৌন্দর্য।

মসজিদে নববীর ইমামের এই দিকনির্দেশনা শুধু হজযাত্রীদের জন্য নয়, বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা— ইবাদতের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন হৃদয় হয় বিনয়ী, জিহ্বা হয় সংযত এবং অন্তর থাকে আল্লাহমুখী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বস্ত্র খাতের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

‘হজে ঝগড়া-বিবাদ নয়, ইবাদতেই মন দিন’— মসজিদে নববীর ইমামের হৃদয়ছোঁয়া আহ্বান

আপডেট সময় ০৭:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

হজ শুধু একটি সফর নয়, এটি একজন মুমিনের আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের অনন্য ইবাদত। এই মহান ইবাদতকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে লাখো মুসলিমের হৃদয়ে তৈরি হয় গভীর আবেগ ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি। এমন পবিত্র সময়ে পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদ, অনর্থক বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আবদুল্লাহ আল-বুয়াইজান।

শুক্রবার (২২ মে) জুমার খুতবায় তিনি হজযাত্রীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি নবী করিম (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে একনিষ্ঠভাবে ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেন।

হজে বিতর্ক ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান:

খুতবায় শায়খ আল-বুয়াইজান হজের আবশ্যকীয় বিষয় (আরকান ও আহকাম) এবং নিষিদ্ধ কাজগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হজের এই পবিত্র সফরে একজন মুসলমানকে নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, দুনিয়াবি বিতর্ক, ঝগড়া কিংবা অনর্থক আলাপচারিতা যেন এই মহান ইবাদতের একাগ্রতা ও পবিত্রতা নষ্ট না করে।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ ۚ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ

‘হজের নির্ধারিত কয়েকটি মাস রয়েছে। যে ব্যক্তি এ মাসগুলোতে হজ পালন করার সংকল্প করবে, সে হজের মধ্যে অশ্লীলতা, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হবে না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৯৭)

সরকারি নির্দেশনা মানার ওপর গুরুত্বারোপ:

সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে মসজিদে নববীর ইমাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া হজের নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলা মেনে চলা প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষায়, এটি শুধু প্রশাসনিক বা আইনি বাধ্যবাধকতা নয়; বরং মানুষের জানমাল রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের স্বার্থে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অংশ।

তিনি হজযাত্রীদের ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহমর্মিতা বজায় রাখারও আহ্বান জানান।

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত:

খুতবার শেষাংশে শায়খ আল-বুয়াইজান জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত তুলে ধরেন। তিনি এসব দিনকে অত্যন্ত বরকতময় উল্লেখ করে বেশি বেশি নামাজ, রোজা, দান-সদকা ও জিকির করার আহ্বান জানান।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ

‘এমন কোনো দিন নেই, যাতে নেক আমল আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।’ (বুখারি ৯৬৯)

তিনি মুসলিম উম্মাহকে এই সময়গুলোকে আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

হজ মানুষের জীবনে এক মহিমান্বিত পরিবর্তনের নাম। এখানে অহংকার, বিতর্ক ও দুনিয়াবি দ্বন্দ্বের কোনো স্থান নেই। বরং ধৈর্য, আত্মসংযম, ভ্রাতৃত্ববোধ ও আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণই হজের প্রকৃত সৌন্দর্য।

মসজিদে নববীর ইমামের এই দিকনির্দেশনা শুধু হজযাত্রীদের জন্য নয়, বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা— ইবাদতের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন হৃদয় হয় বিনয়ী, জিহ্বা হয় সংযত এবং অন্তর থাকে আল্লাহমুখী।