ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হাওড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা গ্রহণযোগ্য হয়নি: বাবর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওড়াঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়েছেন। এ তালিকা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে অতিরিক্ত নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে এ তালিকা নতুন করে যাচাই-বাছাই করে প্রণয়ন করা হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে সহায়তা দেওয়া হবে।

শনিবার (৯ মে) বিকালে নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের মনিকা পশ্চিমপাড়া গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় জনতার উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বাবর আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তালিকা যাচাই-বাছাইকালে যদি আমার দলের কোনো লোক চাপ দেয়, তাদের কথা আপনারা শুনবেন না। আপনারা সঠিকভাবেই তালিকা প্রস্তুত করবেন। যারা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে তারাই পাবে, আর যারা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না তারা পাবে না। এতে আপনাদেরকে আমার বিএনপির নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন তালিকায় বর্গাচাষি ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যারা বাস্তবিক অর্থে ক্ষতির শিকার হয়েছেন এবং সহায়তা পাওয়ার যৌক্তিকতা রাখেন—তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিএনপি ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি তালিকা করা হয়েছিল। তবে সেই তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশাপাশি অকৃষকদের অনেক নামও এসেছে। আবার যারা কৃষক, তাদের নাম বাদ পড়েছে। এজন্য নতুন করে তালিকা প্রস্তুত হবে।

এ সময় তিনি জেলেদের উদ্দেশে বলেন, আমরা মূলত জেলেদের জন্য কোনো আলাদাভাবে বরাদ্দ পাইনি। তবে এ ব্যাপারে আমি ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বিকল্পভাবে জেলেদের জন্য সাহায্য করবেন।

হাওড়ে মাছ ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, যেকোনো জাল পেলে আপনারা তা পুড়িয়ে ফেলবেন। এবার হাওড়ে সরকারের পক্ষ থেকে মাছ ছাড়া হবে, আমিও নিজ অর্থায়নে মাছ হাওড়ে ছাড়ব। তাই হাওড়ে জাল ফেলে মাছ ধরতে নিষেধ করেছেন।

হাওড়াঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের অচিরেই পঞ্চমবার্ষিকী পরিকল্পনা করতে হবে। আমরা বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন চাই না। হাওড়ের বাস্তবতা বিবেচনায় পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন করব।

এ সময় ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী, সহকারী কমিশনার শাওলীন নাহার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ, কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান, পৌর বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান ছন্দ, গোবিন্দশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন, উপজেলা যুবদল সভাপতি গোলাম রাসেল রুবেল, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ছাত্রদল সভাপতি এস এইচ পিপুল, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাওড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা গ্রহণযোগ্য হয়নি: বাবর

আপডেট সময় ০৯:২৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওড়াঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়েছেন। এ তালিকা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে অতিরিক্ত নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে এ তালিকা নতুন করে যাচাই-বাছাই করে প্রণয়ন করা হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে সহায়তা দেওয়া হবে।

শনিবার (৯ মে) বিকালে নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের মনিকা পশ্চিমপাড়া গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় জনতার উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বাবর আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তালিকা যাচাই-বাছাইকালে যদি আমার দলের কোনো লোক চাপ দেয়, তাদের কথা আপনারা শুনবেন না। আপনারা সঠিকভাবেই তালিকা প্রস্তুত করবেন। যারা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে তারাই পাবে, আর যারা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না তারা পাবে না। এতে আপনাদেরকে আমার বিএনপির নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন তালিকায় বর্গাচাষি ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যারা বাস্তবিক অর্থে ক্ষতির শিকার হয়েছেন এবং সহায়তা পাওয়ার যৌক্তিকতা রাখেন—তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিএনপি ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি তালিকা করা হয়েছিল। তবে সেই তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশাপাশি অকৃষকদের অনেক নামও এসেছে। আবার যারা কৃষক, তাদের নাম বাদ পড়েছে। এজন্য নতুন করে তালিকা প্রস্তুত হবে।

এ সময় তিনি জেলেদের উদ্দেশে বলেন, আমরা মূলত জেলেদের জন্য কোনো আলাদাভাবে বরাদ্দ পাইনি। তবে এ ব্যাপারে আমি ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বিকল্পভাবে জেলেদের জন্য সাহায্য করবেন।

হাওড়ে মাছ ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, যেকোনো জাল পেলে আপনারা তা পুড়িয়ে ফেলবেন। এবার হাওড়ে সরকারের পক্ষ থেকে মাছ ছাড়া হবে, আমিও নিজ অর্থায়নে মাছ হাওড়ে ছাড়ব। তাই হাওড়ে জাল ফেলে মাছ ধরতে নিষেধ করেছেন।

হাওড়াঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের অচিরেই পঞ্চমবার্ষিকী পরিকল্পনা করতে হবে। আমরা বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন চাই না। হাওড়ের বাস্তবতা বিবেচনায় পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন করব।

এ সময় ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী, সহকারী কমিশনার শাওলীন নাহার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ, কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান, পৌর বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান ছন্দ, গোবিন্দশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন, উপজেলা যুবদল সভাপতি গোলাম রাসেল রুবেল, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ছাত্রদল সভাপতি এস এইচ পিপুল, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।