ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজায় ‘গণহত্যা’ বন্ধে ইইউ’র প্রতি যে আহ্বান জানালো স্পেন-স্লোভেনিয়া দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফলে দেশ ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছে: দুদু সৌদির আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বাধ্য হয়ে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেন ট্রাম্প তদবিরেও ছাড় মিলবে না চাঁদাবাজদের, কঠোর অবস্থানে ডিএমপি শাপলা চত্বর গণহত্যার তথ্য লুকানোর অভিযোগে দীপু মনিসহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত:চিফ প্রসিকিউটর পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে দেশে ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশুকে হত্যা ধর্ষণে শিশু অন্তঃসত্ত্বা : অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে

দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় জয়পুরহাটের শিক্ষার্থী নিহত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় হাসিবুর রহমান মিম (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার মধ্যরাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে ইলেকট্রিক স্কুটার চালানোর সময় দ্রুতগামী একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসিবুর রহমান জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার জিন্দারিপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের নিজাবুল ইসলাম হিরোর ছেলে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার জেওনবুক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে কাজ করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার গভীর রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পার হচ্ছিলেন হাসিব। এ সময় এক মদ্যপ চালকের নিয়ন্ত্রণহীন প্রাইভেটকার তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। তবে মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গতকাল রোববার সকাল ৮টায় তিনি মারা যান।

হাসিবের বন্ধু মাহমুদুল হাসান জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে উচ্চশিক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় যান হাসিব। বিদেশে যাওয়ার মাত্র চার মাস আগে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত অবস্থায় যশোর জেলার এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেন। তার মৃত্যুর খবরটি প্রথমে পরিবারের কাছে পৌঁছান তার স্ত্রী।

হাসিবের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্বপ্ন পূরণের আশায় প্রবাসে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

নিহতের বাবা নিজাবুল ইসলাম হিরো বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। সব শেষ হয়ে গেল। আমার যা হয় হোক, কিন্তু ওর মা একেবারে ভেঙে পড়েছে। এখন বুঝতে পারছি না কীভাবে সামলাবো। ছেলের মরদেহ দেশে এনে দাফন করতে পারলে হয়তো কিছুটা শান্তি পাবো।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা তার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নে সহায়তা করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও গভীর শোক বিরাজ করছে। সহপাঠী ও প্রবাসীরা তার অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তুপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় ‘গণহত্যা’ বন্ধে ইইউ’র প্রতি যে আহ্বান জানালো স্পেন-স্লোভেনিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় জয়পুরহাটের শিক্ষার্থী নিহত

আপডেট সময় ০৬:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় হাসিবুর রহমান মিম (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার মধ্যরাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে ইলেকট্রিক স্কুটার চালানোর সময় দ্রুতগামী একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসিবুর রহমান জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার জিন্দারিপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের নিজাবুল ইসলাম হিরোর ছেলে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার জেওনবুক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে কাজ করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার গভীর রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পার হচ্ছিলেন হাসিব। এ সময় এক মদ্যপ চালকের নিয়ন্ত্রণহীন প্রাইভেটকার তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। তবে মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গতকাল রোববার সকাল ৮টায় তিনি মারা যান।

হাসিবের বন্ধু মাহমুদুল হাসান জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে উচ্চশিক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় যান হাসিব। বিদেশে যাওয়ার মাত্র চার মাস আগে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত অবস্থায় যশোর জেলার এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেন। তার মৃত্যুর খবরটি প্রথমে পরিবারের কাছে পৌঁছান তার স্ত্রী।

হাসিবের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্বপ্ন পূরণের আশায় প্রবাসে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

নিহতের বাবা নিজাবুল ইসলাম হিরো বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। সব শেষ হয়ে গেল। আমার যা হয় হোক, কিন্তু ওর মা একেবারে ভেঙে পড়েছে। এখন বুঝতে পারছি না কীভাবে সামলাবো। ছেলের মরদেহ দেশে এনে দাফন করতে পারলে হয়তো কিছুটা শান্তি পাবো।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা তার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নে সহায়তা করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও গভীর শোক বিরাজ করছে। সহপাঠী ও প্রবাসীরা তার অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তুপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।