ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংগীত বেশ অসুস্থ অবস্থায় আছে, সবাই দোয়া করবেন: ওমর সানী শীতলক্ষ্যায় ফেরি থেকে নদীতে প্রাইভেটকার ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তা জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয় পলকের নির্দেশেই: ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তা বাড়ি ফেরার পথে স্বামীর কাছ থেকে গৃহবধূকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণ প্রতিশোধ প্রতিহিংসা নয়, সহনশীলতাকে গুরুত্ব দিন: প্রধানমন্ত্রী নেত্রকোনায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কর্তন, স্বামী আটক শুক্রবার রাতে ঢাকা ছাড়বে প্রথম হজ ফ্লাইট যুদ্ধবিরতিই আলোচনার একমাত্র পথ: লেবাননের প্রেসিডেন্ট খালেদা জিয়ার স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন নাতনি জাইমা রহমান বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিতে আখতার হোসেনের ক্ষোভ, আইনমন্ত্রীর জবাব

ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তা জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয় পলকের নির্দেশেই: ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এক জবানবন্দিতে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এই কর্মকর্তা। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এ মামলায় পলক ছাড়াও আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। পলাতক থাকায় তার হয়ে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, মঈনুল করিম, সুলতান মাহমুদসহ অন্যরা।

জবানবন্দিতে সাক্ষী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় তাকে ফোন করেন তৎকালীন বিটিআরসির মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। ফোনে জানানো হয় যে- বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদকে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরদের আপস্ট্রিম বা ইন্টারনেট বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইটিসি অপারেটরদের জানাতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলতে সাক্ষীকে নির্দেশ দেন বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর থেকে একটি গ্রুপ খোলেন এই কর্মকর্তা।

আইটিসি অপারেটরদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ইংরেজিতে খোলা গ্রুপটির নাম ‘১৮ জুলাই আইটিসি অপারেশনস’। এতে যুক্ত ছিলেন তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটিডের খালিদ, ফাইবার এটহোমের মশিউর, নভোকম-এর আজিজ, বিডি লিংকের একজন, ম্যাংগোর জাহিদ, বিটিসিএল-এর আনোয়ার মাসুদ ও বিএসপিএলসি,-এর ওহাব।

গ্রুপটি খোলার পরই মহাপরিচালককে জানান বিটিআরসির এই কর্মকর্তা। এরপর তিনি (কাজী মোস্তাফিজুর রহমান) গ্রুপে কল দেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন সাক্ষী।

তিনি জানান, গ্রুপ কলে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের আপস্ট্রিম (ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ) বন্ধ করার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনাটি জানান বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক। এরপর ওই দিনই তথা ১৮ জুলাই রাত ৯টায় অপারেটরদের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৩ জুলাই পর্যন্ত এ সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকে।

সাক্ষী বলেন, ২৩ জুলাই ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) ও মিডিয়ার বিভিন্ন প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি সভা ডাকেন জুনাইদ আহমেদ পলক। সভায় ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক বন্ধ রেখে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে (যেমন ব্যাংক, সংসদ ভবন, ক্যান্টনম্যান্ট ইত্যাদি) সীমিতভাবে ইন্টারনেট চালু করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন তিনি। ৩১ জুলাই বিটিআরসির চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইন্টারনেট পুনরায় চালু করার নির্দেশনা দেন তৎকালীন এই আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।

বিটিআরসির এই কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সংগীত বেশ অসুস্থ অবস্থায় আছে, সবাই দোয়া করবেন: ওমর সানী

ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তা জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয় পলকের নির্দেশেই: ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তা

আপডেট সময় ০৭:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এক জবানবন্দিতে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এই কর্মকর্তা। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এ মামলায় পলক ছাড়াও আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। পলাতক থাকায় তার হয়ে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, মঈনুল করিম, সুলতান মাহমুদসহ অন্যরা।

জবানবন্দিতে সাক্ষী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় তাকে ফোন করেন তৎকালীন বিটিআরসির মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। ফোনে জানানো হয় যে- বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদকে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরদের আপস্ট্রিম বা ইন্টারনেট বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইটিসি অপারেটরদের জানাতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলতে সাক্ষীকে নির্দেশ দেন বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর থেকে একটি গ্রুপ খোলেন এই কর্মকর্তা।

আইটিসি অপারেটরদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ইংরেজিতে খোলা গ্রুপটির নাম ‘১৮ জুলাই আইটিসি অপারেশনস’। এতে যুক্ত ছিলেন তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটিডের খালিদ, ফাইবার এটহোমের মশিউর, নভোকম-এর আজিজ, বিডি লিংকের একজন, ম্যাংগোর জাহিদ, বিটিসিএল-এর আনোয়ার মাসুদ ও বিএসপিএলসি,-এর ওহাব।

গ্রুপটি খোলার পরই মহাপরিচালককে জানান বিটিআরসির এই কর্মকর্তা। এরপর তিনি (কাজী মোস্তাফিজুর রহমান) গ্রুপে কল দেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন সাক্ষী।

তিনি জানান, গ্রুপ কলে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের আপস্ট্রিম (ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ) বন্ধ করার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনাটি জানান বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক। এরপর ওই দিনই তথা ১৮ জুলাই রাত ৯টায় অপারেটরদের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৩ জুলাই পর্যন্ত এ সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকে।

সাক্ষী বলেন, ২৩ জুলাই ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) ও মিডিয়ার বিভিন্ন প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি সভা ডাকেন জুনাইদ আহমেদ পলক। সভায় ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক বন্ধ রেখে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে (যেমন ব্যাংক, সংসদ ভবন, ক্যান্টনম্যান্ট ইত্যাদি) সীমিতভাবে ইন্টারনেট চালু করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন তিনি। ৩১ জুলাই বিটিআরসির চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইন্টারনেট পুনরায় চালু করার নির্দেশনা দেন তৎকালীন এই আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।

বিটিআরসির এই কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি রাখেন ট্রাইব্যুনাল।