ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল-২০২৬ সংসদে পাস

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল, ২০২৬’ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে জারি করা ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ’ প্রতিস্থাপন করে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা হলো। সংসদ অধিবেশন না থাকাকালে সংবিধানের ৯৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশটি জারি করেছিলেন।

বিলে বলা হয়েছে, এই আইন ২০২৫ সালের ৪ মে থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। এর মাধ্যমে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)-এর জন্য একটি বিস্তৃত আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আওতায় প্রজাতন্ত্রের সব সরকারি হিসাব, আদালত, সরকারি সংস্থা ও কর্মচারীদের আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষা করা হবে।

বিলের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে—সিএজি নিজেই নিরীক্ষার পরিধি, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। এছাড়া সমন্বিত তহবিল থেকে ব্যয়িত সকল অর্থ, রেলওয়ে ও ডাক বিভাগের মতো রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পে সরকারের অংশীদারিত্বও নিরীক্ষার আওতায় থাকবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণ বা অনুদানের শর্তাবলীর যথাযথ বাস্তবায়ন যাচাই করার ক্ষমতাও এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রচলিত আর্থিক নিরীক্ষার বাইরে গিয়ে ‘অর্থনীতি, দক্ষতা ও কার্যকারিতা” (ইকোনমি, এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ইফেক্টিভনেস) ভিত্তিক নিরীক্ষা পরিচালনার ক্ষমতাও সিএজি-কে দেওয়া হয়েছে। এই নিরীক্ষা প্রযোজ্য হবে সকল সরকারি দপ্তর, করপোরেশন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, যেখানে সরকারের মালিকানা কমপক্ষে ৫১ শতাংশ।

উচ্চমান বজায় রাখতে সিএজি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে পারবেন এবং অফিসের পেশাগত নৈতিকতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একটি স্বাধীন তদারকি কমিটি গঠন করতে পারবেন।

বিলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংসদে নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর তা সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

এছাড়া অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কোনো নিরীক্ষিত প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষকদের পেশাগত আচরণ নিয়ে আপত্তি তুললে সিএজি বাধ্যতামূলকভাবে তদন্ত শুরু করবেন।

আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সিএজি তার দপ্তরের বরাদ্দকৃত বাজেটের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব পাবেন, তবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন বা নতুন পদ সৃষ্টি করতে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এছাড়া সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদ অধিবেশন না থাকায় পূর্বে এটি বিল আকারে উপস্থাপন সম্ভব হয়নি। সে কারণে রাষ্ট্রপতি ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। সংবিধানের ৯৩(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস করা প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের সব সরকারি হিসাব, আদালত, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের নিরীক্ষা এবং প্রতিবেদন নিশ্চিত করে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।

পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছখ্যাত বিজয়

সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল-২০২৬ সংসদে পাস

আপডেট সময় ০৪:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল, ২০২৬’ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে জারি করা ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ’ প্রতিস্থাপন করে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা হলো। সংসদ অধিবেশন না থাকাকালে সংবিধানের ৯৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশটি জারি করেছিলেন।

বিলে বলা হয়েছে, এই আইন ২০২৫ সালের ৪ মে থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। এর মাধ্যমে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)-এর জন্য একটি বিস্তৃত আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আওতায় প্রজাতন্ত্রের সব সরকারি হিসাব, আদালত, সরকারি সংস্থা ও কর্মচারীদের আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষা করা হবে।

বিলের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে—সিএজি নিজেই নিরীক্ষার পরিধি, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। এছাড়া সমন্বিত তহবিল থেকে ব্যয়িত সকল অর্থ, রেলওয়ে ও ডাক বিভাগের মতো রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পে সরকারের অংশীদারিত্বও নিরীক্ষার আওতায় থাকবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণ বা অনুদানের শর্তাবলীর যথাযথ বাস্তবায়ন যাচাই করার ক্ষমতাও এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রচলিত আর্থিক নিরীক্ষার বাইরে গিয়ে ‘অর্থনীতি, দক্ষতা ও কার্যকারিতা” (ইকোনমি, এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ইফেক্টিভনেস) ভিত্তিক নিরীক্ষা পরিচালনার ক্ষমতাও সিএজি-কে দেওয়া হয়েছে। এই নিরীক্ষা প্রযোজ্য হবে সকল সরকারি দপ্তর, করপোরেশন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, যেখানে সরকারের মালিকানা কমপক্ষে ৫১ শতাংশ।

উচ্চমান বজায় রাখতে সিএজি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে পারবেন এবং অফিসের পেশাগত নৈতিকতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একটি স্বাধীন তদারকি কমিটি গঠন করতে পারবেন।

বিলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংসদে নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর তা সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

এছাড়া অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কোনো নিরীক্ষিত প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষকদের পেশাগত আচরণ নিয়ে আপত্তি তুললে সিএজি বাধ্যতামূলকভাবে তদন্ত শুরু করবেন।

আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সিএজি তার দপ্তরের বরাদ্দকৃত বাজেটের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব পাবেন, তবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন বা নতুন পদ সৃষ্টি করতে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এছাড়া সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদ অধিবেশন না থাকায় পূর্বে এটি বিল আকারে উপস্থাপন সম্ভব হয়নি। সে কারণে রাষ্ট্রপতি ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। সংবিধানের ৯৩(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস করা প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের সব সরকারি হিসাব, আদালত, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের নিরীক্ষা এবং প্রতিবেদন নিশ্চিত করে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।

পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।