অাকাশ নিউজ ডেস্ক:
‘সুন্দরী’। এই কথাটা প্রত্যেক মহিলাই শুনতে পছন্দ করেন। জেনারেশন ওয়াইয়ের কাছে আবার সুন্দরের সঙ্গে সেক্সি দেখতে লাগাটাও বেশ প্রয়োজনীয়। কিন্তু এই ‘সেক্সিনেস’ কথাটির অর্থ বিভিন্ন দেশে বিভিন্নরকম। ভিন্ন দেশের মানুষ নিজেদের ভিন্ন রূপে নিজেদের সেক্সি দেখতে পছন্দ করেন।
‘আওয়াজ খানা দিচ্ছে হানা দিল্লি থেকে বর্মা’। সুকুমারের ‘কবিতা’-র দেশের মেয়েরা সৌন্দর্য্যকে খুঁজে পায় লম্বা গ্রীবা দেশে। যার যত লম্বা গলা তিনি তত আকর্ষনীয় পুরুষদের কাছে৷ ছোটবেলা থেকেই মোটা ধাতুর পাত দিয়ে গোল গোল রিং তৈরি করে গলায় পরানো হয় মায়ানমার বা বার্মার মেয়েদের৷ এই ধাতুর পাত কাঁধে চাপ তৈরি করে৷ সেই চাপ থেকে মুক্ত হতে শরীরের ঘারের অংশ লম্বা হতে থাকে৷ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই গার বৃদ্ধি পায় এই চাপে৷ তখন এই রিংয়ের প্যাঁচ আরও বাড়ানো হয়৷
ইরান, জঙ্গি হামলা নিয়ে পর্যুদস্ত এই দেশের সেক্সি লুক-এর অন্তরে লুকিয়ে আছে নাসিকা কথা। মধ্য প্রাচ্যের এই দেশের মহিলারা নাকে প্লাস্টিক সার্জারি করেন। সার্জারির পর সেই ব্যান্ডেজ বেঁধে রাস্তাঘাটে ঘোরাকেই বেশি সেক্সি বলে মনে করেন তাঁরা৷ এমনকি ঘা শুকোতে যতদিন লাগার কথা ব্যান্ডেজ রাখেন তার থেকেও বেশি দিন৷
আফ্রিকা মহাদেশের কেনিয়ার মহিলারা নিজেদের সুন্দর সেক্সি ও আকর্ষনীয় করতে ঠোঁটে বড় বড় প্লেট আটকে রাখেন৷ ছোটবেলায় ঠোঁটে প্রথমে ফুটো করা হয়৷ তারপর সেই ছিদ্রতে একটু একটু করে প্রথমে ছেট প্লেট তারপর ধীরে ধীরে তা বাড়িয়ে বড় প্লেট আটকে রাখেন কেনিয়ার মহিলারা৷ এই ঠোঁট ফুটো করার রীতি কেনিয়ার মহিলাদের নারীশক্তি ও আত্মমর্যাদার প্রতিক৷ শুধু ঠোটেই নয়৷ কানেও তাঁরা এই ভাবেই ফুটো করে প্লেট পরে থাকেন৷ ঠোঁটের ও কানের ছিদ্র আর সঙ্গে ছোট চুল যত নিঁখুত হবে তিনি ততই সেক্সি৷
আফ্রিকার আরও এক দেশ ইথিওপিয়া। মানচিত্রে এই দেশের আকৃতি অনেকটা গণ্ডারের সিংয়ের মতো। গণ্ডারের লম্বা সিং গায়ে বিঁধলে আর রক্ষা নেই। ঠিক এমন ভাবেই নিজেদের কান বিঁধিয়ে সেখানে প্লেট বসিয়ে কখনওবা গা কেটে ডিজাইন করে দেওয়া হয়। ইথিওপিয়ান সংজ্ঞা। ডিজাইনার কাটা দাগই সৌন্দর্যের প্রতিক৷ মূলত পেটে বিভিন্ন ডিজাইনের কাটা দাগ করে মহিলারা কাঙ্খিত পুরুষকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন৷
এশিয়ার জাপান,চিন এবং থাইল্যান্ডের মহিলাদের কাছে ফর্সা ত্বক সবচেয়ে আকর্ষনীয়৷ এশিয়ার মানুষের গায়ের রং ধবধবে সাদা হয়না৷ কিন্তু ফ্যাকাসে সাদা চামরায় আকৃষ্ট হয়েই জাপান চিন এবং থাইল্যান্ডের মহিলারা চামরা সাদা করার চেষ্টায় মেতে থাকেন৷ যাঁর চামড়া যত সাদা করতে পারবেন তিনি তত সেক্সি।
সাম্বার দেশ ব্রাজিল। এ দেশে শরীরী ছন্দই আলাদা। দেশের মেয়েদের শরীরের ভাঁজে ভাঁজে শুধুই যেন সাম্বার প্রাণোচ্ছল মিউজিক। ব্রাজিলের মহিলাদের সৌন্দর্য্যের মাপকাঠি নিটোল গোল কোমর, ছিপছিপে পেট, সরু চেস্ট বা বুক৷ গিটারের আকৃতি মতো। ব্রাজিলের মহিলাদের এরকম তন্বী এবং রোদে ট্যান পরা নিটোল চেহারার জন্যই বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষনীয় মহিলা হিসেবে গন্য হন৷
স্লিম অ্যান্ড ট্রিম। এরকম মহিলা চোখের আরাম। কিন্তু মারিটেনিয়া এবং সামোয়ার মহিলারা বিশ্বাসী স্থূলতায়। যে যত মোটা সে তত সেক্সি। সাত আট বছর বয়স থেকেই মেয়েদের মোটা করার প্রচেষ্টা শুরু হয়ে যায়৷ স্কুলে পড়ার বয়স থেকেই টেনে নিয়ে যাওয়া হয় মোটা করার কারখানায়৷ তাদের চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ানো হয়৷ কারণ এখানে মহিলারা মনে করেন মোটা হওয়া বিত্তবানের প্রতিক৷ মোটা মেয়ে মানে সে সুস্থ সবল৷
এবার আসা যাক ইন্দোনেশিয়ার মানুষদের সৌন্দর্যের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে . এখানকার মেন্টাওয়াই উপজাতির মহিলারা এক অদ্ভুত যন্ত্রণাদায়ক দাতব্য চিকিৎসার মধ্যে দিয়ে যান৷ যা তাদের সৌন্দর্যের প্রতীক৷ তাদের ধারনা এই তীক্ষ্ণ দাঁতের মাধ্যমে তারা শারীরিক ও মানসিক সমতা বজায় রাখতে পারবেন৷ তীক্ষ্ণ দাঁত করার রীতিটি বালি তেও অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এখানের মানুষেরা মনে করে এটি হল শারীরিক ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের চাবিকাঠি৷
নিউজিল্যান্ডের মাওড়ি জাতীর মানুষদের ধারনা মুখে ট্যাটু করলে সৌন্দর্যের পাশাপাশি বেড়ে যায় জৌলুসও, যদিও এই দেশের দক্ষিণে এমন রীতি চোখে পড়ে না. ফেসিয়াল মোকো বা মুখের ট্যাটু বেশির ভাগ থুতনি ও গলায় দেখতে পাওয়া যায় , এর সঙ্গে তারা ডার্ক লিপস্টিক ব্যবহার করে থাকেন . প্রাচীন যুগে এনারা ট্যাটু করার জন্য এক রকমের ছেনী ব্যবহার করতেন৷
অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি যে ফরাসিদের তেমন একটা চল নেই মেকআপ এবং শেভিং করার.এই রীতিই চলে আসছে বহুদিন ধরে তারা মনে করেন মেকআপ হল চামড়ার বার্ধক্যের কারণ তাই তারা শুধুই ক্রিম ও লোশনে ব্যয করেন, যাতে তাদের ত্বক যৌবন ধরে রাখতে পারে .
বিশ্বকবি বলেছিলেন, ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া, একটি ধানের শিসের উপরে, একটি শিশির বিন্দু’। বিদেশের মোহ ছেড়ে ফেরা যাক ভারতে। হাতে মেহেন্দি , কপালে ছোট্ট টিপ আর একটা নাকছাবি। বেশি বাড়াবাড়ি কিছু নয়। এসবের সঙ্গে একটা শাড়ি। ঢেউয়ে মন তোলপাড়। হ্যাঁ ভারতের সংস্কৃতিতে এটাই ‘দেশি সেক্সি গার্ল’-এর পরিচয়।
এবার ভাবুন কোন সেক্সি লুকটা আপনার পছন্দ। তারপর? আর ভাবনা কিসের? নিজেকে সাজিয়ে নিন সেই হট লুকে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























