ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই: সারজিস দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে ১০০০ ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল শাহজালাল বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন জুলাই সনদে ফাঁকফোকর ছিল: মান্না ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে কর্নেল অলির ‘হুংকার’ তৃণমূল সংগঠনের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ফটিকছড়িতে ইতিকাফের আসরে অংশ নিয়েছেন ২৭০০ মুসল্লি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রমজানের শেষ দশককে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুরে বসেছে বৃহৎ ইতিকাফের আসর। উপজেলার নানুপুর জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া মাদ্রাসা মসজিদে চলতি বছর প্রায় ২৭০০ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী।

মসজিদের তিনতলা জুড়ে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন ইতিকাফকারীরা। জাগতিক ব্যস্ততা ও পারিবারিক জীবন থেকে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা দিন-রাত অতিবাহিত করছেন নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও বিভিন্ন ইবাদতে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, অংশগ্রহণকারীর দিক থেকে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ইতিকাফের আয়োজন।

ইতিকাফকারীদের সেবায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক দল নিরলসভাবে কাজ করছে। তারা ইতিকাফকারীদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগিতা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে মুসল্লিদের কাপড়-চোপড় ধোয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজে সহায়তা করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

এছাড়া ইতিকাফকারীদের জন্য বিনামূল্যে সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সুশৃঙ্খলভাবে মুসল্লিদের মাঝে সেহরি ও ইফতার পরিবেশন করা হয়।

ইতিকাফ চলাকালে মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ধর্মীয় দিকনির্দেশনারও ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে সহিহ কোরআন তেলাওয়াত, নামাজের বিধান, ইসলামী আদর্শ ও জিকির বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিরা ইবাদতের পাশাপাশি ইসলামী জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ইতিকাফকারীরা জানান, বিজ্ঞ আলেমদের তত্ত্বাবধানে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক পরিবেশে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ইতিকাফ পালন করছেন। বিনামূল্যে সেহরি-ইফতারসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকায় প্রতি বছরই এখানে ইতিকাফকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নানুপুর জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী জানান, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা এখানে এসে ইতিকাফ পালন করছেন। তিনি বলেন, ইতিকাফকারীদের সেবা করতে পারাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

তিনি আরও জানান, ইতিকাফকারীদের ইবাদত-বন্দেগি নির্বিঘ্ন করতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের থাকা, সেহরি-ইফতারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিদিন বাদ আসর ইতিকাফকারীদের উদ্দেশ্যে ঈমান ও আমল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ানও প্রদান করা হয়।

প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে নানুপুরে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আকৃষ্ট করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

ফটিকছড়িতে ইতিকাফের আসরে অংশ নিয়েছেন ২৭০০ মুসল্লি

আপডেট সময় ০২:০৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রমজানের শেষ দশককে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুরে বসেছে বৃহৎ ইতিকাফের আসর। উপজেলার নানুপুর জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া মাদ্রাসা মসজিদে চলতি বছর প্রায় ২৭০০ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী।

মসজিদের তিনতলা জুড়ে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন ইতিকাফকারীরা। জাগতিক ব্যস্ততা ও পারিবারিক জীবন থেকে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা দিন-রাত অতিবাহিত করছেন নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও বিভিন্ন ইবাদতে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, অংশগ্রহণকারীর দিক থেকে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ইতিকাফের আয়োজন।

ইতিকাফকারীদের সেবায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক দল নিরলসভাবে কাজ করছে। তারা ইতিকাফকারীদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগিতা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে মুসল্লিদের কাপড়-চোপড় ধোয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজে সহায়তা করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

এছাড়া ইতিকাফকারীদের জন্য বিনামূল্যে সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সুশৃঙ্খলভাবে মুসল্লিদের মাঝে সেহরি ও ইফতার পরিবেশন করা হয়।

ইতিকাফ চলাকালে মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ধর্মীয় দিকনির্দেশনারও ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে সহিহ কোরআন তেলাওয়াত, নামাজের বিধান, ইসলামী আদর্শ ও জিকির বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিরা ইবাদতের পাশাপাশি ইসলামী জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ইতিকাফকারীরা জানান, বিজ্ঞ আলেমদের তত্ত্বাবধানে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক পরিবেশে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ইতিকাফ পালন করছেন। বিনামূল্যে সেহরি-ইফতারসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকায় প্রতি বছরই এখানে ইতিকাফকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নানুপুর জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী জানান, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা এখানে এসে ইতিকাফ পালন করছেন। তিনি বলেন, ইতিকাফকারীদের সেবা করতে পারাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

তিনি আরও জানান, ইতিকাফকারীদের ইবাদত-বন্দেগি নির্বিঘ্ন করতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের থাকা, সেহরি-ইফতারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিদিন বাদ আসর ইতিকাফকারীদের উদ্দেশ্যে ঈমান ও আমল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ানও প্রদান করা হয়।

প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে নানুপুরে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আকৃষ্ট করছে।