ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পুতিন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন, তাকে থামাতেই হবে: জেলেনস্কি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমান পরিস্থিতি ও যুদ্ধ নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে দাবি করেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ শুরু করে দিয়েছেন এবং তাকে থামানোর একমাত্র পথ হলো তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেন এই যুদ্ধে পরাজিত হবে না, বরং শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করবে।

যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে পুতিনের আঞ্চলিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিষয়টিকে জেলেনস্কি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাশিয়ার দখলে থাকা দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কৌশলগত জমি ছেড়ে দেওয়াকে তিনি কেবল ভূখণ্ড হারানো নয়, বরং সেখানে বসবাসরত লাখ লাখ মানুষকে পরিত্যাগ করা এবং ইউক্রেনীয় সমাজকে বিভক্ত করার শামিল বলে মনে করেন। তার মতে, পুতিনকে এখন থামানো না গেলে তিনি ভবিষ্যতে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও হামলা চালাবেন।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ইউক্রেনকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসার এবং আঞ্চলিক ছাড় দেওয়ার জন্য যে চাপ দিচ্ছে, সে বিষয়ে জেলেনস্কি কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি জানান, মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কেবল কোনো প্রেসিডেন্টের মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং তা কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক হতে হবে যাতে সরকার পরিবর্তন হলেও সমর্থন বজায় থাকে। এছাড়া ইউক্রেনে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের মার্কিন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন হলেও শর্ত সাপেক্ষে তিনি এতে রাজি হতে পারেন, তবে তার আগে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজয় বলতে জেলেনস্কি কেবল হারানো ভূমি ফিরে পাওয়া নয়, বরং ইউক্রেনের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে বুঝিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা তা তৈরির লাইসেন্স এখনো পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। পরিশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পুতিন যুদ্ধ থামাতে না চাইলেও সঠিক কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে পিছু হটতে বাধ্য করা সম্ভব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পুতিন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন, তাকে থামাতেই হবে: জেলেনস্কি

আপডেট সময় ১২:১৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমান পরিস্থিতি ও যুদ্ধ নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে দাবি করেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ শুরু করে দিয়েছেন এবং তাকে থামানোর একমাত্র পথ হলো তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেন এই যুদ্ধে পরাজিত হবে না, বরং শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করবে।

যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে পুতিনের আঞ্চলিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিষয়টিকে জেলেনস্কি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাশিয়ার দখলে থাকা দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কৌশলগত জমি ছেড়ে দেওয়াকে তিনি কেবল ভূখণ্ড হারানো নয়, বরং সেখানে বসবাসরত লাখ লাখ মানুষকে পরিত্যাগ করা এবং ইউক্রেনীয় সমাজকে বিভক্ত করার শামিল বলে মনে করেন। তার মতে, পুতিনকে এখন থামানো না গেলে তিনি ভবিষ্যতে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও হামলা চালাবেন।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ইউক্রেনকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসার এবং আঞ্চলিক ছাড় দেওয়ার জন্য যে চাপ দিচ্ছে, সে বিষয়ে জেলেনস্কি কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি জানান, মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কেবল কোনো প্রেসিডেন্টের মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং তা কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক হতে হবে যাতে সরকার পরিবর্তন হলেও সমর্থন বজায় থাকে। এছাড়া ইউক্রেনে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের মার্কিন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন হলেও শর্ত সাপেক্ষে তিনি এতে রাজি হতে পারেন, তবে তার আগে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজয় বলতে জেলেনস্কি কেবল হারানো ভূমি ফিরে পাওয়া নয়, বরং ইউক্রেনের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে বুঝিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা তা তৈরির লাইসেন্স এখনো পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। পরিশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পুতিন যুদ্ধ থামাতে না চাইলেও সঠিক কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে পিছু হটতে বাধ্য করা সম্ভব।