ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন যার ডাকে এতদিন আন্দোলন করেছি সেদিন তিনিই আমাকে তাড়িয়ে দিলেন: ইসহাক সরকার আগুন নিয়ে খেলবেন না: হিজবুল্লাহকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করলেন ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য রাশিয়া সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করবে: পুতিন ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প ভুল সংশোধনীর মাধ্যমে জোরদার হবে: অর্থমন্ত্রী হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জামায়াত কর্মীকে হত্যা সংসদে শক্ত প্রভাবের চেষ্টায় এনসিপি, দুর্বল জামায়াত: রুমিন ফারহানা আমেরিকা অপমানিত, ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: জার্মানি ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি চায় না শিক্ষার্থীরা : হুইপ বকুল

পুতিন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন, তাকে থামাতেই হবে: জেলেনস্কি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমান পরিস্থিতি ও যুদ্ধ নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে দাবি করেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ শুরু করে দিয়েছেন এবং তাকে থামানোর একমাত্র পথ হলো তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেন এই যুদ্ধে পরাজিত হবে না, বরং শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করবে।

যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে পুতিনের আঞ্চলিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিষয়টিকে জেলেনস্কি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাশিয়ার দখলে থাকা দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কৌশলগত জমি ছেড়ে দেওয়াকে তিনি কেবল ভূখণ্ড হারানো নয়, বরং সেখানে বসবাসরত লাখ লাখ মানুষকে পরিত্যাগ করা এবং ইউক্রেনীয় সমাজকে বিভক্ত করার শামিল বলে মনে করেন। তার মতে, পুতিনকে এখন থামানো না গেলে তিনি ভবিষ্যতে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও হামলা চালাবেন।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ইউক্রেনকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসার এবং আঞ্চলিক ছাড় দেওয়ার জন্য যে চাপ দিচ্ছে, সে বিষয়ে জেলেনস্কি কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি জানান, মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কেবল কোনো প্রেসিডেন্টের মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং তা কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক হতে হবে যাতে সরকার পরিবর্তন হলেও সমর্থন বজায় থাকে। এছাড়া ইউক্রেনে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের মার্কিন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন হলেও শর্ত সাপেক্ষে তিনি এতে রাজি হতে পারেন, তবে তার আগে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজয় বলতে জেলেনস্কি কেবল হারানো ভূমি ফিরে পাওয়া নয়, বরং ইউক্রেনের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে বুঝিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা তা তৈরির লাইসেন্স এখনো পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। পরিশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পুতিন যুদ্ধ থামাতে না চাইলেও সঠিক কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে পিছু হটতে বাধ্য করা সম্ভব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন

পুতিন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন, তাকে থামাতেই হবে: জেলেনস্কি

আপডেট সময় ১২:১৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমান পরিস্থিতি ও যুদ্ধ নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে দাবি করেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ শুরু করে দিয়েছেন এবং তাকে থামানোর একমাত্র পথ হলো তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেন এই যুদ্ধে পরাজিত হবে না, বরং শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করবে।

যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে পুতিনের আঞ্চলিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিষয়টিকে জেলেনস্কি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাশিয়ার দখলে থাকা দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কৌশলগত জমি ছেড়ে দেওয়াকে তিনি কেবল ভূখণ্ড হারানো নয়, বরং সেখানে বসবাসরত লাখ লাখ মানুষকে পরিত্যাগ করা এবং ইউক্রেনীয় সমাজকে বিভক্ত করার শামিল বলে মনে করেন। তার মতে, পুতিনকে এখন থামানো না গেলে তিনি ভবিষ্যতে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও হামলা চালাবেন।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ইউক্রেনকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসার এবং আঞ্চলিক ছাড় দেওয়ার জন্য যে চাপ দিচ্ছে, সে বিষয়ে জেলেনস্কি কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি জানান, মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কেবল কোনো প্রেসিডেন্টের মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং তা কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক হতে হবে যাতে সরকার পরিবর্তন হলেও সমর্থন বজায় থাকে। এছাড়া ইউক্রেনে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের মার্কিন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন হলেও শর্ত সাপেক্ষে তিনি এতে রাজি হতে পারেন, তবে তার আগে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজয় বলতে জেলেনস্কি কেবল হারানো ভূমি ফিরে পাওয়া নয়, বরং ইউক্রেনের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে বুঝিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা তা তৈরির লাইসেন্স এখনো পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। পরিশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পুতিন যুদ্ধ থামাতে না চাইলেও সঠিক কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে পিছু হটতে বাধ্য করা সম্ভব।