ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিভিন্ন এলাকায় আ.লীগ কার্যালয় খোলার সাহস কোথায় পেল : মঞ্জুর হবিগঞ্জে স্লোগান দিয়ে আ.লীগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সুপরিকল্পিতভাবে ইমরান খানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে অভিযোগ বোনের নামিবিয়াকে হারিয়ে সুপার এইটে পাকিস্তান শপথ নিয়েই দেবিদ্বারে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার ও আহত‌দের পাশে হাসনাত আব্দুল্লাহ রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে, রোজা শুরু বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর ট্রাক ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নেয়া যাবে না: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে তুরস্ক

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

আঙ্কারার কৌশলগত আলোচনায় তুরস্কের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি কখনোই পুরোপুরি অনুপস্থিত ছিল না, তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই বিতর্ক নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান দীর্ঘদিন ধরেই বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে ‘কাঠামোগতভাবে অন্যায়’ বলে সমালোচনা করে আসছেন। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের একচেটিয়া ক্ষমতার বিরুদ্ধে তার ‘বিশ্ব পাঁচের চেয়েও বড়’ স্লোগানটি এখন পারমাণবিক বৈষম্যের দিকে ইঙ্গিত করছে। আঙ্কারার দাবি, ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক ভাণ্ডারকে যখন বিশ্বশক্তিগুলো এড়িয়ে যায়, তখন অন্য দেশগুলোর ওপর কড়া নজরদারি এক ধরনের দ্বিমুখী নীতি। বিশেষ করে ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এরদোয়ান এই বৈষম্যকে আরও জোরালোভাবে সামনে এনেছেন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় যে ফাটল দেখা দিয়েছে, তা তুরস্ককে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ইরান যদি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তবে আঙ্কারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না; এমন একটি প্রচ্ছন্ন সংকেত তুর্কি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে। তুরস্কের এই অবস্থান মূলত একটি প্রতিরক্ষা কবজ তৈরির চেষ্টা। এই অঞ্চলে যেখানে আস্থার অভাব প্রকট এবং যুদ্ধের স্মৃতি সবসময় তাজা, সেখানে পারমাণবিক সক্ষমতাকে একটি চূড়ান্ত প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আঙ্কারা মনে করে, পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে বাইরের হস্তক্ষেপের ঝুঁকি কমে যায় এবং কৌশলগত দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা যায়।

তবে একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির পথ তুরস্কের জন্য খুব একটা সহজ নয়। যদিও রাশিয়ার সহযোগিতায় আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে তুরস্ক এই খাতে দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করছে, তবুও রাজনৈতিক ও আইনি বাধাগুলো বিশাল। তুরস্ক পারমাণবিক অস্ত্র অ-প্রসার চুক্তির (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী দেশ। ফলে সরাসরি কোনো অস্ত্র কর্মসূচি শুরু করলে দেশটির অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভয়াবহ ধস নামতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে তুরস্ক সম্ভবত সরাসরি বোমা তৈরির পথে না গিয়ে পারমাণবিক সুপ্তাবস্থা বজায় রাখার কৌশল নিতে পারে। এর অর্থ হলো, অস্ত্র তৈরির সব প্রযুক্তি ও সক্ষমতা হাতে রাখা, যাতে প্রয়োজন পড়লেই দ্রুততম সময়ে তা প্রস্তুত করা যায়।

এই দৌড়ে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সৌদি আরব ইরানের পাল্টা হিসেবে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রতিযোগিতার হিড়িক পড়ে যাবে। তুরস্ক যদি শেষ পর্যন্ত এই পথে হাঁটে, তবে সেটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং ইউরোপের নিরাপত্তা মানচিত্রকেও বদলে দেবে। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তুরস্কের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির কয়েক দশকের মিত্রতাকে সংকটে ফেলবে এবং আঙ্কারাকে পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত এক শক্তিতে পরিণত করবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বিভিন্ন এলাকায় আ.লীগ কার্যালয় খোলার সাহস কোথায় পেল : মঞ্জুর

পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে তুরস্ক

আপডেট সময় ০৩:২০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

আঙ্কারার কৌশলগত আলোচনায় তুরস্কের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি কখনোই পুরোপুরি অনুপস্থিত ছিল না, তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই বিতর্ক নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান দীর্ঘদিন ধরেই বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে ‘কাঠামোগতভাবে অন্যায়’ বলে সমালোচনা করে আসছেন। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের একচেটিয়া ক্ষমতার বিরুদ্ধে তার ‘বিশ্ব পাঁচের চেয়েও বড়’ স্লোগানটি এখন পারমাণবিক বৈষম্যের দিকে ইঙ্গিত করছে। আঙ্কারার দাবি, ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক ভাণ্ডারকে যখন বিশ্বশক্তিগুলো এড়িয়ে যায়, তখন অন্য দেশগুলোর ওপর কড়া নজরদারি এক ধরনের দ্বিমুখী নীতি। বিশেষ করে ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এরদোয়ান এই বৈষম্যকে আরও জোরালোভাবে সামনে এনেছেন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় যে ফাটল দেখা দিয়েছে, তা তুরস্ককে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ইরান যদি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তবে আঙ্কারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না; এমন একটি প্রচ্ছন্ন সংকেত তুর্কি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে। তুরস্কের এই অবস্থান মূলত একটি প্রতিরক্ষা কবজ তৈরির চেষ্টা। এই অঞ্চলে যেখানে আস্থার অভাব প্রকট এবং যুদ্ধের স্মৃতি সবসময় তাজা, সেখানে পারমাণবিক সক্ষমতাকে একটি চূড়ান্ত প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আঙ্কারা মনে করে, পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে বাইরের হস্তক্ষেপের ঝুঁকি কমে যায় এবং কৌশলগত দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা যায়।

তবে একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির পথ তুরস্কের জন্য খুব একটা সহজ নয়। যদিও রাশিয়ার সহযোগিতায় আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে তুরস্ক এই খাতে দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করছে, তবুও রাজনৈতিক ও আইনি বাধাগুলো বিশাল। তুরস্ক পারমাণবিক অস্ত্র অ-প্রসার চুক্তির (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী দেশ। ফলে সরাসরি কোনো অস্ত্র কর্মসূচি শুরু করলে দেশটির অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভয়াবহ ধস নামতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে তুরস্ক সম্ভবত সরাসরি বোমা তৈরির পথে না গিয়ে পারমাণবিক সুপ্তাবস্থা বজায় রাখার কৌশল নিতে পারে। এর অর্থ হলো, অস্ত্র তৈরির সব প্রযুক্তি ও সক্ষমতা হাতে রাখা, যাতে প্রয়োজন পড়লেই দ্রুততম সময়ে তা প্রস্তুত করা যায়।

এই দৌড়ে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সৌদি আরব ইরানের পাল্টা হিসেবে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রতিযোগিতার হিড়িক পড়ে যাবে। তুরস্ক যদি শেষ পর্যন্ত এই পথে হাঁটে, তবে সেটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং ইউরোপের নিরাপত্তা মানচিত্রকেও বদলে দেবে। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তুরস্কের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির কয়েক দশকের মিত্রতাকে সংকটে ফেলবে এবং আঙ্কারাকে পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত এক শক্তিতে পরিণত করবে।