ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় দরজায় তালা দিয়ে ছাত্রদল নেতার ঘরে আগুন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা চানন্দী ইউনিয়নে গভীর রাতে ঘরের দরজার বাইরে তালা ঝুলিয়ে এক ছাত্রদল নেতার বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরটি আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামালসহ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নলেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-নাট্য বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসিন আলী সুজনের গ্রামের বাড়িতে তার বাবা মো. বেলাল মিয়া বসবাস করতেন। তবে ঘটনার রাতে তিনি ঘরে উপস্থিত ছিলেন না।

অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত ঘরের দরজার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় দরজা খুলতে গিয়ে বাইরে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

আগুনে বসতঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়। তবে ঘরে কেউ না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

ক্ষতিগ্রস্ত ইয়াসিন আলী সুজন বলেন, আমার বাবা ঘরে না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি প্রকল্প বাজারে ভোট দেওয়া নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি তিনি প্রকাশ্যে ‘মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় ধারাবাহিকভাবে সহিংস ঘটনা ঘটছে। শান্ত পরিবেশ নষ্ট করে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আগুন সন্ত্রাস কোনো দলের জন্যই কাম্য নয়—এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

অন্যদিকে হাতিয়া উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক শামসুল তিব্রিজ জানান, বিষয়টি তিনি প্রতিবেদকের কাছ থেকে শুনেছেন। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নোয়াখালীর হাতিয়ায় দরজায় তালা দিয়ে ছাত্রদল নেতার ঘরে আগুন

আপডেট সময় ১১:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা চানন্দী ইউনিয়নে গভীর রাতে ঘরের দরজার বাইরে তালা ঝুলিয়ে এক ছাত্রদল নেতার বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরটি আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামালসহ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নলেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-নাট্য বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসিন আলী সুজনের গ্রামের বাড়িতে তার বাবা মো. বেলাল মিয়া বসবাস করতেন। তবে ঘটনার রাতে তিনি ঘরে উপস্থিত ছিলেন না।

অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত ঘরের দরজার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় দরজা খুলতে গিয়ে বাইরে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

আগুনে বসতঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়। তবে ঘরে কেউ না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

ক্ষতিগ্রস্ত ইয়াসিন আলী সুজন বলেন, আমার বাবা ঘরে না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি প্রকল্প বাজারে ভোট দেওয়া নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি তিনি প্রকাশ্যে ‘মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় ধারাবাহিকভাবে সহিংস ঘটনা ঘটছে। শান্ত পরিবেশ নষ্ট করে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আগুন সন্ত্রাস কোনো দলের জন্যই কাম্য নয়—এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

অন্যদিকে হাতিয়া উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক শামসুল তিব্রিজ জানান, বিষয়টি তিনি প্রতিবেদকের কাছ থেকে শুনেছেন। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।