ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান ইমান এনে কোনো লাভ নেই, এরা মুনাফিকি করে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট চাচ্ছে: মির্জা ফখরুল বাড়িভাড়া কত বাড়ানো যাবে, কতদিন পর–নির্ধারণ করে দিল ঢাকা উত্তর সিটি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা ‘ভারতের চাপে আইসিসি কোনো অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিলে মানবো না’:আসিফ নজরুল পদ্মা সেতুর দায় পরিশোধ করতে গিয়ে চালের দাম ২০ টাকা বেড়েছে: শেখ বশির উদ্দীন ক্ষমতায় গেলে দলীয় গণ্ডি পেরিয়ে যোগ্যদের মন্ত্রী বানাবে জামায়াত: তাহের চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা পিছিয়ে ২৬ জানুয়ারি আমার পক্ষে কাজ না করায় বিএনপির উপজেলা কমিটি বাতিল করা হয়েছে: নুর

লাস ভেগাসে কনসার্টে বন্দুক হামলার মধ্যেও স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ছবি!

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। ইলেক্ট্রিক গিটার হাতে মঞ্চ কাঁপিয়ে দিচ্ছেন গায়ক। সকলেই বুঁদ হয়ে আছেন। বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরে শরীরের হালকা দুলুনিতে পুরো পরিবেশ উপভোগ করছিলেন কিং লার্চ। এই অবস্থার মধ্যেও কানে এসেছিল বিকট শব্দটা। এমনকি লাগাতার সেই আওয়াজেও সম্বিৎ ফেরেনি লার্চের। ভেবেছিলেন কেউ পটকা ফাটাচ্ছে!

লার্চের বোধগম্য হচ্ছিল না এত রাতে কীভাবে কেউ এমনভাবে পটকা ফাটাতে পারে। সম্বিৎ ফিরেছে, যখন চারপাশের মানুষ ত্রাহি চিৎকার করতে শুরু করে। লার্চ বুঝতে পারেন বড় কোনো ধরনের বিপদ হয়েছে। এরপরই বান্ধবী এবং অন্য বন্ধুদের নিয়ে কোনোমতে হাতে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসেন লার্চ।

নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ফেসবুকে শেয়ারও করেন।
সেখানেই তিনি বান্ধবীর সঙ্গের ছবি পোস্ট করেন। যা বন্দুকবাজের হামলার কিছু সময় আগেই তোলা হয়েছিল।

কনসার্টে হামলাকারীর বন্দুকের নিশানা থেকে বাঁচতে লার্চ ও তাঁর বান্ধবী প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে পাশের একটি হোটেলের কাছে পৌঁছান। সেখানে কোনোমতে একটু ঢুকে পড়ে তা লক করে দেন লার্চ।

তিনি আরো জানিয়েছেন, হোটেল থেকে বের হতেও পারছিলেন না, কারণ পুলিশ চারিদিকের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে অন্য একটি রাস্তা দিয়ে বাড়ি পৌঁছান লার্চ এবং তার বান্ধবী।

টুইটারে করা পোস্টে তিনি জানান, জীবনে এমন ভয়ানক অভিজ্ঞতার কোনোদিন সম্মুখীন হননি তিনি। গুলিবিদ্ধ মানুষজন যেন ধসে পড়া বাড়ির মতো মাটিতে শুয়ে পড়ছিল বলেও টুইটারে জানিয়েছেন লার্চ। জীবনে কোনোদিন এত মৃতদেহ দেখেননি লার্চ। একটা সময় নাকি বুঝতেই পারছিলেন না তিনি এবং তাঁর বান্ধবী ও অন্য বন্ধুরা প্রাণে বাঁচবেন কি না।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের ম্যান্ডালে বে রিসর্টের খোলা চত্বরে আয়োজিত ওই কনসার্টের ওপর পাশের ক্যাসিনো ভবনের ৩২ তলা থেকে নির্বিচারে গুলি চালানোর ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দড়িয়েছে ৫৮ তে। এ ছাড়া এতে আহত হয়েছেন আরো পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় রবিবার মধ্যরাতে রুট নাইনটি ওয়ান হারভেস্ট কনসার্ট চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী আত্মহত্যা করেছে। যদিও আগে বলা হয়েছিল তাকে পুলিশই গুলি করে হত্যা করেছে।

এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক ইসলামী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

একজন হামলাকারীই এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর পর সে নিজেও আত্মঘাতী হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তার সঙ্গে গোটা দশেক অটোমেটিক অ্যাসল্ট রাইফেল ছিল বলে জানা গিয়েছে।

ম্যান্ডালে বে-তে তিন দিনব্যাপী মিউজিক ফেস্টিভ্যালের শেষ দিনে কনসার্ট জমে উঠেছিল। কনসার্টও তখন শেষের পথেই। আচমকা গুলির শব্দ ছাপিয়ে গেল কনসার্টের মিউজিককে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলি লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন অনেকেই। মূহূর্তের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যানডালে বে রিসর্টের নিজস্ব ভবনের আপার লেভেল বা ওপরের তলা (৩২ তলা) থেকেই এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকায় ছেয়ে ফেলে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা।

গুরুতর আহতদের তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে এতকিছুর মধ্যেই অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে গুলি চালিয়ে যেতে থাকে হামলাকারী।

লাস ভেগাসের শেরিফ জানিয়েছেন, ম্যানডালে বে রিসর্টের ক্যাসিনো ভবনের ৩২ তলার একটি ঘরে আততায়ী লুকিয়ে ছিল। তবে পুলিশ আসার আগেই সে আত্মঘাতী হয় বলে জানা গিয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছিল যে, পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে আততায়ীর।

পুলিশ জানিয়েছে, আততায়ীর নাম স্টিফেন প্যাডক। তার বয়স ৬৪ বছর। লাস ভেগাসের শেরিফ জোসেফ লোম্বার্দো বলেছেন, প্যাডক নামে ওই আততায়ীর হোটেলে অনেকগুলি আগ্নেয়াস্ত্র পেয়েছে পুলিশ। এই আততায়ীর সঙ্গে ৬২ বছর বয়সী একজন নারীও ছিলেন। তার নাম মারিলৌ ড্যানলি। তিনি প্যাডকের সঙ্গে থাকতেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাঁর খোঁজেই হন্যে হয়ে ঘুরছে পুলিশ। বলা হয়েছে, মহিলার উচ্চতা ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি ও ওজন ৫০ কেজি। দেখতে অনেকটা এশিয়ানদের মতো।

প্রসঙ্গত, এর চেয়ে ভয়ানক প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আর হয়নি। অরল্যান্ডো নাইট ক্লাবের হামলায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

লাস ভেগাসে কনসার্টে বন্দুক হামলার মধ্যেও স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ছবি!

আপডেট সময় ১০:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। ইলেক্ট্রিক গিটার হাতে মঞ্চ কাঁপিয়ে দিচ্ছেন গায়ক। সকলেই বুঁদ হয়ে আছেন। বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরে শরীরের হালকা দুলুনিতে পুরো পরিবেশ উপভোগ করছিলেন কিং লার্চ। এই অবস্থার মধ্যেও কানে এসেছিল বিকট শব্দটা। এমনকি লাগাতার সেই আওয়াজেও সম্বিৎ ফেরেনি লার্চের। ভেবেছিলেন কেউ পটকা ফাটাচ্ছে!

লার্চের বোধগম্য হচ্ছিল না এত রাতে কীভাবে কেউ এমনভাবে পটকা ফাটাতে পারে। সম্বিৎ ফিরেছে, যখন চারপাশের মানুষ ত্রাহি চিৎকার করতে শুরু করে। লার্চ বুঝতে পারেন বড় কোনো ধরনের বিপদ হয়েছে। এরপরই বান্ধবী এবং অন্য বন্ধুদের নিয়ে কোনোমতে হাতে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসেন লার্চ।

নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ফেসবুকে শেয়ারও করেন।
সেখানেই তিনি বান্ধবীর সঙ্গের ছবি পোস্ট করেন। যা বন্দুকবাজের হামলার কিছু সময় আগেই তোলা হয়েছিল।

কনসার্টে হামলাকারীর বন্দুকের নিশানা থেকে বাঁচতে লার্চ ও তাঁর বান্ধবী প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে পাশের একটি হোটেলের কাছে পৌঁছান। সেখানে কোনোমতে একটু ঢুকে পড়ে তা লক করে দেন লার্চ।

তিনি আরো জানিয়েছেন, হোটেল থেকে বের হতেও পারছিলেন না, কারণ পুলিশ চারিদিকের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে অন্য একটি রাস্তা দিয়ে বাড়ি পৌঁছান লার্চ এবং তার বান্ধবী।

টুইটারে করা পোস্টে তিনি জানান, জীবনে এমন ভয়ানক অভিজ্ঞতার কোনোদিন সম্মুখীন হননি তিনি। গুলিবিদ্ধ মানুষজন যেন ধসে পড়া বাড়ির মতো মাটিতে শুয়ে পড়ছিল বলেও টুইটারে জানিয়েছেন লার্চ। জীবনে কোনোদিন এত মৃতদেহ দেখেননি লার্চ। একটা সময় নাকি বুঝতেই পারছিলেন না তিনি এবং তাঁর বান্ধবী ও অন্য বন্ধুরা প্রাণে বাঁচবেন কি না।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের ম্যান্ডালে বে রিসর্টের খোলা চত্বরে আয়োজিত ওই কনসার্টের ওপর পাশের ক্যাসিনো ভবনের ৩২ তলা থেকে নির্বিচারে গুলি চালানোর ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দড়িয়েছে ৫৮ তে। এ ছাড়া এতে আহত হয়েছেন আরো পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় রবিবার মধ্যরাতে রুট নাইনটি ওয়ান হারভেস্ট কনসার্ট চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী আত্মহত্যা করেছে। যদিও আগে বলা হয়েছিল তাকে পুলিশই গুলি করে হত্যা করেছে।

এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক ইসলামী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

একজন হামলাকারীই এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর পর সে নিজেও আত্মঘাতী হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তার সঙ্গে গোটা দশেক অটোমেটিক অ্যাসল্ট রাইফেল ছিল বলে জানা গিয়েছে।

ম্যান্ডালে বে-তে তিন দিনব্যাপী মিউজিক ফেস্টিভ্যালের শেষ দিনে কনসার্ট জমে উঠেছিল। কনসার্টও তখন শেষের পথেই। আচমকা গুলির শব্দ ছাপিয়ে গেল কনসার্টের মিউজিককে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলি লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন অনেকেই। মূহূর্তের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যানডালে বে রিসর্টের নিজস্ব ভবনের আপার লেভেল বা ওপরের তলা (৩২ তলা) থেকেই এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকায় ছেয়ে ফেলে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা।

গুরুতর আহতদের তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে এতকিছুর মধ্যেই অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে গুলি চালিয়ে যেতে থাকে হামলাকারী।

লাস ভেগাসের শেরিফ জানিয়েছেন, ম্যানডালে বে রিসর্টের ক্যাসিনো ভবনের ৩২ তলার একটি ঘরে আততায়ী লুকিয়ে ছিল। তবে পুলিশ আসার আগেই সে আত্মঘাতী হয় বলে জানা গিয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছিল যে, পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে আততায়ীর।

পুলিশ জানিয়েছে, আততায়ীর নাম স্টিফেন প্যাডক। তার বয়স ৬৪ বছর। লাস ভেগাসের শেরিফ জোসেফ লোম্বার্দো বলেছেন, প্যাডক নামে ওই আততায়ীর হোটেলে অনেকগুলি আগ্নেয়াস্ত্র পেয়েছে পুলিশ। এই আততায়ীর সঙ্গে ৬২ বছর বয়সী একজন নারীও ছিলেন। তার নাম মারিলৌ ড্যানলি। তিনি প্যাডকের সঙ্গে থাকতেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাঁর খোঁজেই হন্যে হয়ে ঘুরছে পুলিশ। বলা হয়েছে, মহিলার উচ্চতা ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি ও ওজন ৫০ কেজি। দেখতে অনেকটা এশিয়ানদের মতো।

প্রসঙ্গত, এর চেয়ে ভয়ানক প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আর হয়নি। অরল্যান্ডো নাইট ক্লাবের হামলায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।