অাকাশ নিউজ ডেস্ক:
উত্তর কোরিয়ার একটি রকেট ঘাঁটি থেকে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের গোপন এই ঘাঁটিতে কেবলমাত্র আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম তৈরি করা হয়। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এমনটাই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের উত্তরে অবস্থিত সানুমদংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণা এবং উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র নাম-প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্র এ তথ্য দিয়েছে।
অবশ্য, কবে বা কোথায় এই সব ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে খবরে সে সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। কেবিএস ধারণা করছে, বাড়তি কোনো পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ত নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। আগামী মাসের ১০ তারিখে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। সে দিনে নতুন কোনো পরীক্ষা পিয়ংইয়ং চালাতে পারে বলে আশংকা করছে কেবিএস। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে উসকানি হিসেবে গণ্য করছে সিউল এবং ওয়াশিংটন।
উ: কোরিয়ার সাথে আলোচনা সময় নষ্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করার অর্থ হলো সময় নষ্ট করা। সে কারণে টিলারসনকে কর্মশক্তি অপচয় না করার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প। এক টুইট বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘নিজের কর্মশক্তি সঞ্চয় করো রেক্স, আমরা যা করার তা করব।’
শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন জানান, পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনার জন্য উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই দেশের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধ করুক। জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া গত বেশ কিছুদিন ধরে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।
তা ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য তার পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের অভিযুক্ত করে বলেছেন, তার প্রশাসন এই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটাবে না। রোববার রাতে এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তিনি উত্তর কোরিয়াকে ছাড় দিতে মোটেই ইচ্ছুক নন।
গত দুই দশক ধরে দেশটির উসকানিমূলক তৎপরতা উপেক্ষা করার নীতিতে কোনো কাজ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার একের পর এক পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির নেতা কিম জং-উনকে ‘রকেট ম্যান’ হিসেবে আখ্যাতি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি উত্তর কোরিয়াকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে ফেলারও হুমকি দেন। গত মাসেই দেশটি ক্ষুদ্রতম হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে। এই বোমা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর সংযুক্ত করা যাবে। তাদের এই পরীক্ষা সফল হয়েছে বলেও দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।
এই প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন সফরে গিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন টিলারসন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে আলোচনার এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন নাও হতে পারে। তবে ট্রাম্প এমন মন্তব্য কেন করেছেন বা কী অর্থে বলেছেন সে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি ট্রাম্প। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মন্তব্যের বিপরীতের ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ট্রাম্পের মন্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা গেছে।
গত অগাস্ট মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি মোকাবেলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী দুই দেশের উত্তেজনা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেন এই বলে যে, কূটনৈতিক পদক্ষেপ সফল হতে চলেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























