ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

বাবার পরিচয় খুঁজতে বাংলাদেশে পাকিস্তানি তরুণী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মৃত বাবার পরিচয় খুঁজতে বাংলাদেশে এসেছেন পাকিস্তানি এক তরুণী। তার নাম তাহরিম রিদা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণীর পৈতৃক বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ফাজিলের ঘাট এলাকায়।

ফেসবুকে ‘আমাদের ফেনী গ্রুপ’-এর কল্যাণে ওই তরুণী তার বাবার পরিবারের খোঁজ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ৫৭ মিনিটে পাকিস্তানি এই তরুণী তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে ‘আমাদের ফেনী গ্রুপ’-এ একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি সালাম দিয়ে উল্লেখ করেন- আমি এখানে আমার বাবার পরিবার খুঁজতে এসেছি। আমার বাবা ২০০৪ সালে পাকিস্তান এসে আমার মাকে বিয়ে করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ফেনী থেকে এসেছিলেন, তার নাম ছিল মুহাম্মদ কাসিম আজাদ, আমার দাদার নাম তফাজুল হক। আমি আমার বাবার পরিবার সম্পর্কে এর বেশি আর কিছুই জানি না।

গ্রুপে নিজের চাচার একটি ছবি দিয়ে তাহরিম বলেন, আবু সাদিক আমার বাবার বড়ভাই। যদি কেউ এই পরিবার সম্পর্কে কিছু জানেন, তবে তাদের সঙ্গে দেখা করা হবে খুবই আনন্দের।

স্ট্যাটাস দেওয়ার ২৩ মিনিটের মধ্যেই তাহরিমের বাবার পরিবারের সঙ্গে পরিচয় হয়। মেয়েটির বাবার বাড়ি দাগনভূঞার ফাজিলের ঘাটে। তার ফুফু ও ফুফাতো বোনের ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে তার।

তাহরিমের দাবি, কলেজে বা বাইরে গেলে তার বাবার পরিচয় জানতে অনেকেই বিরক্ত করেন। তার বাবা পাকিস্তান থাকাকালীন তার মাকে (মেহবুবা) বিয়ে করেন। পাকিস্তানে তার মাকে রেখে বাংলাদেশে আসলে তার বাবা অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপর তার পরিবারের সঙ্গে আর কোনো পরিচয় ঘটেনি।

‘আমাদের ফেনী গ্রুপ’ অ্যাডমিন ইমদাদুল হক জানান, তাহরিমের বাবা দেশে এসে তার মাকে চিঠি পাঠাতেন। ওই সব চিঠি থেকে ঠিকানা সংগ্রহ করে তাহরিম ফেনী শব্দটি পায়। পরে ফেনী লিখে গুগলে সার্চ করে জানতে পারেন এটি একটি জেলা। পরবর্তীতে ফেনী সার্চ করে আমাদের ফেসবুক গ্রুপটি পায়। এরপর তাহরিম ফেসবুকে ইংরেজিতে পোস্ট করেন। এরপর অনুবাদ করে বাংলায় পোস্ট দেয় অ্যাডমিন প্যানেল। পরে তাহরিমের বাবার পরিবারের কাছে বার্তা পৌঁছে যায়। বাবার পরিবারের সদস্যদের পেয়ে আবেগে আপ্লুত তাহরিম।

পিতৃপরিচয় পেয়ে তাহরিম রিদা বলেন, ফেনীর মানুষকে কী বলে ধন্যবাদ দেব তা বলার ভাষা আমার নেই। আমাকে যারা খুঁজে পেতে সহায়তা করেছেন সবাইকে আল্লাহ নেক হায়াত দান করুক। খুব শিগগিরই আপনাদের (সাংবাদিক) সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

দাগনভূঞা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন স্বপন জানান, পাকিস্তানি এক তরুণী এসেছেন বলে তিনি লোকমুখে শুনেছেন। মেয়েটির বাবার বাড়ি তার ইউনিয়নে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

বাবার পরিচয় খুঁজতে বাংলাদেশে পাকিস্তানি তরুণী

আপডেট সময় ১০:৫৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মৃত বাবার পরিচয় খুঁজতে বাংলাদেশে এসেছেন পাকিস্তানি এক তরুণী। তার নাম তাহরিম রিদা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণীর পৈতৃক বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ফাজিলের ঘাট এলাকায়।

ফেসবুকে ‘আমাদের ফেনী গ্রুপ’-এর কল্যাণে ওই তরুণী তার বাবার পরিবারের খোঁজ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ৫৭ মিনিটে পাকিস্তানি এই তরুণী তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে ‘আমাদের ফেনী গ্রুপ’-এ একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি সালাম দিয়ে উল্লেখ করেন- আমি এখানে আমার বাবার পরিবার খুঁজতে এসেছি। আমার বাবা ২০০৪ সালে পাকিস্তান এসে আমার মাকে বিয়ে করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ফেনী থেকে এসেছিলেন, তার নাম ছিল মুহাম্মদ কাসিম আজাদ, আমার দাদার নাম তফাজুল হক। আমি আমার বাবার পরিবার সম্পর্কে এর বেশি আর কিছুই জানি না।

গ্রুপে নিজের চাচার একটি ছবি দিয়ে তাহরিম বলেন, আবু সাদিক আমার বাবার বড়ভাই। যদি কেউ এই পরিবার সম্পর্কে কিছু জানেন, তবে তাদের সঙ্গে দেখা করা হবে খুবই আনন্দের।

স্ট্যাটাস দেওয়ার ২৩ মিনিটের মধ্যেই তাহরিমের বাবার পরিবারের সঙ্গে পরিচয় হয়। মেয়েটির বাবার বাড়ি দাগনভূঞার ফাজিলের ঘাটে। তার ফুফু ও ফুফাতো বোনের ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে তার।

তাহরিমের দাবি, কলেজে বা বাইরে গেলে তার বাবার পরিচয় জানতে অনেকেই বিরক্ত করেন। তার বাবা পাকিস্তান থাকাকালীন তার মাকে (মেহবুবা) বিয়ে করেন। পাকিস্তানে তার মাকে রেখে বাংলাদেশে আসলে তার বাবা অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপর তার পরিবারের সঙ্গে আর কোনো পরিচয় ঘটেনি।

‘আমাদের ফেনী গ্রুপ’ অ্যাডমিন ইমদাদুল হক জানান, তাহরিমের বাবা দেশে এসে তার মাকে চিঠি পাঠাতেন। ওই সব চিঠি থেকে ঠিকানা সংগ্রহ করে তাহরিম ফেনী শব্দটি পায়। পরে ফেনী লিখে গুগলে সার্চ করে জানতে পারেন এটি একটি জেলা। পরবর্তীতে ফেনী সার্চ করে আমাদের ফেসবুক গ্রুপটি পায়। এরপর তাহরিম ফেসবুকে ইংরেজিতে পোস্ট করেন। এরপর অনুবাদ করে বাংলায় পোস্ট দেয় অ্যাডমিন প্যানেল। পরে তাহরিমের বাবার পরিবারের কাছে বার্তা পৌঁছে যায়। বাবার পরিবারের সদস্যদের পেয়ে আবেগে আপ্লুত তাহরিম।

পিতৃপরিচয় পেয়ে তাহরিম রিদা বলেন, ফেনীর মানুষকে কী বলে ধন্যবাদ দেব তা বলার ভাষা আমার নেই। আমাকে যারা খুঁজে পেতে সহায়তা করেছেন সবাইকে আল্লাহ নেক হায়াত দান করুক। খুব শিগগিরই আপনাদের (সাংবাদিক) সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

দাগনভূঞা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন স্বপন জানান, পাকিস্তানি এক তরুণী এসেছেন বলে তিনি লোকমুখে শুনেছেন। মেয়েটির বাবার বাড়ি তার ইউনিয়নে।