ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস আবারও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, মানুষের ভোগান্তি ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা যেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেন’:নজরুল ইসলাম নির্বাচনে কোনও ব্যাঘাত ঘটলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বিঘ্নিত হবে: শামসুজ্জামান দুদু নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা হতে পারে: রয়টার্স আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করলে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব: প্রধান উপদেষ্টা নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত

কোচিং সেন্টারে ছাত্রকে নির্মমভাবে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বরগুনার তালতলীতে কোচিং সেন্টারে বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টুমি করায় এক স্কুলছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়েছেন প্রাইভেট শিক্ষক। ছাত্র পেটানোর ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রকে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

সম্প্রতি উপজেলার লাউপাড়া বাজারে সাকসেস কোচিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। পিটুনিতে আহত স্কুলছাত্র আসাদ উপজেলার লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

জানা যায়, উপজেলার লাউপাড়া বাজারে সাকসেস কোচিং সেন্টার নামের একটি কোচিং সেন্টার খোলেন স্থানীয় ছগির হোসেন। যার সরকারি কোনো অনুমতি নেই। সেখানে ওই এলাকার লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির প্রায় দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রীদের টাকার বিনিময়ে প্রাইভেট পড়ানো হয়। এই কোচিং সেন্টারে আর কোনো শিক্ষক না থাকায় ছগির হোসেন একাই শিক্ষকতা করেন। মাঝে-মধ্যে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে তার নিচের অন্যান্য শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো হয়।

এই কোচিং সেন্টারে কয়েক দিন আগে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আসাদকে মারধর করা হয়। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায় ছাত্রকে বেত দিয়ে পেটানো হচ্ছে। ছাত্র আসাদ ওই শিক্ষককে হাতে-পায়ে ধরেও রক্ষা পাচ্ছে না।

ভিডিও ভাইরালের পরপরই সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে। আর একের পর এক ছাত্রছাত্রীরা নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খুলছে।

আহত স্কুলছাত্র আসাদ জানায়, আমার ক্লাসের এক বন্ধুর সঙ্গে দুষ্টুমি করার পর প্রাইভেট শিক্ষক ছগির স্যারের ভয়ে আমি তিন দিন কোচিং সেন্টারে যাইনি। তারপর প্রাইভেটের বড় ভাইদের দিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে একটি রুমে আটকানো হয়। এরপর ছগির স্যার ১০টি বেত নিয়ে আসেন। প্রায় আধাঘণ্টা যাবত আমাকে পেটাতে থাকেন। আমি তার হাতে-পায়ে ধরলেও আমাকে বেধড়ক মারধর করে। এই আধাঘণ্টায় ৭টি বেত ভেঙে ফেলেছেন। বেধড়ক মারধরের একপর্যায় আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। হুঁশ ফিরে এলে দেখি আমি একটি রুমে আটকানো আছি। জ্ঞান ফিরলে আমাকে আবারো মারধরের ভয় দেখানো হয়, যাতে এ বিষয়টি কাউকে না বলি। পরে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে আমাকে ওষুধ কিনে দেওয়া হয়। আমি স্যারের ভয়ে এতদিন মুখ খুলিনি, তারপর দেখি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি দেখে আমি নিজেও অবাক হয়ে গেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়- আমাদের কারণে-অকারণে এভাবেই নির্যাতন করা হয়। ছগির স্যারের ভয়ে আমরা মুখ খুলতে সাহস পাইনি।

সাকসেস কোচিং সেন্টারের মালিক ও শিক্ষক ছগির হোসেন বলেন, ওই ছাত্র দুষ্টুমি করার পর আমি বেত দিয়ে ৪০টি পিটান দিছি। সেটা কে বা কারা ভিডিও করেছে তা আমি দেখিনি। ভাই এ বিষয়ে আপনাদের (সাংবাদিক) নিউজ করার কোনো দরকার নেই। আপনাদের সঙ্গে তালতলী এসে দেখা করব।

লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, ওই কোচিং সেন্টারে আমার এই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আসাদকে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে। ভিডিওতে যেভাবে দেখেছি তাতে গরুকেও মানুষ এভাবে পেটায় না। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সাদিক তানভীর বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আমিও দেখেছি; খুবই দুঃখজনক বিষয়। পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধের ভিতরেও পড়ে। সেক্ষেত্রে থানায় ওই ছাত্রের অভিভাবকরা মামলা করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন কোচিং সেন্টার অবৈধ। ওই অভিযুক্ত শিক্ষক ছগিরের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি, পাশাপাশি নোটিশও করাব। বর্তমানে ওই শিক্ষক পলাতক আছেন। বের হলে ও কোচিং সেন্টার খোলা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস

কোচিং সেন্টারে ছাত্রকে নির্মমভাবে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল

আপডেট সময় ০৮:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বরগুনার তালতলীতে কোচিং সেন্টারে বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টুমি করায় এক স্কুলছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়েছেন প্রাইভেট শিক্ষক। ছাত্র পেটানোর ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রকে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

সম্প্রতি উপজেলার লাউপাড়া বাজারে সাকসেস কোচিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। পিটুনিতে আহত স্কুলছাত্র আসাদ উপজেলার লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

জানা যায়, উপজেলার লাউপাড়া বাজারে সাকসেস কোচিং সেন্টার নামের একটি কোচিং সেন্টার খোলেন স্থানীয় ছগির হোসেন। যার সরকারি কোনো অনুমতি নেই। সেখানে ওই এলাকার লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির প্রায় দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রীদের টাকার বিনিময়ে প্রাইভেট পড়ানো হয়। এই কোচিং সেন্টারে আর কোনো শিক্ষক না থাকায় ছগির হোসেন একাই শিক্ষকতা করেন। মাঝে-মধ্যে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে তার নিচের অন্যান্য শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো হয়।

এই কোচিং সেন্টারে কয়েক দিন আগে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আসাদকে মারধর করা হয়। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায় ছাত্রকে বেত দিয়ে পেটানো হচ্ছে। ছাত্র আসাদ ওই শিক্ষককে হাতে-পায়ে ধরেও রক্ষা পাচ্ছে না।

ভিডিও ভাইরালের পরপরই সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে। আর একের পর এক ছাত্রছাত্রীরা নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খুলছে।

আহত স্কুলছাত্র আসাদ জানায়, আমার ক্লাসের এক বন্ধুর সঙ্গে দুষ্টুমি করার পর প্রাইভেট শিক্ষক ছগির স্যারের ভয়ে আমি তিন দিন কোচিং সেন্টারে যাইনি। তারপর প্রাইভেটের বড় ভাইদের দিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে একটি রুমে আটকানো হয়। এরপর ছগির স্যার ১০টি বেত নিয়ে আসেন। প্রায় আধাঘণ্টা যাবত আমাকে পেটাতে থাকেন। আমি তার হাতে-পায়ে ধরলেও আমাকে বেধড়ক মারধর করে। এই আধাঘণ্টায় ৭টি বেত ভেঙে ফেলেছেন। বেধড়ক মারধরের একপর্যায় আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। হুঁশ ফিরে এলে দেখি আমি একটি রুমে আটকানো আছি। জ্ঞান ফিরলে আমাকে আবারো মারধরের ভয় দেখানো হয়, যাতে এ বিষয়টি কাউকে না বলি। পরে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে আমাকে ওষুধ কিনে দেওয়া হয়। আমি স্যারের ভয়ে এতদিন মুখ খুলিনি, তারপর দেখি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি দেখে আমি নিজেও অবাক হয়ে গেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়- আমাদের কারণে-অকারণে এভাবেই নির্যাতন করা হয়। ছগির স্যারের ভয়ে আমরা মুখ খুলতে সাহস পাইনি।

সাকসেস কোচিং সেন্টারের মালিক ও শিক্ষক ছগির হোসেন বলেন, ওই ছাত্র দুষ্টুমি করার পর আমি বেত দিয়ে ৪০টি পিটান দিছি। সেটা কে বা কারা ভিডিও করেছে তা আমি দেখিনি। ভাই এ বিষয়ে আপনাদের (সাংবাদিক) নিউজ করার কোনো দরকার নেই। আপনাদের সঙ্গে তালতলী এসে দেখা করব।

লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, ওই কোচিং সেন্টারে আমার এই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আসাদকে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে। ভিডিওতে যেভাবে দেখেছি তাতে গরুকেও মানুষ এভাবে পেটায় না। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সাদিক তানভীর বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আমিও দেখেছি; খুবই দুঃখজনক বিষয়। পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধের ভিতরেও পড়ে। সেক্ষেত্রে থানায় ওই ছাত্রের অভিভাবকরা মামলা করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন কোচিং সেন্টার অবৈধ। ওই অভিযুক্ত শিক্ষক ছগিরের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি, পাশাপাশি নোটিশও করাব। বর্তমানে ওই শিক্ষক পলাতক আছেন। বের হলে ও কোচিং সেন্টার খোলা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।