ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিও মারা গেছেন মেধানির্ভর আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী ইরানের একটি ‘বিচক্ষণ’ চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ আছে: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার রুমমেট যারা ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিল তারাই গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি

বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয়কর বিবরণী দিতেই হবে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বেসরকারি চাকরিজীবীদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। করযোগ্য আয় থাকুক, না-ই থাকুক; তাদের রিটার্ন জমা দিতেই হবে। গত অর্থবছরে ব্যবসা বা পেশার নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে নিয়োজিত বেতনভোগী কর্মীর কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

ফলে গতবার প্রায় সাত লাখের বেশি এমন বেসরকারি চাকরিজীবী টিআইএন নিয়েছিলেন। এ বছর তাদের রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই এবার অনেকেই প্রথমবারের মতো আয়কর বিবরণী জমা দেবেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সঠিকভাবে আয়কর বিবরণী জমা দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবে । যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ওই করদাতা, সেই প্রতিষ্ঠানের ডিসেম্বর মাসের বেতন বাবদ খরচের হিসাব-নিকাশ যাচাই-বাছাই করবেন কর কর্মকর্তারা।

এর জন্য প্রয়োজন হবে ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগের দলিল, যাতায়াত, বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন দলিলাদির অনুলিপি। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে যত আয়-ব্যয় করেছেন, সেই হিসাব আয়কর বিবরণীতে থাকতে হবে। রিটার্ন জমা দিতে হবে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে।

কীভাবে হিসাব করবেন

বেসরকারি চাকরিজীবীদের তাদের বেতন-ভাতা সবই আয়কর বিবরণীতে দেখাতে হবে। এ জন্য প্রতি মাসের শুধু মূল বেতনের টাকা অন্তর্ভুক্ত হবে। সেই হিসাবে, ১২ মাসের মূল বেতন এবং বোনাস যুক্ত করতে হবে। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, কোনো চাকরিজীবীর মূল বেতন যদি ২০ হাজার টাকা এবং দুটি উৎসব বোনাস পান, তবে ওই ব্যক্তির মূল বেতন, বোনাসসহ আয় দাঁড়াবে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত খরচে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কর রেয়াত মিলবে। ১২ মাসের মোট মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বা বছরে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়িভাড়া দিলে তাতে কর দিতে হবে না। এর বেশি হলে তা আয় হিসেবে যোগ হবে। একইভাবে বার্ষিক মোট মূল বেতনের ১০ শতাংশ বা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা খরচও করমুক্ত। আর বার্ষিক ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত যাতায়াত খরচেও কর দিতে হবে না। এই হলো নির্ধারণের হিসাব।

এবার দেখা যাক, বেসরকারি চাকরিজীবীরা হিসাব করা মোট করের ওপর কোনো রেয়াত পাবেন কি না। এখানেও কর রেয়াত মিলবে। সে ক্ষেত্রে ওই চাকরিজীবীকে আয়ের একটি অংশ বিনিয়োগ করে কর রেয়াত নিতে হবে। কোনো করদাতার আয় যদি ১০ লাখ টাকা হয়; তিনি তার আয়ের ২৫ শতাংশ বা আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে কর রেয়াত নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তিনি বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ বা সাড়ে ৩২ হাজার টাকা কর রেয়াত পাবেন। তবে তিনি যদি আড়াই লাখ টাকার কম বিনিয়োগ করেন, তবে প্রকৃত বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ কর রেয়াত পাবেন। সরকারি নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করলেই এই রেয়াত পাওয়া যাবে। ওই খাতগুলোর অন্যতম হলো সঞ্চয়পত্র, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, ট্রেজারি বন্ড ইত্যাদিতে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

শিশুদের জন্য বিশ্বের প্রথম ম্যালেরিয়ার ওষুধ অনুমোদন দিল ডব্লিউএইচও

বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয়কর বিবরণী দিতেই হবে

আপডেট সময় ০৩:২১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বেসরকারি চাকরিজীবীদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। করযোগ্য আয় থাকুক, না-ই থাকুক; তাদের রিটার্ন জমা দিতেই হবে। গত অর্থবছরে ব্যবসা বা পেশার নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে নিয়োজিত বেতনভোগী কর্মীর কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

ফলে গতবার প্রায় সাত লাখের বেশি এমন বেসরকারি চাকরিজীবী টিআইএন নিয়েছিলেন। এ বছর তাদের রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই এবার অনেকেই প্রথমবারের মতো আয়কর বিবরণী জমা দেবেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সঠিকভাবে আয়কর বিবরণী জমা দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবে । যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ওই করদাতা, সেই প্রতিষ্ঠানের ডিসেম্বর মাসের বেতন বাবদ খরচের হিসাব-নিকাশ যাচাই-বাছাই করবেন কর কর্মকর্তারা।

এর জন্য প্রয়োজন হবে ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগের দলিল, যাতায়াত, বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন দলিলাদির অনুলিপি। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে যত আয়-ব্যয় করেছেন, সেই হিসাব আয়কর বিবরণীতে থাকতে হবে। রিটার্ন জমা দিতে হবে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে।

কীভাবে হিসাব করবেন

বেসরকারি চাকরিজীবীদের তাদের বেতন-ভাতা সবই আয়কর বিবরণীতে দেখাতে হবে। এ জন্য প্রতি মাসের শুধু মূল বেতনের টাকা অন্তর্ভুক্ত হবে। সেই হিসাবে, ১২ মাসের মূল বেতন এবং বোনাস যুক্ত করতে হবে। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, কোনো চাকরিজীবীর মূল বেতন যদি ২০ হাজার টাকা এবং দুটি উৎসব বোনাস পান, তবে ওই ব্যক্তির মূল বেতন, বোনাসসহ আয় দাঁড়াবে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত খরচে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কর রেয়াত মিলবে। ১২ মাসের মোট মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বা বছরে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়িভাড়া দিলে তাতে কর দিতে হবে না। এর বেশি হলে তা আয় হিসেবে যোগ হবে। একইভাবে বার্ষিক মোট মূল বেতনের ১০ শতাংশ বা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা খরচও করমুক্ত। আর বার্ষিক ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত যাতায়াত খরচেও কর দিতে হবে না। এই হলো নির্ধারণের হিসাব।

এবার দেখা যাক, বেসরকারি চাকরিজীবীরা হিসাব করা মোট করের ওপর কোনো রেয়াত পাবেন কি না। এখানেও কর রেয়াত মিলবে। সে ক্ষেত্রে ওই চাকরিজীবীকে আয়ের একটি অংশ বিনিয়োগ করে কর রেয়াত নিতে হবে। কোনো করদাতার আয় যদি ১০ লাখ টাকা হয়; তিনি তার আয়ের ২৫ শতাংশ বা আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে কর রেয়াত নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তিনি বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ বা সাড়ে ৩২ হাজার টাকা কর রেয়াত পাবেন। তবে তিনি যদি আড়াই লাখ টাকার কম বিনিয়োগ করেন, তবে প্রকৃত বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ কর রেয়াত পাবেন। সরকারি নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করলেই এই রেয়াত পাওয়া যাবে। ওই খাতগুলোর অন্যতম হলো সঞ্চয়পত্র, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, ট্রেজারি বন্ড ইত্যাদিতে।