ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস রাজনৈতিক পরিবর্তনে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে : ড্যান মজিনা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বিএনপি : সালাহউদ্দিন ‘অনিবার্য কারণে’ জামায়াতসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার সংবাদ সম্মেলন স্থগিত যে দল ইসরাইলের টাকায় চলে সেই দলে আমি থাকতে পারি না: রেজা কিবরিয়া নির্বাচনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না, সবাই সহযোগিতা করলে শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার জামায়াতকে দেখব’,বক্তব্যের অন্তর্নিহিত গোমর ফাঁস করলেন হামিম গোপালগঞ্জে মা-বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা, দুই ছেলে গ্রেফতার আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, যে ভারতে ঝুঁকি আছে: আসিফ নজরুল বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু

১৫ বছরের অভিজ্ঞ রানীর সহায়তায় লঞ্চে সন্তান প্রসব প্রসূতির

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

চিকিৎসকের দেওয়া সময় অনুসারে আরও দিন আঠারো পরে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. হারিসের স্ত্রী ঝুমুর বেগমের। নিজ জন্মভূমিতে সন্তানেরও জন্ম হবে সে আশায় ঢাকা থেকে বরিশাল পানে ছুটছিলেন হারিস।

সঙ্গে স্ত্রী, মা ও অন্যান্য স্বজন। যাত্রা করেছিলেন এমভি আওলাদ-১০ লঞ্চে।

মাঝ নদীতে হঠাৎ প্রসব ব্যথা ওঠে ঝুমুরের। লঞ্চে মেডিকেল কিট থাকলেও কারও সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা তো নেই। তা ছাড়া লঞ্চ থামিয়ে যে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন, তাও সম্ভব না। তাই কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না হারিস। যে লঞ্চে যাচ্ছিলেন, তাতে কোনো চিকিৎসক-নার্স বা ধাত্রী আছেন, তাও জানেন না। এ অবস্থায় লঞ্চ স্টাফদের বুঝিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করেন হারিস।

লঞ্চের স্টাফরা এসে ঝুমুরকে একটি কেবিনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অবস্থা বেগতিক হওয়ায় ডেকের একটা অংশ খালি করে সেখানে তার প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। একদিকে ঝুমুরকে মায়ের কাছে রেখে স্বজন ও স্টাফদের নিয়ে লঞ্চের আনাচে-কানাচে খুঁজতে থাকেন কোনো চিকিৎসক বা নার্স কিংবা কোনো ধাত্রী আছেন কিনা। পেয়েও যান রানী বেগম (৬০) একজনকে।

১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রানী বেগমের মাধ্যমেই মাঝ নদীতে লঞ্চের ডেকে ছেলে সন্তান প্রসব করেন ঝুমুর। এ অবস্থায় সবার মনেই চিন্তার ধারা ছিল। কিন্তু সদ্য ভূমিষ্ঠের কান্নার শব্দ পেয়েই সকলেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন।

জানা গেছে, বরিশাল নগরের সাগরদী এলাকার বাসিন্দা রানী বেগম কিছুদিন আগে ঢাকায় মেয়ের বাড়ি বেড়াতে যান। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) রাতে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন। মাঝ রাতে ঝুমুরের প্রসব ব্যথার কথা জানার পরপরই ছুটে আসেন তার কাছে। পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন দ্রুতই সন্তান প্রসব করবেন ঝুমুর। পরে আরেক যাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সন্তান প্রসবের কাজে লেগে যান। এ সময় লঞ্চের স্টাফরা তাকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি দিয়ে সহায়তা করেন।

রানী বলেন, তিনি সন্তান প্রসবের কাজে ১৫ বছরের অভিজ্ঞ। বহু নারীর সন্তান প্রসবে সহায়তা করেছেন তিনি। কিন্তু মাঝ নদীতে গভীর রাতে কোনো নারীর সন্তান প্রসবে সহায়তার ঘটনা তার জীবনে প্রথম। সাহস নিয়ে তিনি ধাত্রীর কাজটি করেছেন। মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছেন চিন্তা করে তার আনন্দ হচ্ছে।

ঝুমুরের ভাই বেল্লাল জানান, রানী না থাকলে তার বোনের অবস্থা কী হতো, সেটা চিন্তা করতে পারছেন না। ভাগনের জন্মক্ষণে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় রানী পাশে ছিলেন বলেই সবকিছু ঠিক ভাবে হয়েছে। মা ও শিশু সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে। এ জন্য তিনি রানী ও লঞ্চ স্টাফদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা জানান, রানীর পাশাপাশি এমভি আওলাদ-১০ লঞ্চের স্টাফ ও অন্যান্য যাত্রীরাও অনেক সহায়তা করেছেন। তাদের বিষয়টি জানানোর পর যে যার নিজ নিজ জায়গা ছেড়ে দিয়ে প্রসবের স্থান করে দেন। নারী-পুরুষ সবাই মিলে যথেষ্ট সহায়তা করেছেন।

মো. হারিস তার নবাগত সন্তান নিয়ে ব্যাপক খুশি। স্ত্রী ও সন্তান সুস্থ থাকায় সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া জানিয়েছেন তিনি। রানী বেগমকেও জানিয়েছে অসংখ্য ধন্যবাদ। লঞ্চ স্টাফদের কাছেও চির কৃতজ্ঞ থাকবেন বলে জানান। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) নিজ বাসায় পৌঁছে এসব কথা জানান তিনি। হারিসের বড় ছেলে সাইমনও তার ফুটফুটে ছোট ভাইকে পেয়ে ব্যাপক খুশি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভয়ংকর অবস্থায় ফ্রান্সের অর্থনীতি

১৫ বছরের অভিজ্ঞ রানীর সহায়তায় লঞ্চে সন্তান প্রসব প্রসূতির

আপডেট সময় ১১:৫৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

চিকিৎসকের দেওয়া সময় অনুসারে আরও দিন আঠারো পরে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. হারিসের স্ত্রী ঝুমুর বেগমের। নিজ জন্মভূমিতে সন্তানেরও জন্ম হবে সে আশায় ঢাকা থেকে বরিশাল পানে ছুটছিলেন হারিস।

সঙ্গে স্ত্রী, মা ও অন্যান্য স্বজন। যাত্রা করেছিলেন এমভি আওলাদ-১০ লঞ্চে।

মাঝ নদীতে হঠাৎ প্রসব ব্যথা ওঠে ঝুমুরের। লঞ্চে মেডিকেল কিট থাকলেও কারও সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা তো নেই। তা ছাড়া লঞ্চ থামিয়ে যে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন, তাও সম্ভব না। তাই কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না হারিস। যে লঞ্চে যাচ্ছিলেন, তাতে কোনো চিকিৎসক-নার্স বা ধাত্রী আছেন, তাও জানেন না। এ অবস্থায় লঞ্চ স্টাফদের বুঝিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করেন হারিস।

লঞ্চের স্টাফরা এসে ঝুমুরকে একটি কেবিনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অবস্থা বেগতিক হওয়ায় ডেকের একটা অংশ খালি করে সেখানে তার প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। একদিকে ঝুমুরকে মায়ের কাছে রেখে স্বজন ও স্টাফদের নিয়ে লঞ্চের আনাচে-কানাচে খুঁজতে থাকেন কোনো চিকিৎসক বা নার্স কিংবা কোনো ধাত্রী আছেন কিনা। পেয়েও যান রানী বেগম (৬০) একজনকে।

১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রানী বেগমের মাধ্যমেই মাঝ নদীতে লঞ্চের ডেকে ছেলে সন্তান প্রসব করেন ঝুমুর। এ অবস্থায় সবার মনেই চিন্তার ধারা ছিল। কিন্তু সদ্য ভূমিষ্ঠের কান্নার শব্দ পেয়েই সকলেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন।

জানা গেছে, বরিশাল নগরের সাগরদী এলাকার বাসিন্দা রানী বেগম কিছুদিন আগে ঢাকায় মেয়ের বাড়ি বেড়াতে যান। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) রাতে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন। মাঝ রাতে ঝুমুরের প্রসব ব্যথার কথা জানার পরপরই ছুটে আসেন তার কাছে। পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন দ্রুতই সন্তান প্রসব করবেন ঝুমুর। পরে আরেক যাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সন্তান প্রসবের কাজে লেগে যান। এ সময় লঞ্চের স্টাফরা তাকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি দিয়ে সহায়তা করেন।

রানী বলেন, তিনি সন্তান প্রসবের কাজে ১৫ বছরের অভিজ্ঞ। বহু নারীর সন্তান প্রসবে সহায়তা করেছেন তিনি। কিন্তু মাঝ নদীতে গভীর রাতে কোনো নারীর সন্তান প্রসবে সহায়তার ঘটনা তার জীবনে প্রথম। সাহস নিয়ে তিনি ধাত্রীর কাজটি করেছেন। মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছেন চিন্তা করে তার আনন্দ হচ্ছে।

ঝুমুরের ভাই বেল্লাল জানান, রানী না থাকলে তার বোনের অবস্থা কী হতো, সেটা চিন্তা করতে পারছেন না। ভাগনের জন্মক্ষণে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় রানী পাশে ছিলেন বলেই সবকিছু ঠিক ভাবে হয়েছে। মা ও শিশু সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে। এ জন্য তিনি রানী ও লঞ্চ স্টাফদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা জানান, রানীর পাশাপাশি এমভি আওলাদ-১০ লঞ্চের স্টাফ ও অন্যান্য যাত্রীরাও অনেক সহায়তা করেছেন। তাদের বিষয়টি জানানোর পর যে যার নিজ নিজ জায়গা ছেড়ে দিয়ে প্রসবের স্থান করে দেন। নারী-পুরুষ সবাই মিলে যথেষ্ট সহায়তা করেছেন।

মো. হারিস তার নবাগত সন্তান নিয়ে ব্যাপক খুশি। স্ত্রী ও সন্তান সুস্থ থাকায় সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া জানিয়েছেন তিনি। রানী বেগমকেও জানিয়েছে অসংখ্য ধন্যবাদ। লঞ্চ স্টাফদের কাছেও চির কৃতজ্ঞ থাকবেন বলে জানান। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) নিজ বাসায় পৌঁছে এসব কথা জানান তিনি। হারিসের বড় ছেলে সাইমনও তার ফুটফুটে ছোট ভাইকে পেয়ে ব্যাপক খুশি।