ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্লট দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনা টিউলিপসহ ১৮ জনের মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনীর হাতে আটকের পর বিএনপি নেতার মৃত্যু ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধেই আইনসভার উচ্চকক্ষ : আলী রীয়াজ ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন, কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি জনগণই স্বৈরশাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করবে: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী

টাকার বিনিময়ে মানুষ খুনই তাদের পেশা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পলোয়ান পাড়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক একে ২২ রাইফেল ও ইতালির পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৭ আগস্ট) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হিরো গ্ল্যামার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- একই এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে কামরুল হাসান টিটু (৫৫), একই ইউনিয়নের রাজাপাড়ার মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে মো. নুরুল আবছার (৪৩) ও হাটহাজারী থানার কুয়াইশ বাদামতলের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে গিয়াস উদ্দিন বাবলু প্রকাশ সাদ্দাম।

বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নগরের ষোলশহরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম রাশিদুল হক জানান, রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক একে ২২ রাইফেল ২টি, ইতালি নির্মিত ৭.৬৫ পিস্তল ১টি, থ্রি নট থ্রি রাইফেল ১টি, একনলা বন্দুক ও ১টি এলজি ও বিপুল পরিমাণ বুলেটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার কামরুল হাসান টিটু হচ্ছে তাদের মাস্টারমাইন্ড। তার বাড়ি থেকেই বেশিরভাগ অস্ত্র পাওয়া গেছে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি দেওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে কামরুলের একটি কানেকশন রয়েছে। আরেকজন ব্যক্তি দুবাই থাকেন সেও তাদের বিভিন্ন বিষয়ে ইন্ধন দিচ্ছে। সন্ত্রাস কবলিত যে জনপদ এখন একটি শান্তির জনপদে পরিণত হয়েছে সেই শান্তির জনপদকে আবারও উত্তপ্ত করার একটি প্রচেষ্টা চলছে বলে আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। এই বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান ও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তাদের সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করে বের করা আনা হবে। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, গ্রেফতার কামরুল হাসান টিটুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তারা অস্ত্রগুলো দিয়ে বিভিন্ন সময় ডাকাতিও করত। ডাকাতির পাশাপাশি আর কী উদ্দেশ্য ছিল তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান একসময় সন্ত্রাসকবলিত এলাকা ছিল। বর্তমানে শান্তি এসেছে এলাকায়। এসব এলাকায় যারা ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা বিভিন্ন সময়ে জেলে ছিল। জামিন পেয়েছে কিছু আবার কিছু জেলে রয়েছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত এমন কিছু ব্যক্তি কিন্তু এখনও রয়ে গেছে। তাদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র পাওয়া গেছে। আরও অনেকের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কিছু বলা যাবে না। যারা জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য অস্ত্রগুলো আনা হয়েছিলো কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, রাজনৈতিকভাবে দেশে অস্থিতিশীলতার বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পায়নি। এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে রাউজান কেন্দ্রিক ঘটনা। আমরা সবকিছু বের করে ফেলবো। সেগুলো তদন্ত করে সব বের করা হবে। যে তথ্য পাওয়া যাবে সেগুলো পরে জানানো হবে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার কামরুল হাসান টিটু ও নুরুল আবছার বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্যাডার হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। টিটুর উত্থান এনডিপির ক্যাডার হিসেবে। একসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হকের সহযোগী হিসেবে কাজ করত। তখন থেকে এলাকায় হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির মতো দুর্ধর্ষ ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্প লুট ও পুলিশ হত্যা, চাঞ্চল্যকর শ্রীকান্ত রক্ষিত হত্যা ও নোয়াপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হত্যাসহ ৮টি খুনের মামলা, ১টি ডাকাতি, ও ৬টি অপহরণ মামলাসহ কমপক্ষে ১৭টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ডান পা হারানোর পর থেকেই ডাকাত ও ভাড়াটে খুনি চক্রের সংগঠক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। অন্যদিকে মো. নুরুল আবছার ও গিয়াসউদ্দিন বাবলু প্রকাশ সাদ্দাম মূলত কাজ করেন টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি ও ডাকাত হিসেবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্লট দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনা টিউলিপসহ ১৮ জনের মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি

টাকার বিনিময়ে মানুষ খুনই তাদের পেশা!

আপডেট সময় ০৮:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পলোয়ান পাড়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক একে ২২ রাইফেল ও ইতালির পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৭ আগস্ট) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হিরো গ্ল্যামার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- একই এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে কামরুল হাসান টিটু (৫৫), একই ইউনিয়নের রাজাপাড়ার মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে মো. নুরুল আবছার (৪৩) ও হাটহাজারী থানার কুয়াইশ বাদামতলের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে গিয়াস উদ্দিন বাবলু প্রকাশ সাদ্দাম।

বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নগরের ষোলশহরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম রাশিদুল হক জানান, রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক একে ২২ রাইফেল ২টি, ইতালি নির্মিত ৭.৬৫ পিস্তল ১টি, থ্রি নট থ্রি রাইফেল ১টি, একনলা বন্দুক ও ১টি এলজি ও বিপুল পরিমাণ বুলেটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার কামরুল হাসান টিটু হচ্ছে তাদের মাস্টারমাইন্ড। তার বাড়ি থেকেই বেশিরভাগ অস্ত্র পাওয়া গেছে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি দেওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে কামরুলের একটি কানেকশন রয়েছে। আরেকজন ব্যক্তি দুবাই থাকেন সেও তাদের বিভিন্ন বিষয়ে ইন্ধন দিচ্ছে। সন্ত্রাস কবলিত যে জনপদ এখন একটি শান্তির জনপদে পরিণত হয়েছে সেই শান্তির জনপদকে আবারও উত্তপ্ত করার একটি প্রচেষ্টা চলছে বলে আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। এই বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান ও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তাদের সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করে বের করা আনা হবে। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, গ্রেফতার কামরুল হাসান টিটুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তারা অস্ত্রগুলো দিয়ে বিভিন্ন সময় ডাকাতিও করত। ডাকাতির পাশাপাশি আর কী উদ্দেশ্য ছিল তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান একসময় সন্ত্রাসকবলিত এলাকা ছিল। বর্তমানে শান্তি এসেছে এলাকায়। এসব এলাকায় যারা ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা বিভিন্ন সময়ে জেলে ছিল। জামিন পেয়েছে কিছু আবার কিছু জেলে রয়েছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত এমন কিছু ব্যক্তি কিন্তু এখনও রয়ে গেছে। তাদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র পাওয়া গেছে। আরও অনেকের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কিছু বলা যাবে না। যারা জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য অস্ত্রগুলো আনা হয়েছিলো কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, রাজনৈতিকভাবে দেশে অস্থিতিশীলতার বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পায়নি। এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে রাউজান কেন্দ্রিক ঘটনা। আমরা সবকিছু বের করে ফেলবো। সেগুলো তদন্ত করে সব বের করা হবে। যে তথ্য পাওয়া যাবে সেগুলো পরে জানানো হবে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার কামরুল হাসান টিটু ও নুরুল আবছার বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্যাডার হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। টিটুর উত্থান এনডিপির ক্যাডার হিসেবে। একসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হকের সহযোগী হিসেবে কাজ করত। তখন থেকে এলাকায় হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির মতো দুর্ধর্ষ ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্প লুট ও পুলিশ হত্যা, চাঞ্চল্যকর শ্রীকান্ত রক্ষিত হত্যা ও নোয়াপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হত্যাসহ ৮টি খুনের মামলা, ১টি ডাকাতি, ও ৬টি অপহরণ মামলাসহ কমপক্ষে ১৭টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ডান পা হারানোর পর থেকেই ডাকাত ও ভাড়াটে খুনি চক্রের সংগঠক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। অন্যদিকে মো. নুরুল আবছার ও গিয়াসউদ্দিন বাবলু প্রকাশ সাদ্দাম মূলত কাজ করেন টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি ও ডাকাত হিসেবে।