ঢাকা ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

মানুষের কষ্ট হচ্ছে, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে ব্যবস্থা নিচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এ সময় তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ একটু ভালো থাকতে শুরু করে তখনই দেশে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত শুরু হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে যে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে সেগুলোকে সহনীয় পর্যায়ে কীভাবে নিয়ে আসতে পারি, সেই ব্যবস্থা আমাদের নেওয়া একান্তভাবে জরুরি বলে আমি মনে করি। কারণ মানুষের জন্যেই তো রাজনীতি করি। মানুষ কষ্ট পেলে আমারও কষ্ট হয়।’

সরকারপ্রধান মঙ্গলবার সকালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভার প্রারম্ভিক ভাষণে এসব কথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি যে তেলের দাম বাড়ানোর ফলে আমাদের নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে গেছে। মানুষের কষ্ট হচ্ছে। যারা নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা ফিক্সড ইনকাম যাদের, নির্দিষ্ট আয়ে যাদের চলতে হয় তাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। এটা আমরা উপলব্ধি করতে পারি।

সাধারণের কষ্ট লাঘবে ১৫ টাকা কেজিতে ৫০ লাখ মানুষকে চাল কেনার সুবিধার পাশাপাশি প্রায় এক কোটি ‘বিশেষ পারিবারিক কার্ড’ দিয়ে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে তার সরকারের উদ্যোগও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এ ধরনের আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে- যাতে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, সাধারণ মানুষগুলো কষ্ট না পায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমার মাঝে মাঝে এটাই শঙ্কা হয় বাংলাদেশকে আমরা উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, উন্নয়নশীল দেশ গড়ে তুললাম, জাতির পিতার রেখে যাওয়া স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। যখন এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় এবং একটু ভালোর দিকে যায় তখনই নানা রকম শঙ্কার সৃষ্টি হয়। তখন এটাকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য নানা রকম চক্রান্তও শুরু হয়ে যায়। কিন্তু ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ এই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।

সরকারপ্রধান বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে এবং তার পরে স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) এবং পাল্টা স্যাংশন। এর ফলে দেখা গেল আমাদের কেনার সামর্থ্য থাকতেও সবকিছু ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেল।

তিনি বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার পর যখন একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে একে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন, তখনই ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের আঘাতটা আসে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন দেশের অগ্রগতির পথে অগ্রযাত্রা শুরু হলো তখনই আঘাতটা আসলো।’

তিনি ’৭৪ এর দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গে বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন দেশের মাটি ও মানুষ ছাড়া সম্পদ বলতে আর কিছুই ছিল না, সেই ’৭২ বা ’৭৩ সালে কিন্তু দুর্ভিক্ষ হয়নি। হয়েছে ’৭৪ সালে। নগদ অর্থ দিয়ে কেনা খাদ্যের জাহাজ কিন্তু বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হয়নি।

দেশ গড়ার কাজে দিনরাত ব্যস্ত জাতির পিতাকে কোনো সময় যেমন দেওয়া হয়নি, তেমনি ‘দেশবিরোধীদের অপপ্রচার ছিল তুঙ্গে’ এমন অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নানা ধরনের প্রচারণা ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকেও হত্যা করা শুরু করা হয়। পাবনা ও খুলনায় আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে হত্যা করা হলো।’

জাতির পিতা স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদরদের বিচার শুরু করলেও অনেকেই তখন আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায় বলেও তিনি জানান এবং মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাতির পিতার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে একটি গণমুখি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূলের ক্ষমতায়নে তিনি সব মহকুমাকে জেলায় রূপান্তরিত করে জেলাভিত্তিক মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

দেশের উন্নয়নে জাতির পিতার দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নতি করাই ছিল তার লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা এ সময় আবারো নিজেদের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি ফেলে না রেখে সবাইকেই কিছু না কিছু উৎপাদন করতে হবে যেন, সাধারণ মানুষের জীবন কষ্টে না কাটে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মানুষের কষ্ট হচ্ছে, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে ব্যবস্থা নিচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এ সময় তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ একটু ভালো থাকতে শুরু করে তখনই দেশে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত শুরু হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে যে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে সেগুলোকে সহনীয় পর্যায়ে কীভাবে নিয়ে আসতে পারি, সেই ব্যবস্থা আমাদের নেওয়া একান্তভাবে জরুরি বলে আমি মনে করি। কারণ মানুষের জন্যেই তো রাজনীতি করি। মানুষ কষ্ট পেলে আমারও কষ্ট হয়।’

সরকারপ্রধান মঙ্গলবার সকালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভার প্রারম্ভিক ভাষণে এসব কথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি যে তেলের দাম বাড়ানোর ফলে আমাদের নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে গেছে। মানুষের কষ্ট হচ্ছে। যারা নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা ফিক্সড ইনকাম যাদের, নির্দিষ্ট আয়ে যাদের চলতে হয় তাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। এটা আমরা উপলব্ধি করতে পারি।

সাধারণের কষ্ট লাঘবে ১৫ টাকা কেজিতে ৫০ লাখ মানুষকে চাল কেনার সুবিধার পাশাপাশি প্রায় এক কোটি ‘বিশেষ পারিবারিক কার্ড’ দিয়ে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে তার সরকারের উদ্যোগও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এ ধরনের আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে- যাতে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, সাধারণ মানুষগুলো কষ্ট না পায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমার মাঝে মাঝে এটাই শঙ্কা হয় বাংলাদেশকে আমরা উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, উন্নয়নশীল দেশ গড়ে তুললাম, জাতির পিতার রেখে যাওয়া স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। যখন এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় এবং একটু ভালোর দিকে যায় তখনই নানা রকম শঙ্কার সৃষ্টি হয়। তখন এটাকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য নানা রকম চক্রান্তও শুরু হয়ে যায়। কিন্তু ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ এই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।

সরকারপ্রধান বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে এবং তার পরে স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) এবং পাল্টা স্যাংশন। এর ফলে দেখা গেল আমাদের কেনার সামর্থ্য থাকতেও সবকিছু ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেল।

তিনি বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার পর যখন একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে একে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন, তখনই ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের আঘাতটা আসে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন দেশের অগ্রগতির পথে অগ্রযাত্রা শুরু হলো তখনই আঘাতটা আসলো।’

তিনি ’৭৪ এর দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গে বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন দেশের মাটি ও মানুষ ছাড়া সম্পদ বলতে আর কিছুই ছিল না, সেই ’৭২ বা ’৭৩ সালে কিন্তু দুর্ভিক্ষ হয়নি। হয়েছে ’৭৪ সালে। নগদ অর্থ দিয়ে কেনা খাদ্যের জাহাজ কিন্তু বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হয়নি।

দেশ গড়ার কাজে দিনরাত ব্যস্ত জাতির পিতাকে কোনো সময় যেমন দেওয়া হয়নি, তেমনি ‘দেশবিরোধীদের অপপ্রচার ছিল তুঙ্গে’ এমন অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নানা ধরনের প্রচারণা ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকেও হত্যা করা শুরু করা হয়। পাবনা ও খুলনায় আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে হত্যা করা হলো।’

জাতির পিতা স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদরদের বিচার শুরু করলেও অনেকেই তখন আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায় বলেও তিনি জানান এবং মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাতির পিতার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে একটি গণমুখি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূলের ক্ষমতায়নে তিনি সব মহকুমাকে জেলায় রূপান্তরিত করে জেলাভিত্তিক মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

দেশের উন্নয়নে জাতির পিতার দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নতি করাই ছিল তার লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা এ সময় আবারো নিজেদের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি ফেলে না রেখে সবাইকেই কিছু না কিছু উৎপাদন করতে হবে যেন, সাধারণ মানুষের জীবন কষ্টে না কাটে।