ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

মেয়েকে হত্যা করে পুঁতে রেখে নিজেই মামলার বাদী হন বাবা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রংপুরের পীরগাছায় মেয়েকে হত্যা করে বিদ্যুতের খুঁটির নিচে পুঁতে রেখে বাবা নিজেই মামলা করেন। মেয়ের অসামাজিক কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বাবা রফিকুল ইসলাম। সোমবার সন্ধ্যায় মেয়ে হত্যার বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন তিনি।

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই পীরগাছায় বিদ্যুতের খুঁটির মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত এক তরুণীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তালুক ঈশাদ নয়াটারি গ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি শুরুতে অজ্ঞাত পরিচয়ের হলেও পরে নাম পরিচয় শনাক্ত হয়।

নিহতের নাম লিপি বেগম (২৫)। তিনি একই উপজেলার অনন্তরাম বড়বাড়ী গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। নিহত লিপি ঢাকায় থাকতেন। মাঝে-মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। ঈদুল আজহার সময় ঢাকা থেকে একেবারে চলে আসেন। এরপর গত ২৫ জুলাই বাড়ি থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে একটি ক্ষেতে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির মাটি খুঁড়ে তার পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই তরুণীর বাবা রফিকুল ইসলাম লাশ শনাক্তের পর নিজে বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এরপর রংপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) আশরাফুল আলম পলাশের নেতৃত্ব শুরু হয় এই ক্লুলেস মামলার তদন্ত। তদন্তের ৭ দিনের মাথায় বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকার তথ্য। খুনি আর কেউ নন। খুনি তার তার জন্মদাতা পিতা রফিকুল ইসলাম। সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম পলাশ সোমবার মধ্য রাতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন নিয়ে তার ফেসবুক পেজে আবেগঘন একটি স্টাটাস দেন।

এএসপি আশরাফুল আলম পলাশ বলেন, মেয়ের অসামাজিক কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে খুন করে লাশ পুঁতে রাখেন বাবা রফিকুল। মেয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের পর অস্বাভাবিক জীবন শুরু করে। নেশা ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে গ্রামে অনেক সালিশ ও বিচার হয়। সর্বশেষ গত ঈদুল আজহায় মেয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে এলে রফিকুল জানতে পারে, মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা। এরপর দিশেহারা হয়ে গত ২২ জুলাই শুক্রবার রাত ১টার দিকে লিপিকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় পা দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেন। তারপর পাশের ধানখেতে পুঁতে রাখেন। কিন্তু দুদিন পর রফিকুল ভয় পান যে লাশ যদি কেউ দেখে ফেলেন, তাই সেই লাশ টেনে নিয়ে আরও দূরে গিয়ে পুঁতে রাখেন। মেয়ের অসামাজিক কাজে অতিষ্ঠ হয়ে এই কাজ করেছেন বলে আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বাবা। বিচারক সবকিছু শুনে রফিকুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মেয়েকে হত্যা করে পুঁতে রেখে নিজেই মামলার বাদী হন বাবা!

আপডেট সময় ০৬:২৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রংপুরের পীরগাছায় মেয়েকে হত্যা করে বিদ্যুতের খুঁটির নিচে পুঁতে রেখে বাবা নিজেই মামলা করেন। মেয়ের অসামাজিক কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বাবা রফিকুল ইসলাম। সোমবার সন্ধ্যায় মেয়ে হত্যার বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন তিনি।

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই পীরগাছায় বিদ্যুতের খুঁটির মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত এক তরুণীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তালুক ঈশাদ নয়াটারি গ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি শুরুতে অজ্ঞাত পরিচয়ের হলেও পরে নাম পরিচয় শনাক্ত হয়।

নিহতের নাম লিপি বেগম (২৫)। তিনি একই উপজেলার অনন্তরাম বড়বাড়ী গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। নিহত লিপি ঢাকায় থাকতেন। মাঝে-মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। ঈদুল আজহার সময় ঢাকা থেকে একেবারে চলে আসেন। এরপর গত ২৫ জুলাই বাড়ি থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে একটি ক্ষেতে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির মাটি খুঁড়ে তার পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই তরুণীর বাবা রফিকুল ইসলাম লাশ শনাক্তের পর নিজে বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এরপর রংপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) আশরাফুল আলম পলাশের নেতৃত্ব শুরু হয় এই ক্লুলেস মামলার তদন্ত। তদন্তের ৭ দিনের মাথায় বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকার তথ্য। খুনি আর কেউ নন। খুনি তার তার জন্মদাতা পিতা রফিকুল ইসলাম। সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম পলাশ সোমবার মধ্য রাতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন নিয়ে তার ফেসবুক পেজে আবেগঘন একটি স্টাটাস দেন।

এএসপি আশরাফুল আলম পলাশ বলেন, মেয়ের অসামাজিক কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে খুন করে লাশ পুঁতে রাখেন বাবা রফিকুল। মেয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের পর অস্বাভাবিক জীবন শুরু করে। নেশা ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে গ্রামে অনেক সালিশ ও বিচার হয়। সর্বশেষ গত ঈদুল আজহায় মেয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে এলে রফিকুল জানতে পারে, মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা। এরপর দিশেহারা হয়ে গত ২২ জুলাই শুক্রবার রাত ১টার দিকে লিপিকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় পা দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেন। তারপর পাশের ধানখেতে পুঁতে রাখেন। কিন্তু দুদিন পর রফিকুল ভয় পান যে লাশ যদি কেউ দেখে ফেলেন, তাই সেই লাশ টেনে নিয়ে আরও দূরে গিয়ে পুঁতে রাখেন। মেয়ের অসামাজিক কাজে অতিষ্ঠ হয়ে এই কাজ করেছেন বলে আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বাবা। বিচারক সবকিছু শুনে রফিকুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।