আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
জনগণ সরকারের পাশে আছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হায় হায় পার্টি হায় হায় করতেই থাকুক। আমরা আমাদের কাজ করে যাই। জনগণের ওপর আমাদের ভরসা আছে। জনগণ আমাদের পাশে আছে।
রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন ও জাতীয় মৎস্য পদক- ২০২২ প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলে আমাদের গেছেন কেউ আমাদের দাবায় রাখতে পারবে না। আমিও বলছি আমাদের কেউই দাবায় রাখতে পারবে না। শত বাধা অতিক্রম করে নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করেছি। বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি আমরাও পারি।
নিরাপদ পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মাছের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা মাছে ভাতে বাঙ্গালি। আমরা যেন এভাবেই থাকতে পারি। সবচেয়ে নিরাপদ পুষ্টি পাওয়া যায় মাছ থেকে। যেটা মাংস থেকে হয় না। মাছের যে আবাসস্থল অর্থাৎ অভয়ারণ্য তৈরি করা- এগুলোর দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। পানির প্রবাহটা ভালো থাকা, পানি যাতে দূষণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। আমাদের যে চাহিদা সে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি মাছ এখন উৎপাদন করতে পারি।
সবাইকে নিজ নিজ এলাকার জলাধারে মাছ চাষের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যার যার জলাধার আছে, যার যেখানে একটু জলাধার আছে, সেখানে আপনারা মাছের চাষ করেন।”
হাওর অঞ্চলে মৎস্য উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাওর, বাওর, খাল, বিল, বিভিন্ন জলাধার এত জায়গা আমাদের। যাদের এই ধরনের জলাধার আছে তারা যদি এই মৎস্য উৎপাদন করার দিকে একটু নজর দেন, শুধু মাছও না মাছের সাথে কাঁকড়া, শামুক আছে, ঝিনুক আছে সব কিছুই করা যায়। সেগুলো করতে পারলে আমাদের কোনো অভাব থাকবে না। রপ্তানিক্ষেত্রে আমরা নতুন নতুন পণ্য দিতে পারব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ায় এবং দক্ষিণ অঞ্চলে প্রায় প্রতিটি নদীর উপর সেতু করে দেওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা ‘উন্নত ও সহজ’ হয়েছে। সেসব অঞ্চলে এখন মাছ চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এ বিষয়ে আমি মনে করি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় আরো বেশি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। কারণ দক্ষিণ অঞ্চলেই এখন আরো একটু গুরুত্ব দিতে হবে।’
দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে জাতির পিতার নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সরকার প্রধান।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন,জাতির পিতা যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ গড়ে তুলেছিলেন। সমুদ্রসীমা আইন করে দিয়ে যান তিনি। জাতিসংঘ তখনও সমুদ্রসীমা আইন করেনি, জাতির পিতা করেছিলেন। পঁচাত্তরের পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মিলিটারি ডিক্টেটররা, সমুদ্রসীমায় যে আমাদের অধিকার আছে সেটা তারা জানত কি না তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমরা যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসি তখন খোঁজ-খবর নিয়ে সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার দাবি করি।
মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এ অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় মৎস্য পদক-২০২২’ বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক পদক তুলে দেন। তার আগে দেশের মৎস্যখাতের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বিষয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। আর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানস্থলে ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হক।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















