ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

বিএনপির মোশাররফকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করে গেজেট

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। তার নাম ১৯৭২ সালে ঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা গেজেটেও ছিল।

তবে নতুন আইন অনুয়ায়ী ‘বিশ্বজনমত গঠন’ ক্যাটাগরিতে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৭৭তম সভার আলোচ্যসূচি ১০.১২ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রবাসে বিশ্বজনমত গঠন গেজেট অনুযায়ী ড. মোশাররফ হোসেন এই স্বীকৃতি পেলেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অধিশাখা থেকে প্রকাশিত গেজেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার নাম আগেই গেজেটে ছিল। ক্যাটাগরি বদল করে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। নতুন করে যাচাই-বাছাই করে ক্যাটাগরি বদল করা হয়েছে। আগে সব একই গেজেটে ছিল। আমি প্রথম গেজেট থেকেই গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমার সনদও আছে। আমি নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা হইনি, আসলে ক্যাটাগরি বদল করার কারণে নতুন করে গেজেট প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, আমি ’৬৯ সাল থেকে ’৭৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনে ছিলাম। সেখান ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলাম। স্বাধীনতার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হয়েছে তখন থেকেই আমি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। তখন বিদেশে অবদান রাখা, মুজিবনগর সরকারে যারা অবদান রেখেছে, দেশে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, সব উপজেলা ওয়াইজ ভাগ করে ওই সময় তালিকা করেছিল। এখন আবার তারা এটাকে ক্যাটাগরি ভাগ করেছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১ অক্টোবর ১৯৪৬ সালে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা খন্দকার আশরাফ আলী ও মাতা হোসনে আরা।

তিনি ১৯৬২ সালে কুমিল্লার দাউদকান্দি হাইস্কুল থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে ইম্পেরিয়াল কলেজ (তৎকালীন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন) থেকে আরেকটি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে। ১৯৭৪ সালে ইম্পেরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিআইসি লাভ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ১৯৭১ সালে প্রবাসীদের সংগঠিত করেন এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব অনুষদে জুনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। পর্যায়ক্রমে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূ-তত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. মোশাররফ ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য। কুমিল্লা-২ আসন থেকে চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে স্বল্পমেয়াদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি চার দলীয় জোট সরকারের সময় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

বিএনপির মোশাররফকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করে গেজেট

আপডেট সময় ০৯:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। তার নাম ১৯৭২ সালে ঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা গেজেটেও ছিল।

তবে নতুন আইন অনুয়ায়ী ‘বিশ্বজনমত গঠন’ ক্যাটাগরিতে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৭৭তম সভার আলোচ্যসূচি ১০.১২ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রবাসে বিশ্বজনমত গঠন গেজেট অনুযায়ী ড. মোশাররফ হোসেন এই স্বীকৃতি পেলেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অধিশাখা থেকে প্রকাশিত গেজেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার নাম আগেই গেজেটে ছিল। ক্যাটাগরি বদল করে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। নতুন করে যাচাই-বাছাই করে ক্যাটাগরি বদল করা হয়েছে। আগে সব একই গেজেটে ছিল। আমি প্রথম গেজেট থেকেই গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমার সনদও আছে। আমি নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা হইনি, আসলে ক্যাটাগরি বদল করার কারণে নতুন করে গেজেট প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, আমি ’৬৯ সাল থেকে ’৭৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনে ছিলাম। সেখান ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলাম। স্বাধীনতার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হয়েছে তখন থেকেই আমি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। তখন বিদেশে অবদান রাখা, মুজিবনগর সরকারে যারা অবদান রেখেছে, দেশে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, সব উপজেলা ওয়াইজ ভাগ করে ওই সময় তালিকা করেছিল। এখন আবার তারা এটাকে ক্যাটাগরি ভাগ করেছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১ অক্টোবর ১৯৪৬ সালে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা খন্দকার আশরাফ আলী ও মাতা হোসনে আরা।

তিনি ১৯৬২ সালে কুমিল্লার দাউদকান্দি হাইস্কুল থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে ইম্পেরিয়াল কলেজ (তৎকালীন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন) থেকে আরেকটি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে। ১৯৭৪ সালে ইম্পেরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিআইসি লাভ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ১৯৭১ সালে প্রবাসীদের সংগঠিত করেন এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব অনুষদে জুনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। পর্যায়ক্রমে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূ-তত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. মোশাররফ ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য। কুমিল্লা-২ আসন থেকে চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে স্বল্পমেয়াদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি চার দলীয় জোট সরকারের সময় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন।